/ উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে ফেনীতে ভয়াবহ বন্যা: বাঁধ ভাঙনে প্লাবিত ৩০ গ্রাম, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন

উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে ফেনীতে ভয়াবহ বন্যা: বাঁধ ভাঙনে প্লাবিত ৩০ গ্রাম, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা ঢল ও ফেনীতে টানা ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অন্তত ১৪টি স্থান ভেঙে গেছে। এতে ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার অন্তত ৩০টিরও বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন, বহু এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন।

বুধবার দুপুরে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক তরিফুল নেওয়াজ কবির সাংবাদিকদের জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৯৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে ফেনীতে। ঢাকায় একই সময়ে ৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।

ফেনীর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, মুহুরী নদীর বিপৎসীমা ১২.৫৫ মিটার হলেও মঙ্গলবার রাত ১০টায় পানি রেকর্ড করা হয় ১৩.৯২ মিটারে, অর্থাৎ বিপৎসীমার ১.৩৭ মিটার উপরে। মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মাত্র ১৫ ঘণ্টায় নদীর পানি বেড়েছে ৬.৯২ মিটার বা ২২ ফুট ১০ ইঞ্চি।

বাঁধ ভাঙনের খবর পাওয়া গেছে ফেনীর বিভিন্ন উপজেলা থেকে। পরশুরাম উপজেলায় জঙ্গলঘোনার ২টি স্থান,অলকার ৩টি,শালধর ১টি,সাতকুচিয়া (কহুয়া নদী) ২টি বেড়াবাড়িয়া ১টি ও গদানগর (সিলোনিয়া নদী)১টি স্থানে।
ফুলগাজী উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ১টি, দৌলতপুর (কহুয়া নদী)১টি ও দেড়পড়া (সিলোনিয়া নদী) ২টি স্থানে বাধ ভেঙ্গে গেছে।

ফেনী শহর ও দুই উপজেলায় বহু বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সাবস্টেশন পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। অবস্থার অবনতি হলে এর পরিধি আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

চিথলিয়ার জাকিয়া আক্তার জানান,“ঘরভর্তি পানি। প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে অন্যত্র চলে গেছি। গত বছরের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবার সব গেল।” রফিকুল ইসলাম (মির্জানগর) অভিযোগ করেন,“পাউবোর অবহেলায় বল্লামুখা বাঁধ ঠিকমতো বন্ধ করা হয়নি। প্রতিবছরই আমাদের ভোগান্তি।”
ইউএনও পরশুরাম, আরিফুর রহমান বলেন, “নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক মনিটর করছি।”
ইউএনও ফুলগাজী, ফাহরিয়া ইসলাম জানান, “উপজেলায় তিনটি নদীর চারটি স্থানে বাঁধ ভেঙেছে। শতাধিক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে এসেছেন, খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।”
জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম জানান, ফুলগাজীতে ৩২টি মাধ্যমিক ও ৬৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পরশুরামে ৩২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত। দেড় শতাধিক মানুষ সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন। দুর্গতদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৬.৫ লাখ টাকা।

৯ জুলাই থেকে ফুলগাজী উপজেলার উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।