সরকারের অনুমতি পেলেও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া বিএনপি চেয়ারপরসন খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার বিষয়টি কিছুদিন পিছিয়ে যাচ্ছে।

বিএনপির ঢাকা ও লন্ডনে অবস্থানরত প্রভাবশালী একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে। যদিও দল এবং পরিবার বলছেন, সরকার অনুমতি দিলেই পরবর্তী প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করবেন তারা।

এই দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে কোন দেশে নেওয়া হবে তা সরকারের কাছে আবেদন করা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়নি। তবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকেও বিষয়টি আন্তরিকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

গত ২৭ এপ্রিল শারীরিক কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় । ভর্তির পর তিনি সুস্থ থাকলেও ৩ মে সকালে শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন তিনি। বিকেলেই তাকে হাসপাতালের কেবিন থেকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। দিতে হয় অক্সিজেন সাপোর্ট।

৩ মে রাতেই বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

এর পর সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে বিদেশে নেওয়ার আবেদনপত্র নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় যান তার ভাই শামীম এস্কান্দার। সেই আবেদনসংক্রান্ত ফাইলটি বুধবার (৫ মে) রাত ১১টায় আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিবের কাছে পৌঁছায়। আইন মন্ত্রণালয় আবেদন ফাইলটি পর্যালোচনা করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে।

বিএনপির একটি সূত্র জানায়, যেহেতু সারাবিশ্বে করোনা মহামারি চলছে। এই মহামারির সময় খালেদা জিয়াকে লন্ডনে চিকিৎসা নিতে হলে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমতি নিতে হবে। এছাড়া, তার ভ্রমণ সংক্রান্ত বিষয়েও কিছু প্রক্রিয়া এখনও বাকি। ফলে সরকারিভাবে অনুমতি পাওয়ার পরই এ কাজগুলো সম্পন্ন হবে। তাই কিছুদিন পিছিয়ে যাচ্ছে খালেদা জিয়ার বিদেশ যাত্রা।