* আজ বৈঠকে সিদ্ধান্ত, শনি বা রোববার থেকে রোগী ভর্তি

স্টাফ রিপোর্টার ঃ ডেঙ্গুর জন্য প্রস্তুতি নিতে যাচ্ছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ৪তর্থ তলার একটি কক্ষকে এজন্য পৃথক ওয়ার্ড করা হচ্ছে। যেখানে থাকবে ২০টি শয্যা। তবে প্রয়োজন হলে আরও বাড়ানো হবে বেডসংখ্যা।
ডেঙ্গু ওয়ার্ডের জন্য জনবল পদায়ন, মুখপাত্র নিয়োগসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে বৈঠক আহবান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা: মো: রবিউল হাসান। তিনি বলেন, আগামী শনি বা রোববার থেকে সেখানে হয়তো ডেঙ্গু রোগী ভর্তি এবং ইতোমধ্যে ভর্তি থাকাদের স্থানান্তর করা হতে পারে। যে সিদ্ধান্ত হবে আজকের বৈঠক থেকে। বর্তমানে খুমেক হাসপাতালে তিনজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন বলেও তিনি জানান। যার একজন আছেন মেডিসিন ওয়ার্ডে ও দু’জন শিশু ওয়ার্ডে। বাকী যাদের শনাক্ত হয়েছে তারা বাড়িতেই চিকিৎসাধীন।
এদিকে, খুমেক হাসপাতালে চার রোগীর নমুনা পরীক্ষার পর গতকাল বুধবার আরও একজনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে বলে হাসপাতালের প্যাথলজী বিভাগ থেকে জানা গেছে। ২৯ বছর বয়সী ওই রোগী একজন নারী। তিনি নগরীর নিরালার বাসিন্দা। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে তিনি বর্তমানে তার নিজ বাসায় অবস্থান করছেন বলেও জানা গেছে।
অপরদিকে, খুলনা বিভাগের ১০ জেলার মধ্যে বিগত ২৪ ঘন্টায় শুধুমাত্র যশোরে একজনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক দপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা: ফেরদৌসী আক্তার। তিনি বলেন, যশোরের ওই রোগী সেখানের একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তার নমুনা পরীক্ষার পর তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়েছে। তিনি বর্তমানে আশংকামুক্ত বলেও তিনি জানান।
সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট বা আইইডিসিআরের একটি সূত্র বলছে, করোনা ও ডেঙ্গু’র উপসর্গে কিছুটা মিল রয়েছে। বিশেষ করে আক্রান্ত হওয়ার শুরুর দিকে এটি পরিলক্ষিত হয়। এজন্য এ ধরনের রোগীদের জন্য আগে যেখানে শুধুমাত্র করোনা পরীক্ষার জন্য বলা হতো এখন করোনার পাশাপাশি ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্যও বলা হচ্ছে।
ডেঙ্গুজ¦র থেকে রক্ষা পেতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কালো পলিথিনের ব্যবহার থেকে বিরত থাকা, ঘরের পার্শ্ববর্তী ঝোপঝাঁড় কিংবা মশা লুকানোর স্থানগুলি পরিষ্কার রাখা, দিনের বেলা শিশুদের ঝোপঝাঁড় অথবা বাগানের পাশে যেতে না দেয়া, স্কুল-কলেজ ও বাড়ির আঙ্গিনা, ডোবা-পুকুর, নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখা, নির্দিষ্টস্থানে ময়লা আবর্জনা ফেলা, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি লম্বা হাতাযুক্ত জামা ও ট্রাউজার পরিধান করা উচিত। এছাড়া ঘুমানোর সময় মশারি টানিয়ে ঘুমানো এবং জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের মশারির ভিতরে রাখতে হবে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতেও পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।