নগরীতে করোনায় আরও একজন
এবং উপসর্গ নিয়ে দু’জনের মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনায় গতকাল আরও একজনের করোনায় মৃত্যু হয়েছে। করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বিকেল পাঁচটায় মৃত্যু হয় ইমাদ আলী(৮৫) নামের এক ব্যক্তির। তার বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার ফিলিপনগর এলাকায়। এছাড়া গতকাল খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা সাসপেকটেড আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন আরও দু’জন। এরা হলেন, রূপসা উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খান বজলুর রহমান(৬০) এবং নগরীর সদর থানাধীন মনিকা বেগম(৬৫)। তাদের দু’জনেরই নমুনা সংগ্রহ করে খুলনা মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে খুলনায় এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে ১০ জনের এবং উপসর্গ নিয়ে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা সাসপেকটেড আইসোলেশন ওয়ার্ড ও ফ্লু কর্ণারের মুখপাত্র এবং হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: মিজানুর রহমান বলেন, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানাধীন ফিলিপনগর এলাকার বাসিন্দা ইমাদ আলী(৮৫) ১৫ জুন রাত সোয়া একটায় করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে ভর্তি হন। গতকাল বিকেলে তার মৃত্যু হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তার লাশ নিতে কুষ্টিয়া থেকে একটি গাড়ি খুলনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।
এছাড়া খুমেক হাসপাতালের করোনা সাসপেকটেড আইসোলেশন ওয়ার্ডে রূপসার নৈহাটির খান বজলুর রহমান করোনার উপসর্গ নিয়ে গতকাল সকাল সাড়ে আটটায় ভর্তি হন। কিন্তু সকাল সাড়ে নয়টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তার নমুনা সংগ্রহ করে খুলনা মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। খুলনা সদর থানা এলাকার মনিকা বেগম(৬৫) গত মঙ্গলবার সকাল পৌনে দশটার দিকে সাসপেকটেড ওয়ার্ডে ভর্তি হন। গতকাল দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তারও নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
অপরদিকে, খুলনা মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে গতকাল সর্বোচ্চ সংখ্যক অর্থাৎ ১০২ জনের করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। গতকাল ২৮৪টি নমুনা পরীক্ষা করে ১০২জনের কোভিড-১৯ পজেটিভ হয় বলে খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা: শেখ সাদিয়া মনোয়ারা উষা জানিয়েছেন। এর মধ্যে শুধুমাত্র খুলনা মহানগরীসহ জেলারই ৯৭জন। বাকী পাঁচজনের মধ্যে দু’জন যশোরের, দু’জন বাগেরহাটের এবং একজন নড়াইলের।
খুলনা বিভাগীয় পরিচালক(স্বাস্থ্য) ডা: রাশেদা সুলতানা বলেন, ১৬ জুন পর্যন্ত খুলনা বিভাগে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৬০৮ জনে দাঁড়িয়েছে। ওই সময় পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলায় মৃত্যুবরণ করেছেন ২২জন। আর ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৪৭১জন।
অপর একটি সূত্র জানায়, গতকাল খুলনা পিসিআর ল্যাবে যাদের করোনা শনাক্ত হয় তারা হলেন, খুলনা জেনারেল হাসপাতালের সুগন্ধা সমাদ্দার(৪৮), বয়রা নূর নগরের অয়ন(৪), খুলনা জেনারেল হাসপাতালের ফাতেমা খাতুন(৫৬), শেখপাড়ার আলহাজ¦ আব্দুল গফুর(৬০), হোসাইনপুরের সুমন(৩৭), রেলওয়ে ষ্টেশনের মো: রফিকুল ইসলাম(৪৫), শিল্প পুলিশের ইকবাল(৭০), জেলা কারাগারের মো: ওমর আলী(৪৫), টুটপাড়ার শরিফুল(৫২), কাশেমনগরের সৈয়দ ইকবাল(৩৩), আব্দুল খালেক(৫৯), সোনাডাঙ্গার মো: সেলিম মল্লিক(৪০), দৌলতপুর রেলিগেটের রুমানা(৫৩), রূপসা খান মোহাম্মদপুরের ফরিদ আহমেদ(৪১), স্যার ইকবাল রোডের মোহাম্মদ এহতেশামুল হক(৩৬), হরিণটানার মিনারা খাতুন(৩৪), সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার আব্দুর রকিব(৩৩), তারের পুকুরের মো: আরিফুল হক মোল্লা(৩৮), সোনাডাঙ্গা হাফিজনগরের চৌধুরী মনিরুজ্জামান(৪০), গল্লামারী দরগা রোডের মো: আনিসুর রহমান(৩৬), নিরালা আবাসিক এলাকার এবিএম ফেরদৌস(৪১), দৌলতপুরের আলতাফ হোসাইন হাওলাদার(৪৫), শের-এ-বাংলা রোডের মো: আব্দুল গফফার(৭৫), থানার মোড়ের সুমন দাস(৩৮), বড় মির্জাপুরের মৌসুমী সাহা(৩৫), খালিশপুর ক্রিসেন্ট কলোনীর রবিউল ইসলাম(২৮), জোড়াগেটের আলী হোসাইন(৩২), খালিশপুরের সোহেল রানা(৩৮), দিঘলিয়ার মো: রাজু শেখ(৩২), গল্লামারীর সজিবুল ইসলাম(৩৭), বয়রার নারায়ন চন্দ্র মন্ডল(৫৮), যশোরের কেশবপুর উপজেলার মো: হারুন অর রশিদ(৫৮), নিরালার সাওয়াদ বিন সাখাওয়াত(৬), মোহাম্মদনগরের শাহিন(৩৮), হাজী মহসীন রোডের আলমগীর শিকদার(৪৫), বানিয়াখামারের মাহাবুব(২৪), ছোট বয়রার আব্দুর রহমান(৩৯), ডা: গাজী শফিকুর রহমান(৩২), বিকে রায় রোডের সুষ্মিতা বিনতে সালাম(৩২) ও মো: আমির হোসাইন(৩৮), খালিশপুরের সুমাইয়া(৬০), বঙ্গবাসীর আশিক এলাহী(২৮), বড় মির্জাপুরের মিস অনন্যা সেতু(২০), খালিশপুর হাউজিংয়ের মো: ইউসুফ আলী(৮৬), ক্রিসেন্ট রোডের শহিদুল ইসলাম(৩৩), বড় মির্জাপুরের অর্থি(১৪), সোনাডাঙ্গা আইডিয়াল কলেজ মোড়ের সানোয়ারা(৩২), দৌলতপুর পাবলার মিতা(৪০), পুলিশ কোয়ার্টারের শারমিন(৩০), মিস্ত্রিপাড়ার সঞ্জিত রায়(৪৩) মুসলমানপাড়ার শাহেলা আক্তার(৪৫), পৈপাড়ার বিকাশ মিত্র(৭৮) ও বিষ্ণু মিত্র(৭০), বাগমারার মো: সাইদ(৪৩), বিকে রায় রোডের ফারজানা পারভীন(৩৯), শের-এ-বাংলা রোডের সাকাওয়াত(৫৫), নড়াইলের কালিয়া উপজেলার বাকা গ্রামের মো: নূর আলম, হাজী ইসমাইল রোডের এসএম সাইদুর রহমান(৫০), ডুমুরিয়া উপজেলার বাদুরগাছার অনামিকা(৩০), আইডিয়াল কলেজের কাইউম হোসাইন, গল্লামারীর মারিয়া(১৬), বড় বয়রার সাইফুল(৪৫) ও রেশমা খাতুন(৪২), খুলনা মেডিকেল কলেজের মো: ওয়াহিদুজ্জামান(৪২) ও খুমেক হাসপাতালের মিতালী খান(৩১), যশোর রোডের মো: বেলাল আহমেদ চৌধুরী(৫৩), ডুমুরিয়ার আব্দুল ওয়াজেদ(৪০), খালিশপুর বঙ্গবাসী মোড়ের জান মোহাম্মদ, আড়ংঘাটা বকুলতলা মোড়ের জুথি(১৬), দৌলতপুরের কবির বটতলার সারাফাত সেন(৫০), খালিশপুর হাউজিং এস্টেটের শাওন(৩২), সোনাডাঙ্গা সবুজবাগের বিলকিস ইসলাম(৪৭) ও মইনুল ইসলাম(৫২), শেখপাড়ার আব্দুল গফফার(৫০), খালিশপুর লাল হাসপাতালের পেছনের জাহাঙ্গীর হোসাইন(৪৫), বিকে রায় রোডের উম্মে ইসলাম(২৯), বাগেরহাট সদর উপজেলার সৈয়দ আখিরুজ্জামান(৩৮) ও নিলুফা ইয়াসমিন(৩৫), খালিশপুর মুজগুন্নির রেহেনা পারভীন(৩৯), বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালের সাহানুর, জেলা কারাগারের শেখ শাহজালাল(২৪) ও মো: ইমরান(২৭), শেখপাড়ার মো: মাহাবুব(২৫), সোনাডাঙ্গার হাসান মামুন(৪৭), কেএমপির আনোয়ার(৪০), ক্রিসেন্ট বাজারের রাবেয়া বেগম(৫৯), জংশন রোডের রবিউল করিম(৪৫), সোনাডাঙ্গা নবীনগরের আব্দুল্লাহ আল মামুন(৩৬) ও এসএম আলম(৫৫), কেডিএ এভিনিউয়ের আকবর হোসাইন, কেএমপির ইকবাল হোসাইন(৩৫), বানরগাতী হাজী ইসমাইল রোডের সিদ্দিকুর রহমান(৪২) ও খাদিজা বেগম(৬০), গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরিয়াম বেগম(৪০) ও বাবুল শেখ(৪২), পাইকগাছার কপিলমুনির মাহমুদ আসলাম(৫২), কয়রার আমাদীর মারজান ঢালী(৭৫) এবং সোনাডাঙ্গা মডেল থানা অফিসার্স কোয়ার্টারের মমতাজ রেহেনা(৩৬)।