সংবাদ সম্মেলন কথা বলছেন, ঢাকা কলেজের স্নাতকোত্তর শ্রেণীর শিক্ষার্থী সুজয় বালা ও মাসুম বিল্লাহ।
সংবাদ সম্মেলন কথা বলছেন, ঢাকা কলেজের স্নাতকোত্তর শ্রেণীর শিক্ষার্থী সুজয় বালা ও মাসুম বিল্লাহ।
রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকায় সংশ্লিষ্ট ডিসি, এডিসি ও নিউমার্কেট থানার ওসির প্রত্যাহারসহ ১০ দফা দাবি জানিয়েছেন ঢাকা কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) রাত ১২টায় ঢাকা কলেজের শহীদ আ. ন. ম. নজীব উদ্দিন খান খুররম অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে তারা এসব দাবি জানান। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলন কথা বলেন, ঢাকা কলেজের স্নাতকোত্তর শ্রেণীর শিক্ষার্থী সুজয় বালা ও মাসুম বিল্লাহ।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেছে। তাদের দাবিসমূহ-

১. শিক্ষার্থীদের ওপর ন্যাক্করজনক হামলার উসকানিদাতা, ইন্ধনদাতা ও হামলাকারীদের তদন্ত সাপেক্ষে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

২. আহত সকল শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার সকল ধরনের দায়ভার নিউমার্কেট ব্যবসায়ী সমিতি ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে নিতে হবে।

৩. হকারদের হামলায় নিহত পথচারি নাহিদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

৪. রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সের ওপর হামলাকারীদের ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

৫. দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ডিসি, এডিসি ও নিউমার্কেট থানার ওসিকে প্রত্যাহারের পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনকে কলেজ প্রশাসনের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

৬. প্রতিটি মার্কেট ও দোকানে সিসিটিভি স্থাপন করতে হবে।

৭. প্রতিটি মার্কেটে কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের জন্য আচরণবিধি প্রণয়ন ও তার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন করতে হবে।

৮. ফুটপাত দখলমুক্ত, অবৈধ কার পার্কিং উচ্ছেদ ও চাদাবাজি বন্ধ করতে হবে।

৯. নারীদের যৌন হয়রানি এবং সাধারণ ক্রেতাদের হয়রানি বন্ধে একটি বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

১০. চন্দ্রিমা সুপার মার্কেট ও নিউ সুপার মাকের্টে ঢাকা কলেজের সম্পদ লিজ বাতিল করে ফিরিয়ে দিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই ঢাকা কলেজ বাঙালি এবং ছাত্র সমাজের নৈতিক ও যৌক্তিক প্রয়োজনে সবসময় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাঙালির স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলনেও সম্মুখ ভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে জীবন উৎসর্গ করেছে দেশের জন্য। সম্প্রতি পুলিশ প্রশাসন ও ব্যবসায়ীরা এই ঐতিহ্যবাহী কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যে আচরণ করেছে এটি নোংরামির চরম মাত্রা অতিক্রম করেছে।

সাম্প্রতিক ঘটনার বিবরণে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘সোমবার দিবাগত রাত ১২টায় নিউ মার্কেটের ওয়েলকাম এবং ক্যাপিটাল ফাস্টফুড দোকানের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কেন্দ্র করে ঢাকা কলেজের দুই শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করা হয়। খবরটি ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে কলেজের সামনের মিরপুর সড়কে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানান।’

‘সেখান থেকে ক্যাম্পাসে ফিরে আসার সময় নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ী, কর্মচারী ও হকাররা শিক্ষার্থীদের নামে গুজব ছড়িয়ে একযোগে হামলা চালান। এরপর ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে।’

শিক্ষার্থীরা দাবি করে বলেন, ‘ডিএমপির রমনা জোনের এডিসি হারুন-অর-রশিদ ও নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স.ম. কাইয়ুম ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না করেই ব্যবসায়ীদের পক্ষ নিয়ে বিতর্কিত ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।’

‘পুলিশের উপস্থিতিতে নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ী, কর্মচারী ও হকাররা ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে হামলা চালান। হামলা প্রতিরোধ করতে গেলে পুলিশ বিনা উস্কানিতে নির্বিচারে ঢাকা কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এ সময় ঢাকা কলেজের শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহত শিক্ষার্থীরা এখনও রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এরপর রাত ৩টায় ঢাকা কলেজের শিক্ষকরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফিরে আসে।’

‘পরবর্তীতে মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) সকাল ১০টায় ঘটনার তদন্ত ও বিচার চেয়ে কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা কলেজের প্রধান ফটকের সামনে প্রতিবাদ জানাব। তখনও নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ীরা বহিরাগত সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে ফের ঐক্যবদ্ধভাবে ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান।’

‘এমনকি শিক্ষকরা প্রধান ফটকে গেলে তাদেরও লাঞ্ছিত ও হামলা করে আহত করা হয়। পরে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এরপর আবারও পুলিশ নির্বিচারে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ও গুলি চালায়।’

‘এক সময় শিক্ষার্থীরা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ অবস্থান নেয়। তখনও পুলিশ রায়ট কার থেকে শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ভেতরে টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। পরে বেশ কয়েকবার ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কলেজের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।’

‘এই হামলার প্রধান ইন্ধনদাতা ও পরিকল্পনাকারী হচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন, ফরমান মোল্যা, জাহাঙ্গীর হোসেন, আমির হোসেন আলমগীর, মিজান, টিপুসহ আরও অনেকে’— এমনটাই জানিয়েছেন ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীরা।