স্টাফ রিপোর্টার ঃ অবশেষে হলো প্রতীক্ষার অবসান। স্পেক্ট্রা কোম্পানীর পক্ষ থেকে গতরাত থেকে রিফিল করা শুরু হলো লিকুইড অক্সিজেন ট্যাকিটি। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের জন্য স্থাপিত ওই ট্যাংকি ছাড়াও এখন সেখানে দু’কোম্পানীর ১০ হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন দু’টি ট্যাংকি। একটি আগে থেকেই রয়েছে লিন্ডে কোম্পানীর এবং অপরটি সদ্য স্থাপিত স্পেক্ট্রা কোম্পানীর। এর মধ্যদিয়ে খুমেক হাসপাতালের করোনা রোগী ছাড়াও সাধারণ রোগীদেরও অক্সিজেন সংকটের অবসান হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে সে ক্ষেত্রে দু’টি কোম্পানীর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক দু’টি ট্যাংকি পরিপূর্ণ করে রাখতে হবে এমনটিও উল্লেখ করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা: মো: রবিউল হাসান বলেন, গতরাত সাড়ে ১২টায় স্পেক্ট্রা কোম্পানীর ট্যাংকিতে অক্সিজেন রিফিল করা হয়। এর ফলে এ হাসপাতালে ১০ হাজার লিটার করে দু’টি ট্যাংকি দিয়ে সেন্ট্রাল লাইনের মাধ্যমে রোগীদের অক্সিজেন সরবরাহ করা সম্ভব হবে। তাছাড়া কোন একটি ট্যাংকি কোন কারণে বন্ধ হলেও অন্যটি দিয়ে বিকল্প হিসেবে চালানো যাবে। সুতরাং রোগীদের আর হয়তো অক্সিজেন সংকটে ভুগতে হবে না বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রটি বলছে, ঢাকাস্থ বসুন্ধরার অস্থায়ী হাসপাতাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে স্পেক্ট্রা কোম্পানীর এ ট্যাংকিটি এনে খুমেক হাসপাতাল অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ফেলে রাখা হয়। এটি স্থাপনের জন্য এইচইডি থেকে ৯৭ লাখ টাকার প্রস্তাব দেয়া হয়। যেটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় মার্চ মাসে। পরে মন্ত্রণালয় থেকে আবারো সেটি পাঠানো হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। এভাবে কয়েক দফায় পত্র চালাচালির পর শেষ পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিজস্ব অর্থায়নে এটি স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হলে গত মাসের প্রথম দিকে স্থাপন কাজ শুরু হয়। সম্প্রতি ট্যাংকি বসানোর পাশাপাশি পাইপ লাইন সংযোগ দেয়া হয়। তবে এখনও চলছে পাশর্^বর্তী স্থানে ভ্যাকুম রুম স্থাপনের কাজ।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর(এইচইডি) খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী আশুতোষ কর্মকার বলেন, এইচইডির প্রধান কার্যালয়ের মাধ্যমে ট্যাংকিটি বসানো হয়। এজন্য সর্বমোট ৯৭ লাখ টাক খরচ হয়। এর মধ্যে ভ্যাকুম রুমের জন্যই লাগবে ৪০ লাখ টাকার মতো। বাকী টাকা প্লান্ট ও পাইপ লাইন স্থাপন বাবদ খরচ হয়। আগামী দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে ভ্যাকুম রুমের কাজ সম্পন্ন করে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইনকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেয়া যাবে বলেও তিনি জানান।
খুমেক হাসপাতাল এবং করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ ডা: দিলীপ কুমার কুন্ডু বলেন, নতুন এ অক্সিজেন লাইনের মাধ্যমে রোগীদেরকে নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এর ফলে এখন আর সিলিন্ডার অক্সিজেনের খুব বেশি প্রয়োজন হবে না। কেননা এখন ১০ হাজার লিটারের দু’টি সেন্ট্রাল অক্সিজেন ট্যাংক রয়েছে। যেহেতু এ ট্যাংকিতে যে অক্সিজেন থাকে তা’ লিকুইড ফর্মে থাকে, আর রোগীদের কাছে সরবরাহ করা হয় অক্সিজেন ফর্মে। অর্থাৎ এখানের এক লিটার লিকুইড অক্সিজেন মানে ৮৩৮ লিটার অক্সিজেন।
খুমেক হাসপাতালের করোনা প্রতিরোধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সার্বিক সমন্বয়কারী ও খুলন মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা: মো: মেহেদী নেওয়াজ বলেন, স্পেক্ট্রা কোম্পানীর এ ট্যাংকিটি বসানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান রয়েছে। কেননা তার নির্দেশেই বসুন্ধরার অস্থায়ী হাসপাতাল থেকে এটিকে খুলনায় আনা হয়। তবে শত চেষ্টার পরও যে ট্যাংকিটি বসানো এবং সর্বশেষ গতরাত থেকে লিকুইড অক্সিজেন রিফিল করা হয়েছে এজন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্টদের তিনি ধন্যবাদ জানান।
স্পেক্ট্রা কোম্পানীর খুলনা বিক্রয় কেন্দ্রের ইনচার্জ সজিব রায়হান বলেন, খুমেক হাসপাতালে এ ট্যাংকিটি বসানোর ফলে সিলিন্ডার অক্সিজেনর চাহিদা কমবে। এর ফলে অন্যান্য হাসপাতাল এবং প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলোতেও নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহ করা সম্ভব হবে।