চাহিদার ১শতাংশও সরবরাহ হয় না সরকারিভাবে
রঞ্জু আহমদ ঃ খুলনার বাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে লিকুইড পেট্রোলিয়াম (এলপি) গ্যাসের সিলিন্ডার। একলাফে দেড়শ’ টাকা হারে বেড়েছে সিলিন্ডারের দাম। এ দাম আরও এক দফা বাড়ানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন পরিবেশকরা। গেল বছরে কয়েক দফা দাম বেড়ে বর্তমানে এক হাজার ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরকারিভাবে গ্যাস সিলিন্ডারের জোগান তলানীতে থাকায় বেসরকারি কোম্পানীগুলো ইচ্ছেমত দাম বাড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ভোক্তারা।
ব্যবসায়ীদের সূত্র জানিয়েছে, খুলনার খুচরা বাজারে এলপি গ্যাসের দাম বেড়েছে আরও এক দফা। সিলিন্ডার প্রতি এ গ্যাস বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০ টাকা দরে। কয়েকদিনের ব্যবধানে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যটির দাম ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে খুলনার সাধারণ মানুষের সাংসারিক ব্যয়ের পরিমাণ আরেক দফা বাড়ল। মূল্যবৃদ্ধিকে পূঁজি করে বছরের প্রথম থেকেই বাজারে এলপি গ্যাস নিয়ে নৈরাজ্য চলছে বলে মন্তব্য করেছেন ভোক্তারা।
এলপি গ্যাস বিক্রেতাদের একটি সূত্র জানিয়েছে, খুলনায় মাসে গ্যাস সিলিন্ডারের চাহিদা প্রায় ৪ লাখ। যার পুরোটাই সরবরাহ করে থাকে বেসরকারি কোম্পানীগুলো। পদ্মা মেঘনা যমুনা ডিপোর মাধ্যমে সরকারিভাবে সরবরাহ করা হয় সর্বোচ্চ ৫ হাজারের মত। এরমধ্যে ২ হাজার সিলিন্ডার বিক্রি করে মেঘনা ডিপো, ১২শ’ সিলিন্ডার বিক্রি করে পদ্মা ডিপো ও বাকিটা যমুনা ডিপো সরবরাহ করে।
গ্যাস সরবরাহের বিষয়ে পদ্মা ডিপোর এরিয়া ম্যানেজার আল মামুন বলেন, খুলনায় মাত্র ১২শ’ গ্যাসের সিলিন্ডার তারা সরবরাহ করতে পারেন। চাহিদা থাকলেও নানা সমস্যার কারনে তারা এসব সিলিন্ডার তারা সরবরাহ করতে পারেন না।
মেঘনা ডিপোর ম্যানেজার আব্দুল্লাহ বলেন, পূর্বে সেনাবাহিনীর সদস্যদের সরবরাহের জন্য তারা ৪ হাজার সিলিন্ডার সরবরাহ করতেন। তাদের সাথে চুক্তি বাতিল হওয়ায় এখন সরবরাহ করেন মাত্র ২ হাজার সিলিন্ডার। প্রতি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৭৫ টাকা। ১৮৪ জন ডিলারের মাধ্যমে এ গ্যাস সরবরাহ করা হয় বলে জানান তিনি।
কোম্পানিগুলোর স্থানীয় পরিবেশকরা কয়েকদিন ধরেই খুচরা বিক্রেতাদের সরবরাহ এক প্রকার বন্ধ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মজুদ থাকা সিলিন্ডার পরিবেশকরা বর্ধিত মূল্যে বিক্রি করার জন্য কৌশলে সরবরাহ বন্ধ রেখেছেন বলে খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ।
এলপিজি কোম্পানিগুলোর খুলনার একাধিক পরিবেশকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই প্রতিটি সিলিন্ডারের পাইকারি মূল্য ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। খুচরা বিক্রেতাদের এ দামে কিনতে হবে পরিবেশকদের কাছ থেকে। খুচরা বিক্রেতারা ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করবেন আরও বেশি দামে। অর্থাৎ ভোক্তাকে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৫০ টাকা দরে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বছরের শেষ দিন পর্যন্ত এলপিজি সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য ছিল ৯শ’ টাকার মধ্যে।
একটি বেসরকারি এলপিজি কোম্পানির আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক জানান, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম বেড়েছে। এছাড়াও সরকারি ভ্যাট ট্যাক্স বেড়ে যাওয়ায় এলপিজি বাজারজাতকারী কোম্পানিগুলো যৌথভাবে দামি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নগরীর টুটপাড়ার খুচরা বিক্রেতা আজিজুর রহমান জানান, কয়েকদিন ধরে সিলন্ডারের সরবরাহ কম ছিল। সেসময়ই বুঝেছিলাম দাম বাড়বে। বছরের শুরু থেকেই দাম বেড়েছে।
সাউথ সেন্ট্রাল রোডে গ্যাস কিনতে আসা আনিসুজ্জামান বলেন, প্রায় ২শ’ টাকা বেশি দিয়ে তাকে গ্যাস কিনতে হয়েছে। যে গ্যাসের দাম ছিল ৯০০ টাকা সেই গ্যাসের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫০ টাকা। কোম্পানিগুলো ইচ্ছা মতো দাম বাড়িয়ে যাচ্ছে। সেখানে প্রশাসন নীরব। গ্যাস-বিদ্যুতের দাম দিতে দিতে মানুষ জিম্মি হয়ে পড়ছে।
খুলনা এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি শেখ মোঃ তোবারেক হোসেন তপু বলেন, কোম্পানিগুলো কোনো কারণ না দেখানো বা পূর্ব ঘোষনা ছাড়াই গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। নি¤œ আয়ের মানুষদের ভুগতে হবে বেশি।