স্টাফ রিপোর্টার ঃ শনাক্ত ও মৃত্যু উভয়ই কমেছে খুলনায়। খুলনা জেলার পাশাপাশি বিভাগে বিগত ২৪ ঘন্টায় মৃত্যু হয়েছে ৪৬ জনের আর শনাক্ত হয়েছে ৭৭২জনের। এর আগে শুক্রবার বিভাগে সর্বোচ্চ ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সব মিলিয়ে বিভাগে এখন মোট মৃত্যু দেড় হাজার ছাড়িয়েছে।
গতকাল শনিবার সকালে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক রাশেদা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে কুষ্টিয়া জেলায়। বাকিদের মধ্যে খুলনায় ১০ জন, যশোরে ১০ জন, ঝিনাইদহে ৪ জন, মেহেরপুরে ও নড়াইলে দু’জন করে মারা গেছেন।
করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে গতকাল শনিবার সকাল পর্যন্ত বিভাগের ১০টি জেলায় মোট শনাক্ত হয়েছে ৬৯ হাজার ৯৫৯ জন। আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন এক হাজার ৫৩৩ জন। এসময় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৫ হাজার ২৫২ জন।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের জেলাভিত্তিক করোনা সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৬১ জনের। এ পর্যন্ত জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৮ হাজার ৩৫৫ জনের। মারা গেছেন ৪০২ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১২ হাজার ৪৬৬ জন।
বাগেরহাটে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১২ জনের। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ৪ হাজার ৪২১ জনের। আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯৮ জন এবং সুস্থ হয়েছেন তিন হাজার ৩৭ জন।
সাতক্ষীরায় ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ৩৭ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ৪ হাজার ২২৩ জন এবং মারা গেছেন ৭৬ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩ হাজার ৪২ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় যশোরে নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ২৫১ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ হাজার ১৬৪ জন। মোট মারা গেছেন ২১২ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৯ হাজার ৯৫ জন।
২৪ ঘণ্টায় নড়াইলে নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ৩১ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ৩৪২ জনের। মোট মারা গেছেন ৬০ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৩২৬ জন।
মাগুরায় ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৪ জনের। মোট মারা গেছেন ৩৫ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৩৫৬ জন।
ঝিনাইদহে ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ৩১ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ৫ হাজার ৫১৩ জন। মোট মারা গেছেন ১৩২ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ৩৬৮ জন।
২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়ায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ১৭৬ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ১০ হাজার ৫৯ জনের। মোট মারা গেছেন ৩২৮ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৬ হাজার ৫১৮ জন।
চুয়াডাঙ্গায় ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ৭ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ৪ হাজার ৪০৬ জন। মোট মারা গেছেন ১১৫ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৪৫০ জন।
মেহেরপুরে নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ৪১ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৪৭২ জন। আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৭৫ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৫৯৪ জন।
তিন হাসপাতালে ২৪ ঘন্টায় সাতজনের মৃত্যু ঃ খুলনার তিনটি হাসপাতালে বিগত ২৪ ঘন্টায় সাতজনের মৃত্যু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল থেকে জানা গেছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের মুখপাত্র ডা: সুহাস রঞ্জন হালদার বলেন, বিগত ২৪ ঘন্টায় সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এরা হলেন, খুলনার ফুলতলার শামসুন্নাহার(৫০), বাগেরহাট সদরের রওশন আরা(৬৫) এবং নড়াইলের লোহাগড়ার মো: মুজিবর(৬৫)।
খুলনা জেনারেল হাসপাতালের মুখপাত্র ডা: কাজী আবু রাশেদ বলেন, সেখানে গতকাল সকাল পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘন্টায় একজনের মৃত্যু হয়। তার নাম হাসানুজ্জামান(৭০) এবং তিনি খুলনার রূপসার নৈহাটি এলাকার বাসিন্দা।
এছাড়া গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা: গাজী মিজানুর রহমান বলেন, ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সকাল পর্যন্ত তিন জনের মৃত্যু হয়। এরা হলেন, খুলনার পাইকগাছার আহম্মদ আলী গোলদার(৭৫), দাকোপের পানখালর মোহাম্মদ আলী শেখ(৯০) এবং চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার অনন্ত কুমার বিশ^াস(৪০)।
তবে বিগত ২৪ ঘন্টায় শুধুমাত্র খুলনার শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে কারও মৃত্যু হয়নি বলে সেখানকার করোনা ইউনিটের মুখপাত্র ডা: প্রকাশ চন্দ্র দেবনাথ জানিয়েছেন।
খুমেক ল্যাবে একদিনে ১৯০ শনাক্ত ঃ খুলনা মেডিকেল কলেজের আরটি পিসিআর ল্যাবে গতকাল শনিবার ৩৭৬টি নমুনা পরীক্ষার পর ১৯০ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে বলে খুমেক’র উপাধ্যক্ষ ডা: মো: মেহেদী নেওয়াজ জানিয়েছেন। এর মধ্যে খুলনার ১৫৭জন, বাগেরহাটের ১৮জন, সাতক্ষীরার তিনজন, যশোরের আটজন, পিরোজপুরের একজন, গোপালগঞ্জের একজন, ফরিদপুরের একজন, ঝালোকাঠির একজন রয়েছেন। অবশ্য শনাক্ত হওয়া রোগীদের মধ্যে নয়জনের পুন:শনাক্ত হয়েছে বলেও ডা: মেহেদী নেওয়াজ জানিয়েছেন।
খুমেক করোনা ইউনিটে একদিনে ৫ জনের মৃত্যু ঃ এদিকে, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে বলেও হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়। এরা হলেন, নগরীর খানজাহান আলী থানাধীন নজির আহমেদ(৭০), রূপসার জাবুসার সুফিয়া বেগম(৪৫), কয়রার রাজিয়া বেগম(৫০), নগরীর সোনাডাঙ্গা থানাধীন আসাদুজ্জামান(৭৫) এবং নগরীর খানজাহান আলী রোডের বাসিন্দা এম এ খলিল(৮০)।
অপরদিকে, শুক্রবার সকাল সোয়া ছয়টার দিকে নগরীর দৌলতপুর থানাধীন পাবলা আঞ্জুমান রোড এলাকার বাসিন্দা সামছুর রহমানের স্ত্রী রোকেয়া বেগম(৬০) নামের এক রোগীর মৃত্যু হয় বলেও একটি সূত্র জানিয়েছে।