ওজোপাডিকোর দেয়ালে সতর্কবার্তা

শিশু তামিম স্মরণে
দোয়া মাহফিল

স্টাফ রিপোর্টার ঃ দেয়াল চাপায় শিশু নিহতের পর অবশেষে সজাগ হলেন ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিষ্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। গতকাল ওজোপাডিকোর সদর দপ্তরের বয়রাস্থ দেয়ালে সাঁটানো হয়েছে একটি সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি। যেখানে লেখা রয়েছে, ‘সাবধান, দেয়াল থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলুন’। অথচ গত শুক্রবার সকালে ওই দেয়ালে চাপা পড়ে সাত বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়। ওই ঘটনায় আহত আরও দু’শিশুর মধ্যে একজন এখনও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এদিকে, নিহত শিশু তামিম স্মরণে গতকাল সোমবার বিকেলে নগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানাধীন বয়রা ও করিম নগরের তিনটি মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বাদ আসর এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় করিম নগর জামে মসজিদ, বয়রার আরাফাত জামে মসজিদ ও বিদ্যুৎ ভবন মসজিদে। এসময় স্থানীয় মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করে তামিম ও তার পরিবারের সদস্যদের জন্য দোয়া করেন।
অবশ্য, শুক্রবারের দেয়াল চাপায় এক শিশু নিহত ও দু’জনের আহত হওয়ার পর ১২শ’ ফুটের ওই দেয়ালের একপাশে টিনের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। গতকাল গিয়ে দেখা যায় টিনের প্রাচীরের কাজ শুরু হয়েছে। যে ঠিকাদার দেয়ালের পলেস্তরা খুলে নতুন পলেস্তরা করার কাজটি পেয়েছিলেন সেই ঠিকাদারই টিনের প্রাচীরের কাজটি করছেন। ওজোপাডিকোর নিরাপত্তা বিভাগের একজন কর্মী জানান, আপাতত টিনের বেড়া দিয়ে রাখা হবে। এরপর হয়তো পুরাতন দেয়াল ভেঙ্গে নতুন করে নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহবান করা হবে। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের খুলনায় আসা এবং গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার ওপর।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ওজোপাডিকোর পুরাতন দেয়াল সংস্কার কাজ করার সময় দেয়াল ধসে তিন শিশু আহত হয়। পরে একজনের মৃত্যুর পর ওজোপাডিকো কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। ওই কমিটি ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে বলেও উল্লেখ করা হয়।
কমিটির আহবায়ক ওজোপাডিকোর নির্বাহী পরিচালক(প্রকৌশল) মো: আবু হাসান বলেন, ইতোমধ্যেই তাদের তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই প্রতিবেদন দেয়া সম্ভব হবে। তবে যাদের গাফিলতির কারণে এ দুর্ঘনাটি হয়েছে সেটি চিহ্নিত করার পাশাপাশি তাদেরকে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কেও সুপারিশ করতে বলা হয়েছে। ওজোপাডিকোর সদর দপ্তরের দেয়াল হলেও এটি কোম্পানীর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৪এর আওতাধীন। সেখানকার সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কর্মকর্তারা কিভাবে একটি ইটের গাঁথুনির দেয়ালকে ভেঙ্গে নতুন না করে শুধুমাত্র পলেস্তরা খসিয়ে নতুন পলেস্তরা করার প্রাক্কলন করলেন সেটিও খতিয়ে দেখা হবে বলেও তদন্ত কমিটি মনে করছে।