করোনা ইউনিট পুরোপুরি বন্ধ

ভর্তি করা হবে সাধারণ রোগী

এইচ এম আলাউদ্দিন ঃ দীর্ঘ ১৩দিন ফাঁকা থাকার পর আজ রোববার থেকে চালু হচ্ছে খুলনার শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগ। সাধারণ রোগীদের জন্য উম্মুক্ত করা হচ্ছে আইসিইউ বিভাগের ১০টি বেড। সেই সাথে পুরোপুরি বন্ধ করা হলো হাসপাতালের করোনা ইউনিট।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, গত ৩ জুলাই থেকে চালু হওয়া ৪৫ বেডের করোনা ইউনিটের নিচতলার ৩৫ বেড বন্ধ করা হয় গত ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে। এরপর বলা হয়েছিল ভর্তি থাকা রোগীদের ছাড়পত্র দেয়া হলেই আইসিইউ বিভাগও সাধারণ রোগীদের জন্য উম্মুক্ত করা হবে। কিন্তু গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে সেখানে কোন করোনা রোগী না থাকলেও সিদ্ধান্তহীনতার কারণে গতকাল পর্যন্ত আইসিইউ’র ১০টি বেড ফাঁকা রাখা হয়। সর্বশেষ গতকাল বিকেলে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈঠক থেকে করোনা ইউনিটটি পুরোপুরি বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়। আজ রোববার থেকে সেখানে আইসিইউ’র রোগী ভর্তি করা হতে পারে জানিয়ে একটি সূত্র বলছে, যদিও বিগত ১৩দিন যাবত কোন রোগী ছিলেন না, তারপরেও কিছুটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেই হয়তো সাধারণ রোগী সেখানে ভর্তি করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আইসিইউতে রোগী ভর্তি করতে হয়তো আরও ২/১দিন সময়ের প্রয়োজন হতে পারে বলে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার(আরএমও) ডা: প্রকাশ চন্দ্র দেবনাথ জানিয়েছেন।
শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে গতকাল শনিবার পর্যন্ত ১২৪জন রোগী ভর্তি ছিলেন বলে হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়। আড়াইশ’ বেডের এ হাসপাতালের কার্ডিওলজি, নেফ্রোলজি, ইউরোলজিসহ বিভিন্ন বিভাগে মোট ১৮৮টি বেড চালু থাকলেও গত ৩ জুলাই থেকে করোনা ইউনিট চালুর সময় প্লাষ্টিক সার্জারী এন্ড বার্ণ ইউনিট এবং ফিজিক্যাল মেডিসিনি এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের মোট ৩৫টি বেডকে রেডজোন ঘোষণা দিয়ে করোনা রোগী ভর্তি করা হয়। আর চতুর্থ তলার আইসিইউ বিভাগের ১০টি বেডেও রাখা হয় করোনার রোগী। সে ক্ষেত্রে সেখানে ভর্তি থাকা অন্যান্য বিভাগের রোগীদের ছাড়পত্র দেয়া হয়। যদিও নিচতলার প্লাষ্টিক সার্জারী এন্ড বার্ণ ইউনিট এবং ফিজিক্যাল মেডিসিন এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারটি আগে থেকেই ফাঁকা ছিল। বার্ণ ইউনিটে ২০টি ও ফিজিক্যাল মেডিসিনে ১৫টি বেড রয়েছে। যদিও গত ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে করোনা ইউনিটের আংশিক বন্ধ করার পর থেকে এখনও ওই দু’টি বিভাগে সংশ্লিষ্ট বিভাগের রোগী ভর্তি করা হয়নি। এ ব্যাপারে হাসপাতালে জনবল সংকটকে দায়ী করে গতকালকের ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈঠকের একটি সূত্র বলছে, বিশেষ করে মেডিকেল অফিসার সংকট রয়েছে ব্যাপক। এজন্য জনবল সংকট দূর করার ব্যাপারেও গতকালকের বৈঠকে তাগিদ দেয়া হয়।
তবে সাধারণ রোগীদের জন্য খুলনায় যে আইসিইউ সংকট ছিল সেটি আজ থেকে দূর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে খুলনার সরকারি হাসপাতালগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোষ্ট অপারেটিভ বিভাগে চারটি এবং শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে ১০টি আইসিইউ বেড রয়েছে। কিন্তু গত ৩ জুলাই থেকে করোনা ইউনিট চালু হওয়ায় আবু নাসের হাসপাতালের ১০টি বেড বন্ধ থাকায় শুধুমাত্র খুমেক হাসপাতালের চারটি বেডই ছিল এ অঞ্চলের মূমূর্ষ রোগীদের একমাত্র ভরসা। যে কারণে অনেকে সরকারি হাসপাতালের আইসিইউ সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। গত ১৯ সেপ্টেম্ব খুলনা জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মিটিং থেকে আবু নাসের হাসপাতালের করোনা ইউনিটের একাংশ বন্ধের সিদ্ধান্তের পর ওইদিন বিকেলে রেডজোনের দু’জন রোগীকে আইসিইউতে স্থানান্তর করে সাধারণ ওয়ার্ড খালি করা হয়। এরপর সেখানের একজনের মৃত্যু ও তিনজন সুস্থ্য হওয়ার পর ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে পুরোপুরি ফাঁকা হয়ে যায় করোনা ইউনিট অর্থাৎ আইসিইউ বিভাগটি।
১৯ সেপ্টেম্বরের জেলা উন্নয় সমন্বয় কমিটির মিটিংয়ের সিদ্ধান্তের পর মহানগর করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও সিটি মেয়র আলহাজ¦ তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছিলেন, আবু নাসের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন করোনা রোগী সুস্থ্য হলে আর কোন নতুন রোগী ভর্তি না করে সাধারণ রোগীদের জন্য উম্মুক্ত করা হবে। কিন্তু যেহেতু হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগ মন্নুজান সুফিয়ান আনুষ্ঠানিকভাবে ৩ জুলাই অনলাইনের মাধ্যমে করোনা ইউনিটের উদ্বোধন করেছিলেন সেহেতু তার সিদ্ধান্তের অপেক্ষা ছিলেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ গতকালকের হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈঠক থেকে করোনা ইউনিটটি পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণার মধ্যদিয়েই আবারো সাধারণ রোগীদের জন্য উম্মুক্ত করার ঘোষণা দেন কমিটির সভাপতি ও শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান।
এদিকে, দীর্ঘ ১৩দিন পর হলেও আজ থেকে আবু নাসের হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগটি সাধারণ রোগীদের জন্য উম্মুক্ত করায় সংশ্লিষ্টদের সাধুবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন-বিএমএ খুলনা শাখার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ডা: শেখ বাহারুল আলম, বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান এবং খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব এড. মো: বাবুল হাওলাদার। তারা বলেন, একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে করোনা ইউনিট চালু করা হলেও যেহেতু এখন করোনা রোগীর সংখ্যা কমেছে সেহেতু সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা সেবার প্রতি বিশেষ নজর দেয়া উচিত। সেই সাথে জনবলসহ যেসব সংকট এখনও রয়েছে সে বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে দেখা উচিত বলেও তারা মনে করেন।
খুলনায় থাকলো তিন করোনা হাসপাতাল ঃ খুলনার শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের করোনা ইউনিটটি পুরোপুরি বন্ধের ফলে এখন খুলনায় মোট তিনটি করোনা হাসপাতাল চালু থাকলো। এর একটি সরকারি হাসপাতাল অপর দু’টি বেসরকারি হাসপাতাল। এর মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আওতাধীন ২শ’ শয্যা বিশিষ্ট ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালে গতকাল সকাল পর্যন্ত ৩৯জন, ১০ শয্যার গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে একজন এবং ১৫ শয্যার সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ১০জন রোগী ছিলেন বলে হাসপাতালগুলোর মুখপাত্ররা জানিয়েছেন। অর্থাৎ খুলনার এ তিনটি হাসপাতালে ২২৫টি বেডের বিপরীতে গতকাল সকাল পর্যন্ত করোনার রোগী ছিলেন ৫০জন। সব মিলিয়ে সরকারি বেসরকারি তিন হাসপাতালে এখনও বেড ফাঁকা রয়েছে ১৭৫টি। এর মধ্যে শুধুমাত্র খুমেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে বেড ফাঁকা আছে ১৬১টি।