এম. পলাশ শরীফ, মোড়েলগঞ্জ ঃ উপজেলার নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোতে এখনো প্রায় ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও পূর্ণিমার প্রভাবে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৫-৬ ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় ওয়াপদার বেড়িবাধ, স্থানীয় সরকার বিভাগের রাস্তা ভেঙ্গে পানি ঢুকে পড়েছে। ফলে শতশত কাঁচা বসত ঘর, বহু কাঁচা-পাকা রাস্তা ভেঙ্গে নদীগর্ভে চলে গেছে।
ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের নিকট থেকে পাওয়া তথ্যমতে পঞ্চকরণ, বলইবুনিয়া ও তেলীগাতী ইউনিয়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় ১০ কিলোমিটার ভেরি বাঁধসহ খাউলিয়া, মোড়েলগঞ্জ সদর, পৌরসভা, বারইখালী ও হোগলাবুনিয়া ইউনিয়নের কমপক্ষে ১১০ কিলোমিটার জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
এছাড়া ওয়াপদার ভেড়িবাঁধ না থাকায় উপজেলার বহরবুনিয়া ইউনিয়নের ঘষিয়াখালী ও ফুলহাতাসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ওইসব এলাকার সাধারণ মানুষের এখন একটাই দাবি ‘ত্রাণ নয়, ওয়াপদা চাই’। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গত দু’দিন ধরে বিভিন্নভাবে দাবি তোলা হয়েছে। অনেকের বাড়িঘর, দোকানপাট ও মৎস্যঘের পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। বহরবুনিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো: জাহিদুল ইসলাম খলিফা বলেন, পাশর্^বর্তী তিনটি এলাকার নদী তীরবর্তী মানুষের সাথে ভিন্ন আচরণ করার ফলে অন্য দু’টি এলাকার মানুষ ওয়াপদার ভেড়িবাঁধের সুযোগ পেলেও একমাত্র ঘষিয়াখালী-ফুলহাতার মানুষ ওয়াপদার ভেড়িবাঁধ বঞ্চিত। এর ফলে শুধু ইয়াসই নয়, বরং সাধারণ জোয়ারের পানিতেও অনেকের বাড়িঘর তলিয়ে যায়। যেটি অনেকটা অমানবিক বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে উপজেলার এক হাজার ২২টি চিংড়ি মাছের ঘের ডুবে এক কোটি ১৯ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিনয় কুমার রায় জানিয়েছেন। অতিরিক্ত ¯্রােত ও পানির কারনে ফেরি চলাচল ব্যহত হচ্ছে। চরম দুর্ভোগে পড়ে দূর পাল্লার পরিবহন ও যাত্রীরা।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান বৃহস্পতিবার রাত ৯ টায় বলেন, নদীর তীরবর্তী ও নীচু এলাকার প্রায় ১৫ হাজার পরিবারের লোক ও গবাদি পশু পানিবন্দী অবস্থায় আছে। বহু পরিবারের রান্নার কাজ বন্ধ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোকে সরকারি সাহায্য পৌছে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাড. আমিরুল আলম মিলন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ বৈদ্য, সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফরিদ উদ্দীন, উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাড. শাহ্-ই-আলম বাচ্চু, উপজেলা নির্বাহী র্কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন, পৌরসভা মেয়র মনিরুল হক তালুকদার, জেলা পরিষদ সদস্য অধ্যাপিকা আফরোজা লিনা, ভাইস চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক অধিক ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছেন।
মোড়েলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে রাস্তাঘাট, মৎস্য সম্পদ ও কাঁচা বাড়ি ঘরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। যার হিসাব নিরূপনের কাজ এখনো শেষ হয়নি।