বিভাগীয় সেমিনারে
বক্তাদের অভিমত

স্টাফ রিপোর্টার ঃ ইউনেস্কো ও গণসাক্ষরতা অভিযান আয়োজিত এসডিজি-৪’র কৌশলগত কাঠামো ও অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা শীর্ষক বিভাগীয় সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষাক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন হয়েছে, শিক্ষকদের মান বেড়েছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন হয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া হচ্ছে নানামুখি সুযোগ-সুবিধা। কিন্তু এরপরও সরকারি পর্যায়ের প্রাথমিক শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এজন্য টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি অনুযায়ী মানসম্মত শিক্ষা বাস্তবায়ন করতে হলে শিক্ষকদের আরও আন্তরিক হতে হবে। ক্লাশেই যাতে শিক্ষার্থীরা পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা পায় সেদিকে নজর রাখতে হবে। কিন্ডারগার্টেনের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে প্রাথমিক শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের সন্তানদেরও প্রাথমিকে পড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে। এছাড়া বক্তারা আন্তর্জাতিক পরিম-লে টিকে থাকতে হলে গতানুগতিক শিক্ষার চেয়ে কারিগরি শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দেয়ারও আহবান জানান। এজন্য কারিগরি শিক্ষার কারিকুলামকে আরও যুগোপযোগী করতে হবে বলেও বক্তারা মন্তব্য করেন।
গতকাল বুধবার সকালে নগরীর হোটেল সিটি ইন-এ এ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন, খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো: আব্দুর রশিদ। স্থানীয় পর্যায়ে এ সেমিনারের সহযোগিতায় ছিল বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আশ্রয় ফাউন্ডেশন।
খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুকুল কুমার মৈত্রের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী পরিচালক হিরন্ময় কুমার বিশ^াস ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নাজমা শেখ। এসময় পাওয়ার পয়েন্টে প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন, সাবেক সচিব শ্যামল কুমার ঘোষ, কনসালটেন্ট ড. জিয়া উস সবুর ও ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশন’র ডেপুটি সেক্রেটারী কেএম এনামুল হক। আয়োজকদের পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তৃতা করেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালক মো: মোসলেম উদ্দিন ও ইউনেস্কোর প্রোগ্রাম অফিসার শিরিণ আক্তার। স্থানীয় আয়োজকদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন, আশ্রয় ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মমতাজ খাতুন।
আশ্রয় ফাউন্ডেশনের বনশ্রী ভান্ডারীর পরিচালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, প্রাথমিকে ঠিকমতো ক্লাশ না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ভিত দুর্বল থেকে যায়। ফলে একদিকে যেমন কিন্ডারগার্টেনের সাথে সরকারি স্কুলগুলো প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছে না তেমনি মাধ্যমিকে গিয়েও মানসম্মত শিক্ষা অর্জন করতে পারছে না। এ বিষয়গুলোকে মাথায় রেখেই প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও মানসম্মত করতে পরিকল্পনা করতে হবে। বক্তারা শ্রেনিকক্ষে শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহবান জানান।
বক্তারা আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার আরও একটি দুর্বল দিক হচ্ছে, শ্রেণীকক্ষের বাইরে সারা বছরই বিভিন্ন জরীপ ও প্রতিযোগিতায় শিক্ষকদের ব্যস্ত রাখা হয়। শিক্ষক সংকটে একজন শিক্ষককে সারাদিনে ৫-৬টি ক্লাশ নিতে হয়। ভালো বেতন ও সুযোগ সুবিধা না থাকায় অনেকের মধ্যে জব স্যাটিসফেকশন থাকে না। এছাড়া দীর্ঘক্ষণ শ্রেনি কার্যক্রম চালু রাখা, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের শাসনে বিধিনিষেধ থাকায় অনেকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলেও কেউ কেউ মন্তব্য করেন।
এছাড়া প্রশ্নপত্রে এমসিকিউ পদ্ধতি চালু করে পড়াশোনায় ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলেও বক্তারা মন্তব্য করেন। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা না থাকায় সবক্ষেত্রেই অনিয়ম তৈরি হয়েছে। এসব দিকে নজর রেখেই প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও যুগোপযোগী করতে হবে বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।
সেমিনারে খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তা, জেলা পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তা এবং শিক্ষক ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।