/ অনিয়মের আর এক নাম মনিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

অনিয়মের আর এক নাম মনিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

নিজস্ব সংবাদদাতা, নেহালপুর (যশোর): গোটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জুড়েই রয়েছে অনিয়ম আর হয়রানির জাল, দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি টিম মণিরামপুরে গিয়ে এমনটিই দেখতে পেয়েছেন। রোগীদের জন্যে বরাদ্দ ১৫২ গ্রাম ওজনের পাউরুটির জায়গায় দেওয়া হয় মাত্র ৫৬ গ্রাম, ১১৮ গ্রাম মাছের জায়গায় জোটে ৬০-৮০ গ্রাম। সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে নির্ধারিত ভাড়া কিমি প্রতি ১০-১৫ টাকা হলেও নেওয়া হচ্ছে তিনগুণের বেশি। প্রশিক্ষণ ছাড়াই রোগীর সেলাই-ব্যান্ডেজ বাঁধছেন আউটসোর্সিংয়ের কর্মীরা। বিভিন্ন টেস্ট করানোর জন্যে রয়েছে বিভিন্ন ক্লিনিকের দালাল।

মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এইসব অনিয়ম সরেজমিনে দেখেছেন দুদক যশোরের উপ-সহকারী পরিচালক চিরঞ্জীব নিয়োগীর নেতৃত্বে একটি টিম।রোববার সকাল থেকে প্রথমে ছদ্মবেশে এবং পরে প্রকাশ্যে অভিযান চালান তারা। ওইসময় হাতেনাতে পাকড়াও করেন এক দালালকে।

দুদক জানিয়েছে, তাদের সদর দপ্তরে জমা পড়া অভিযোগের ভিত্তিতে আজ তিন সদস্যর একটি দল মনিরামপুর হাসপাতালে শুরুতে ছদ্মবেশে অভিযান চালান। অভিযোগের বিষয়গুলোর প্রমাণ পেয়ে পরে তারা প্রকাশ্যে অভিযান চালান।

দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক চিরঞ্জীব নিয়োগী বলেন, সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া কিলোমিটার প্রতি ১০-১৫ টাকা। অভিযোগ পেয়েছি, হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক এখলাস হোসেন রোগীদের জিম্মি করে তিনগুণ পর্যন্ত ভাড়া আদায় করেন। মণিরামপুর থেকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী নেওয়ার জন্য ছদ্মবেশে অ্যাম্বুলেন্স চালকের সাথে মোবাইলে কথা বলি। চালক দুই হাজার টাকা ভাড়া দাবি করেন। দূরত্ব হিসেব করলে মনিরামপুর থেকে খুলনা পর্যন্ত সরকারি ভাড়া আসে ৬০০-৭০০ টাকা।

চিরঞ্জীব নিয়োগী বলেন, হাসপাতালে সরকারি ওষুধ ও স্যালাইন মজুদ থাকলেও রোগীদের সেগুলো বাইরে থেকে কেনানো হচ্ছে। হাসপাতালের ল্যাব সহকারী আনিছুর রহমান বিভিন্ন ক্লিনিকের দালালের মাধ্যমে রোগীদের পরীক্ষা করানোর জন্য বাইরের ক্লিনিকে পাঠিয়ে থাকেন। এ সময় নয়ন হোসেন নামে এক দালালকে ধরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে সোপর্দ করেছি।

ভর্তি রোগীর খাবারের মান যাছাই করতে গিয়ে তারা দেখেন, সকালের নাস্তায় রোগীকে ১৫২ গ্রাম ওজনের পাউরুটি দেওয়ার নিয়ম থাকলেও সরবরাহ করা রুটির ওজন মিলেছে মাত্র ৫৬ গ্রাম। রোগীর খাবারে ১১৮ গ্রাম ওজনের মাছের টুকরা দেওয়ার কথা থাকলেও সরবরাহ করা মাছের টুকরার ওজন ৬০ থেকে ৮০ গ্রাম। এছাড়া মানহীন তেল ও লবণ ব্যবহার করা হচ্ছে তরকারিতে। যে ডাল খাওয়ানো হয় তার মানও খুবই নিম্ন।

এছাড়া, জরুরি বিভাগে দেখা গেছে- আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ ওয়ার্ডবয়রা কোনো প্রকার প্রশিক্ষণ ছাড়াই রোগীর সেলাই বা ব্যান্ডেজের কাজ করছেন।অভিযানের সময় হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক অনুপ বসু তাদের সাথে ছিলেন। অনিয়মের বিষয়গুলো হাসপাতাল প্রধানকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, অনিয়মের  বিষয়গুলো আমাদের সদর দপ্তরকে লিখিতভাবে জানাবো। এছাড়া সিভিল সার্জনকেও বিষয়গুলো জানানো হবে।

মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফাইয়াজ আহমেদ ফয়সাল বলেন, দুদকের অভিযোগের বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।