স্টাফ রিপোর্টার ঃ কেউ কিনছেন, কেউ দেখছেন। ফুটপাত থেকে সড়ক, দোকানের ভেতরে-বাইরে, পা ফেলার জায়গা নেই কোথাও। তীব্র গরমে ঘেমে নেয়ে উঠলেও ভ্রুক্ষেপ নেই কারও। পছন্দের পোশাক কিনতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ক্রেতারা।
এই দৃশ্য খুলনার মধ্যবিত্তের বাজার হিসেবে পরিচিত ডাকবাংলো নিক্সন মার্কেটে। কম দামে ভালো পোশাক কিনতে এই মার্কেটের বিকল্প এখনও তৈরি হয়নি। তাই মধ্যবিত্তের মার্কেট বলা হলেও এখানে ভিড় করেন উচ্চ থেকে নি¤œ আয়ের সবাই।
মজার বিষয় হচ্ছে নিক্সন মার্কেট নামে পরিচিত পেলেও এই নামে এখানে কোনো মার্কেট বা দোকান নেই। মুক্তিযুদ্ধের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের জনগণের কম দামে কাপড়ের চাহিদা মিটাতে আমেরিকা থেকে পুরনো কাপড় আমদানি শুরু হয়। খুলনার রেলওয়ের জমিতে ওই কাপড় বিক্রি হতো। তখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ছিলেন রিচার্ড নিক্সন। পুরাতন কাপড়চোপড় বিক্রি হওয়া ওই এলাকার নাম হয়ে যায় নিক্সন মার্কেট। পরবর্তীতে ডাকবাংলো মোড় ও নিক্সন মার্কেটকে কেন্দ্র করে আশপাশে বিভিন্ন মার্কেট ও দোকানপাট গড়ে ওঠে। কিন্তু এলাকার নাম পুরাতন নামেই থেকে যায়।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে জানা গেছে, নগরীর ডাকবাংলো মোড় এবং আশপাশ এলাকাজুড়ে প্রায় ১৭টি মার্কেট রয়েছে। দোকান রয়েছে প্রায় ৫ হাজার। এখানে তৈরি পোশাক, জুতা-স্যান্ডেল, শাড়ি থেকে শুরু করে সব ধরনের পণ্য পাওয়া যায়। ব্রান্ডের পোশাক থেকে শুরু করে ফুটপাতের পণ্য সবই আছে এসব মার্কেটে। দামও অনেক কম। তাই সবারই পছন্দ এই এলাকা।
সম্প্রতি ডাকবাংলো এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মানুষের প্রচন্ড ভিড়। হেটে মার্কেটে প্রবেশ করতেই বেগ পেতে হচ্ছে ক্রেতাদের। ফুটপাত ও সড়ক দখল করে নতুন দোকান বসানো হয়েছে-এতে হাটার পথ সংকুচিত হয়ে গেছে। বাজারের প্রতিটি দোকানই ক্রেতায় ঠাসা। ক্রেতা সামলাতে ব্যস্ত দোকানীরা কথা বলার ফুসরত পাচ্ছেন না।
এরই মধ্যে সুমন গার্মেন্টেসর শহিদুল ইসলাম বলেন, দুই বছর পর আল্লাহ মুখ তুলে তাকিয়েছি। করোনার কারণে দুই বছরে সব শেষ হয়ে গিয়েছিলো। এ বছর বেচাকেনা মোটামুটি ভালো হচ্ছে। ঈদের আগে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা রাখি।
বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ভাগ্নে-ভাতিজার জন্য কিনতে এসেছি। প্রচন্ড ভিড় ও গরমে কিছুটা কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু কেনাকাটা তো করতেই হবে। এ বছর পোশাকের দাম বাড়তি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ডাকবাংলো মোড়ের সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা গেছে উচ্চবিত্তের নিউ মার্কেটে। সেখানে অধিকাংশ দোকান দেখা গেল ফাঁকা।
ছোট দুই মেয়ে ওহী ও সহীকে নিয়ে নিউ মার্কেটে পোশাক কিনতে এসেছেন নগরীর জিন্নাহপাড়া এলাকার বাসিন্দা জাকারিয়া তুষার। সমকালকে তিনি বলেন, লোকজন কম থাকায় নিউ মার্কেটে ঘুরে স্বস্তি আছে। তবে অতিরিক্ত দামের কারণে পণ্য কেনা যায় না। তাই বাইরের শো-রুম দেখে পোশাক কিনতে হবে। সেদিকে যাচ্ছি।
দেশি ফ্যাশান হাউড আড়ংয়ে দেখা গেছে উপচেপড়া ভিড়। সেখানেও মানুষের পা ফেলার জায়গা নেই। এখানেও সবই উচ্চবিত্ত ক্রেতা। ভিড় দেখা গেছে নগরীর শিবববাড়ি মোড় কেন্দ্রিক বিভিন্ন তৈরি পোশাকের শো-রুমে।