ঘাতক পুলিশের
এএসআই আটক

শরীফুল ইসলাম, কুষ্টিয়া থেকে ঃ কুষ্টিয়ায় দ্বিতীয় স্ত্রী, শিশু পুত্রসহ ৩ জনকে গুলি করে হত্যা করেছে পুলিশের এক এএসআই। রোববার বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া শহরের কাস্টমস মোড়ে এ হত্যাকান্ড ঘটানো হয়। এলাকাবাসী পুলিশের ওই সদস্যকে আটক করেছে।
নিহত তিনজন হলো আসমা খাতুন (২৬), তার পুত্র রবিন (৭) ও শাকিল হোসেন (২২)। আর আটক ঘাতক এএসআইয়ের নাম সৌমেন রায়। তিনি খুলনার ফুলতলা থানায় কর্মরত। ঘাতক সৌমেন রায়ের বাড়ি মাগুরা জেলায় বলে জানা গেছে।
আসমা ও শাকিলের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায়। এর মধ্যে আসমার বাড়ি বাগুলাট ইউনিয়নের নাতুড়িয়া গ্রামে। তার বাবার নাম আমির আলী। আর শাকিল বাড়ি পাশের চাপড়া ইউনিয়নের সাওতা গ্রামের মজিবার রহমানের ছেলে। সে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী লেখাপড়ার পাশাপাশি বিকাশে চাকুরি করতেন বলে পরিবার জানিয়েছে ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার বেলা ১১টার দিকে শাকিল নিহত নারী আসমা ও তার পুত্র রবিনকে সাথে নিয়ে কুষ্টিয়া শহরের কাস্টমস মোড়ে একটি বিকাশের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলো। এ সময় সেখানে সৌমেন আসে। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে পুলিশের এএসআই সৌমেন নিজের কাছে থাকা অস্ত্র বের করে মিশু রবিনকে পেছন থেকে গুলি করে। রবিন মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পর অন্য দুইজনকে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
এরপর ব্যবসায়ীরা একজোট হয়ে সৌমেনকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছুড়তে থাকে। এ সময় সে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে থাকে। পরে পুলিশ এসে তাকে ধরে একটি বাড়িতে আটকে রাখে। ক্ষুব্ধ জনতা এ সময় তাকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। পরে পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য এসে সৌমেনকে কড়া প্রহরায় নিয়ে যায় ঘটনাস্থল থেকে।
ঘটনার সময় এক প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় এক মুদি দোকানী জানান,‘১১টার দিকে হঠাৎ গুলির শব্ধ শুনতে পাই। এ সময় এক বাচ্চাকে একজন গুলি করছে দেখতে পাই। গুলি করার পর শিশুটি মাটিতে পড়ে যায়। এরপর আমরা হৈচৈ শুরু করলে আবার গুলি ছুঁড়তে শুরু করে।
মার্কেটের আরেক ব্যবসায়ী বলেন, একজনই তার হাতে থাকা অস্ত্র দিয়ে গুলি করছিলো। তিনজনকে গুলি করে সে। এরপর আমরা চারিদিক থেকে তাকে ঘিরে ধরি। পরে পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায়।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মার্কেটের সামনে প্রচুর রক্ত পড়ে আছে। শিশুটিকে সেখানে গুলি করে খুনি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,‘ঘটনার পর পরই আমরা এখানে আসি। তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। আর সে খুনি তাকে আমরা আটক করেছি। এ বিষয়ে তদন্ত করে পরে বিস্তারিত জানানো হবে। ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা হবে। তবে হত্যার প্রাথমিক কারণ তিনি জানাতে পারেননি।
নিহত শাকিলের বাড়ি সাঁওতা গিয়ে কথা হয় তার ভাবী লতা ও মা মারিয়াম খাতুন জানান, ‘আসমার সাথে শাকিলের চেনাজানা ছিলো। তাদের ভাই বোনের সম্পর্ক ছিলো। এর বাইরে কোন গোপন সম্পর্ক তাদের মধ্যে ছিল বলে আমরা জানি না। দেড় মাস আগে সৌমেন আমাদের বাড়িতে আসে। আসার পর সে জানায়, তার স্ত্রী আসমার সাথে শাকিলের গোপন সম্পর্ক রয়েছে। সে যেন তার সাথে মেলা মেশা না করে। এরপর সে চলে যায়।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার খাইরুল ইসলাম বলেন, অস্ত্র ও গুলিসহ সৌমেনকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।’
এদিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার তাপস কুমার সরকার বলেন,‘নিহতের কয়েকজনের মাথাসহ শরীরের অন্য স্থানে গুলি করা হয়েছে। খুব কাছ থেকে গুলি চালানো হয়। এদিকে হাসপাতালের মর্গে সবার মরদেহ রাখা হয়েছে।