বিদেশগামীদের করোনা
টেস্টের টাকা আত্মসাৎ

স্টাফ রিপোর্টার ঃ দুই কোটি ৫৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ মাথায় নিয়ে আত্মগোপনে থাকা সেই মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট(ল্যাব:) প্রকাশ কুমার দাস অবশেষে হাজির হলেন কর্মস্থলে। দুই মাস নয়দিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি খুলনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসারের সাথে সাক্ষাত করেন। কিন্তু তাকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে দেয়া হয়নি। বলা হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সাময়িক বরখাস্ত থাকাবস্থায় তিনি হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে পারবেন কি না সেটি আগে জানতে হবে। তাছাড়া তার বিরুদ্ধে যেহেতু দুদকের মামলা রয়েছে সেহেতু বিষয়টি তারা কিভাবে দেখছেন সেটিও জানতে হবে। এমটি(ল্যাব:) প্রকাশ কুমার দাস বলছেন, তিনি উচ্চ আদালত থেকে তিন সপ্তাহের আগাম জামিন নিয়ে এসেছেন। যদিও তিনি গতকাল পর্যন্ত কোন রিকল দেখাননি। রিকল দেখাননি হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষকেও। বিষয়টি জানিয়েছেন খুলনার সিভিল সার্জন ও জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: নিয়াজ মোহাম্মদ।
দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা এমটি(ল্যাব:) প্রকাশ কুমার দাস বলেন, তাকে মানষিক নির্যাতন করা হয়েছিল। তিনি টাকা আত্মসাতের সাথে জড়িত নন। তার পরেও জোর করে তাকে দিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়ার চক্রান্ত হয়েছিল। যেটি জানতে পেরে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। গত ২৩ সেপ্টেম্বর দুপুর থেকে তিনি লাপাত্তা। যদিও ২৫ সেপ্টেম্বর শনিবার সকালে তিনি কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য কেসিসি মার্কেটের কাছে আসলে জানতে পারেন তার বিরুদ্ধে আরও গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এজন্য তিনি মানষিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে আত্মগোপনে চলে যান। এরপর গত ১৮ নভেম্বর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে ১৬ নম্বর মামলা দায়ের হলে তিনি গত ২৯ নভেম্বর হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়ে খুলনা আসেন। তিনি বলেন, যেহেতু মামলাটি দুদক তদন্ত করছে সেহেতু সঠিক তদন্ত হলেই কে কে টাকা আত্মসাতের সাথে জড়িত সেটি বেরিয়ে আসবে। এর বাইরে আর কোন কথা বলতে রাজী হননি তিনি।
জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও খুলনার সিভিল সার্জন ডা: নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, এমটি(ল্যাব:) পকাশ কুমার দাস উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে এসেছেন বলে তিনি শুনেছেন। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতালে এসে আরএমওর সাথে দেখা করে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে চান। কিন্তু যেহেতু অফিস সময় শেষ হয়ে গিয়েছিল সেহেতু স্বাক্ষর করতে দেয়া হয়নি। তাছাড়া যেহেতু তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় আছেন সেহেতু তিনি স্বাক্ষর করতে পারবেন কি না, স্বাক্ষর করতে পারলেও কাজ করতে পারবেন কি না এসব সার্বিক বিষয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানার পরই স্পষ্ট হবে।
প্রকাশ দাসের হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নেয়ার বিষয়ে সিভিল সার্জন বলেন, হয়তো জামিন নিয়েই এসেছেন তা’ না হলে এভাবে আসবেন কিভাবে ? তবে তার বা হাসপাতালের অন্য কোন কর্মকর্তার কাছেও তিনি কোন কাগজপত্র দেননি। যদিও এটি আইন-শৃংখলা বাহিনী বা দুদকের ব্যাপার। হয়তো কাগজপত্র তাদের কাছে জমা দেয়া হয়েছে। সেটি প্রকাশই ভালো বলতে পারবেন। সব মিলিয়ে প্রকাশের উপস্থিতির মধ্যদিয়েই বেরিয়ে আসবে টাকা আত্মসাতের সাথে প্রকৃতপক্ষে কে বা কারা জড়িত। তিনিও সেটি চান।
এদিকে, খুলনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগ থেকে বিদেশগামীদের করোনাকালীন দুই কোটি ৫৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গঠিত তদন্ত কমিটির মেয়াদ আরও এক দফায় বাড়িয়ে দেড় মাস করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির একটি সূত্র বলছে, আশা করা হচ্ছে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দেয়া সম্ভব হবে।