স্টাফ রিপোর্টারঃ অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ। বাঙালি জাতির জন্য দিবসটি একদিকে যেমন চরম শোক ও বেদনার, অন্যদিকে মায়ের ভাষা বাংলার অধিকার আদায়ের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত।
১৯৫২ সালের এদিনে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বাংলার (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ছাত্র ও যুবসমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ সে সময়ের শাসকগোষ্ঠীর চোখ-রাঙানি ও প্রশাসনের ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসে।
মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দুর্বার গতি পাকিস্তানি শাসকদের শংকিত করে তোলায় সেদিন ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিক গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।
মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ’৫২-এর একুশে ফেব্রুয়ারী ছিল ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ ও শাসকগোষ্ঠীর প্রভূসুলভ মনোভাবের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রথম প্রতিরোধ এবং ভাষার ভিত্তিতে বাঙালির জাতীয় চেতনার প্রথম উন্মেষ।
ভাষা শহীদদের রক্তের বিনিময়ে বাঙালি জাতি সেদিন মায়ের ভাষার মর্যাদা অর্জনের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও পায় নব প্রেরণা। এরই পথ বেয়ে শুরু হয় বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন এবং একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ।
পরবর্তী নয় মাস পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিশ্বের মানচিত্রে সংযোজিত হয় নতুন এক স্বাধীন সার্বভৌম দেশ-বাংলাদেশ।
জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) ১৯৯৯ সালে মহান একুশের প্রতিশ্রদ্ধা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দেয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গত কয়েক বছর ধরে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
খুলনা জেলা প্রশাসন ঃ এদিকে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে জাতীয় কর্মসূচির আলোকে খুলনা জেলা প্রশাসন বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
কর্মসূচি অনুযায়ী,গত রাত ১২টা ১ মিনিটে নগরীর শহিদ হাদিস পার্ক কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জেলার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি,আধাসরকারি,স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২ যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
একই দিন সকাল সাড়ে নয়টায় নগরভবনে সিটি কর্পোরেশনের আয়োজনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহণে চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। বাদ জোহর বা সুবিধামতো সময়ে জেলার সকল মসজিদে ভাষা শহিদদের রুহের মাগফেরাত, দেশের শান্তি,সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি মন্দির,গীর্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার ব্যবস্থা থাকবে। প্রার্থনার সময় ভাষা শহিদদের সঠিক নাম ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে সকাল ১১টায় খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে।
সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় শহিদ হাদিস পার্কে খুলনা জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও একুশের পোস্টার প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ের কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও অনুরূপ কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ঃ মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচির মধ্যে একুশের প্রথম প্রহর গত রাত ১২টা ০১ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।
এছাড়া সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালোপতাকা উত্তোলন,বিকাল ৪টায় সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে আলোচনা সভা,বাদ মাগরিব মসজিদে দোয়া ও ইফতার মাহফিল এবং সুবিধাজনক সময়ে মন্দিরে প্রার্থনা আয়োজন করা হয়েছে। উক্ত কর্মসূচিতে সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে জারিকৃত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
কেকেবিএইউ ঃ মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে খুলনা খান বাহাদুর আহছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে গৃহীত কর্মসূচির মধ্যে একুশের প্রথম প্রহরে গত রাত ১২.০১ মিনিটে শহিদ হাদীস পার্কে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। এছাড়া সাকাল সাড়ে ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ এবং কালো পতাকা উত্তোলন,কালোব্যাজ ধারণ।
খুলনা সিটি কর্পোরেশন ঃ মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ পালন উপলক্ষে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে দিবসের প্রথম প্রহর গত রাত ১২টা ১ মিনিটে শহিদ হাদিস পার্কস্থ শহিদ মিনারে কেসিসি প্রশাসক মো: মোখতার আহমেদ-এর নেতৃত্বে পুষ্পস্তবক করে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। আজ শনিবার সূর্য্যদেয়ের সাথে সাথে নগর ভবন, খালিশপুর শাখা অফিস, নগর স্বাস্থ্য ভবন ও ওয়ার্ড অফিসসহ কেসিসি’র গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং কেসিসি পরিচালিত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা এবং শহিদ হাদিস পার্কসহ গুরুত্বপূর্ণ মোড়সমূহ বাংলা বর্ণমালা ও ফেস্টুন দ্বারা সজ্জিত করা হবে। এছাড়া সকাল ৯টায় নগর ভবনে শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা এবং বেলা ১১টায় আলোচনা সভা,পুরস্কার বিতরণ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্লে থেকে নার্সারী ‘ক’ বিভাগ, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি ‘খ’ বিভাগ এবং তৃতীয় শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ‘গ’ বিভাগে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। ‘ক’ বিভাগের জন্য বিষয় উম্মুক্ত রাখা হয়েছে এবং ‘খ’ বিভাগের জন্য ‘মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক’ ও ‘গ’ বিভাগের জন্য ‘একুশের ভাষা আন্দোলন’ বিষয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ‘ঘ’ বিভাগে ‘একুশের চেতনা ও বর্তমান বাংলাদেশ’ এবং ৯ম ও ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ‘ঙ’ বিভাগে ‘জাতীয় জীবনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অবদান’ বিষয়ে রচনা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। কেসিসি প্রশাসক মো: মোখতার আহমেদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করবেন।
খুলনা প্রেস ক্লাব ঃ এ উপলক্ষে খুলনা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ঃ একুশের প্রথম প্রহরে গত রাত ১২.০১ মিনিটে শহিদ হাদিস পার্কের শহিদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা দিবেদন করা হয়। আজ ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার বেলা ১১.৩০ মিনিটে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে এক আলোচনা সভা ক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে। ক্লাবের সকল স্থায়ী ও অস্থায়ী সদস্যদেরকে এ সকল কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন ক্লাবের আহবায়ক এনামুল হক ও সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল।
এমইউজে ঃ মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে আজ ২১ ফেব্রুয়ারি মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-একুশের প্রথম প্রহর গত রাত ১২ টা ০১ মিনিটে শহিদ হাদিস পার্কের শহিদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা দিবেদন করা হয়। আজ শনিবার বেলা ১১টায় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে এক আলোচনা সভা খুলনা প্রেসক্লাবস্থ ইউনিয়ন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন ইউনিয়নের সভাপতি মো. রাশিদুল ইসলাম। এ সকল কর্মসূচিতে ইউনিয়নের সকল সদস্যকে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেছেন ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রানা।
কেইউজে ঃ এ উপলক্ষে খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে একুশের প্রথম প্রহর গত রাত ১২টা ১ মিনিটে শহিদ হাদিস পার্কের শহিদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। আজ শনিবার বেলা ১১টায় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে সংগঠনের কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই সকল কর্মসূচিতে খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সকল সদস্যকে অংশগ্রহণের জন্য সংগঠনের সভাপতি মো: সাঈদুজ্জামান সম্রাট ও সাধারণ সম্পাদক মহেন্দ্রনাথ সেন অনুরোধ করেছেন।
রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ ঃ অমর একুশে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্মরণে জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ্, খুলনা জেলা শাখার উদ্যোগে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের বীর শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য ধর্মসভা গোলকমণি শিশুপার্ক থেকে সকাল সড়ে ৬ টায় প্রভাত ফেরী শুরু হবে। সংশ্লিষ্ট সকলকে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
খুলনায় শহিদ দিবসের কর্মসূচী ঃ এদিকে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৫ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে জাতীয় কর্মসূচির আলোকে খুলনা জেলা প্রশাসন আজ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে।
কর্মসূচি অনুযায়ী ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে গত রাত (১২.০১ টায়) শহিদ হাদিস পার্কে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,সরকারি-আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনসমূহে সঠিক নিয়মে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।
সকাল সাড়ে নয়টায় নগরভবনে সিটি কর্পোরেশনের আয়োজনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। বাদ জোহর বা সুবিধামত সময়ে সকল মসজিদে ভাষা শহিদদের রুহের মাগফেরাত কামনা,দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া মাহফিল এবং মসজিদ,মন্দির,গীর্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। প্রার্থনার সময় ভাষা শহিদদের সঠিক নাম ব্যবহার করতে হবে। বিকেল চারটায় বয়রাস্থ বিভাগীয় গণগ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে অমর একুশের বইমেলা মঞ্চে বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যা ছয়টায় শহিদ হাদিস পার্কে খুলনা জেলা তথ্য অফিস চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও একুশের পোস্টার প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
শহিদ হাদিস পার্কে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান,ছড়া পাঠ,চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া আজ ২১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় শহিদ হাদিস পার্কে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে।
কেসিসির কর্মসূচি ঃ এ উপলক্ষে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে দিবসের প্রথম প্রহর ১২টা ১ মিনিটে শহিদ হাদিস পার্কস্থ শহিদ মিনারে কেসিসি প্রশাসক মো: ফিরোজ সরকার-এর নেতৃত্বে পুষ্পস্তাবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন; সূর্য্যদেয়ের সাথে সাথে নগর ভবন, খালিশপুর শাখা অফিস, নগর স্বাস্থ্য ভবন ও ওয়ার্ড অফিসসহ কেসিসি’র গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং কেসিসি পরিচালিত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা এবং শহিদ হাদিস পার্কসহ গুরুত্বপূর্ণ মোড়সমূহ বাংলা বর্ণমালা ও ফেস্টুন দ্বারা সজ্জিত করা । এছাড়া সকাল ৯টায় নগর ভবনে শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা এবং বেলা ১১টায় আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্লে থেকে নার্সারী ‘ক’ বিভাগ, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি ‘খ’ বিভাগ এবং তৃতীয় শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ‘গ’ বিভাগে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। ‘ক’ বিভাগের জন্য বিষয় উম্মুক্ত রাখা হয়েছে এবং ‘খ’ বিভাগের জন্য ‘গ্রামবাংলার চিত্র’ ও ‘গ’ বিভাগের জন্য ‘ভাষা আন্দোলন’ বিষয়ের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ‘ঘ’ বিভাগে ‘বাঙালির অহংকার একুশে ফেব্রুয়ারি’ এবং ৯ম ও ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ‘ঙ’ বিভাগে ‘জাতীয় জীবনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ বিষয়ে রচনা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।
কেসিসি প্রশাসক মো: ফিরোজ সরকার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করবেন।
খুলনা মহানগর বিএনপির কর্মসূচী ঃ মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে খুলনা মহানগর বিএনপি বিভিন্ন কর্মসুচি গ্রহণ করেছে । কর্মসুচির মধ্যে গতরাত ১২ টা ০১ মিনিটে খুলনা শহীদ হাদিস পার্কে ভাষা শহীদদের স্মরে পুষ্পমাল্য অর্পন করা হয়। এছাড়া আজ ২১ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সুর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরন এবং দলীয় ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। বেলা ১১ টায় দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা।
কর্মসূচি সফল করতে মহানগর, থানা ও ওয়ার্ডের সকল নেতৃবৃন্দদেরকে উপস্থিত থাকার আহবান জানিয়েছেন খুলনা মহানগর বিএনপির আহবায়ক এ্যাড.শফিকুল আলম মনা ও সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ঃ এদিকে আজ ২১ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন উপলক্ষ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে প্রশাসনিক ভবনের সম্মুখে কালোব্যাজ ধারণ,জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালোপতাকা উত্তোলন,এর পরপরই কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ,সকাল ১০টায় সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে আলোচনা সভা,বাদ জুম্মা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল ও কেন্দ্রীয় মন্দিরে প্রার্থনা,সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে প্রদীপ প্রজ্বালন। এছাড়াও বিকাল ৪টা থেকে ৮টা পর্যন্ত মুক্তমঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
খুলনা প্রেসক্লাব ঃ মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে খুলনা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে একুশের প্রথম প্রহরে গতরাত ১২.০১ মিনিটে শহিদ হাদিস পার্কের শহিদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা দিবেদন করা হয়। আজ ২১ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বেলা ১১.৩০ মিনিটে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে এক আলোচনা সভা ক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে।
ক্লাবের সকল স্থায়ী ও অস্থায়ী সদস্যদের এ সকল কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন ক্লাবের আহবায়ক এনামুল হক ও সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল।