* খুমেক ল্যাবে ২০ ও জেলায় ২৮ শতাংশ শনাক্ত, বিভাগে মৃত্যু ১

২৪ ঘন্টার করোনা পরিস্থিতি

স্টাফ রিপোর্টার ঃ বিগত এক সপ্তাহ আগেও খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল একশ’র নিচে। ১৬ জানুয়ারি সকাল পর্যন্ত হঠাৎ একলাফে বেড়ে দাঁড়ায় পৌনে দু’শ’র কাছাকাছি। অবশ্য একদিন কিছুটা কমলেও সে সংখ্যা ছিল দেড়শ’র উপরে। এরপর থেকে বিগত তিনদিনের চিত্রে দেখা যায়, বিভাগে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিনই প্রায় একশ’ করে বাড়ছে। সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলায় বিগত ২৪ ঘন্টায় করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৪২১জনে।
এ চিত্র যেমন খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক দপ্তরের তেমনি বিভাগের একমাত্র বড় করোনা হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আওতাধীন ২শ’ শয্যা বিশিষ্ট করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালেও গতকাল ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ২০জন। যা আগের দিনের তুলনায় ছয়জন বেশি। আবার আগের দিন যেখানে রেডজোনে অর্থাৎ করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল চারজন সেখানে গতকাল একজন কমে গিয়ে তিনজনে দাঁড়ালেও একজনকে সেখান থেকে আইসিইউতে নেয়া হয়। হাসপাতালের আরএমও ডা: সুহাস রঞ্জন হালদারের দেয়া তথ্য এমনটিই উল্লেখ করছে। এভাবেই প্রতিদিনই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে খুলনার করোনা পরিস্থিতি।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা: মো: মনজুরুল মুরশিদ বলেন, গতকাল শুক্রবার সকাল আটটা পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘন্টায় বিভাগের ১০ জেলায় মোট ৪২১জনের করোনা শনাক্ত হয়। এর মধ্যে খুলনারই রয়েছেন ১২৬জন। এছাড়া বাগেরহাটের চারজন, সাতক্ষীরার ১০জন, যশোরের ১২৯জন, নড়াইলের ১০জন, মাগুরার ২৯জন, ঝিনাইদহের ৪৬জন, কুষ্টিয়ার ৫৫জন এবং চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরের পাঁচজন করে রয়েছেন। আবার করোনা আক্রান্ত হয়ে বিগত ২৪ ঘন্টায় বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে। ওই একজন ঝিনাইদহের বাসিন্দা।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরের হিসাব মতে, গতকাল সকাল পর্র্যন্ত বিভাগের ১০ জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারীর সংখ্যা তিন হাজার ১৯৮জন আর করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ১৫ হাজার ৪০৯জন।
খুমেক ল্যাবে শনাক্ত ২০ শতাংশ ঃ প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে গিয়েছিল শনাক্তের হার। খুলনা মেডিকেল কলেজের আরটি পিসিআর ল্যাবে বিগত ৫/৬ মাস ধরে একেবারেই কম ছিল শনাক্ত। কিন্তু সেখানেও হঠাৎ বেড়ে গেছে হার। নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা খুব বেশি একটা না বাড়লেও বেড়েছে শনাক্তের সংখ্যা। গতকালকের হিসাব বলছে খুমেক ল্যাবে করোনা শনাক্ত ২০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। অর্থাৎ ২৮২টি নমুনা পরীক্ষার পর গতকাল সেখানে মোট ৫৮জনের করোনা শনাক্ত হয়। এর মধ্যে খুলনারই রয়েছেন ৪৬জন। বাকীদের মধ্যে বাগেরহাটের একজন, সাতক্ষীরার একজন, যশোরের তিনজন, নড়াইলের একজন, পিরোজপুরের একজন, গোপালগঞ্জের একজন, ঢাকার একজন, বরিশাালের একজন, ঝিনাইদহের একজন এবং দিনাজপুরের একজন রয়েছেন। এ তথ্য জানিয়েছেন খুমেক উপাধ্যক্ষ ডা: মো: মেহেদী নেওয়াজ।
জেলায় শনাক্তের হার ২৮ শতাংশ ঃ খুমেক পিসিআর ল্যাবে শনাক্তের হার ২০ শতাংশ থাকলেও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী জেলায় গতকাল করোনা শনাক্তের হার ছিল ২৮ শতাংশেরও বেশি। কেননা নগরীর কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালসহ উপজেলা হাসপাতালগুলো থেকে করা এন্টিজেন পরীক্ষাও এর সাথে যুক্ত হয়ে রিপোর্টটি তৈরি করা হয় বলে এমন চিত্র বলে সিভিল সার্জনের দপ্তর জানিয়েছে। খুলনার সিভিল সার্জন দপ্তরের গতকালকের হিসাব বলছে, বিগত ২৪ ঘন্টায় জেলায় মোট ৪৪৮টি নমুনা পরীক্ষার পর ১২৬জনের করোনা শনাক্ত হয়।