/ কয়রা উপজেলা পরিষদের ৬ টি ভবনই পরিত্যক্ত পুন: নির্মাণের উদ্যোগ নেই

কয়রা উপজেলা পরিষদের ৬ টি ভবনই পরিত্যক্ত পুন: নির্মাণের উদ্যোগ নেই

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: ভবন গুলো ৫০ বছরের পুরনো। খসে পড়ছে পলেস্তারা। ভবন জুড়ে আগাছা জন্মেছে। হালকা বাতাসেই কেঁপে ওঠে জরাজীর্ণ দালানকোঠা। ফাটল দিয়ে বৃষ্টির পানি ঢুকে নষ্ট করে দেয় আসবাবপত্র। যে কোনো সময় ভবনগুলো ধসে পড়ে প্রাণহানিসহ ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। খুলনার কয়রা উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের থাকার জন্য ৬টি আবাসিক ভবনের সব ক’টিা এমন অবস্থা।
উপজেলা সদরে অথবা এর কাছাকাছি বাসা ভাড়া না পাওয়ায় পরিত্যক্ত ভবনে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বাধ্য হয়ে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন অনেক কর্মকর্তা। এসব ভবন স্থানীয় জেলা প্রশাসন তিন বছর আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সেখানে বসবাস থেকে বিরত থাকার নোটিশও টাঙিয়েছে।কিন্তু এখন পর্যন্ত পুনঃনির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৪ সালে উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের থাকার জন্য ৬টি এবং উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনওর পৃথক দুটি বাংলো নির্মাণ করা হয়। এছাড়া কর্মচারীদের থাকার জন্য আলাদা ডরমিটরি ভবন রয়েছে। সুন্দরবন-সংলগ্ন এলাকা হওয়ায় এর ভবনগুলো নাম দেওয়া হয় সুন্দরী, গেওয়া, বাইন, কাঁকড়া, গরান, ধুন্দল ইত্যাদি। বর্তমানে এসব ভবনগুলি বসবাসের অযোগ্য হওয়ায় পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয়েছে।থাকার জায়গার অভাবে অনেকেই এসব ভবনে ঝুঁকি নিয়ে বাস করছেন। অনেক কর্মকর্তাকে পরিবার নিয়ে উপজেলা পরিষদ থেকে কয়েক কিলোমিটার দুরে বাসা ভাড়া করে থাকতে হচ্ছে। আবাসন সংকটের কারণে কর্মকর্তারা বদলি হওয়ার চেষ্টা করছেন। আবার নতুন যারা আসছেন তাদের অনেকেই একই সমস্যার কথা চিন্তা করে যোগদানো আগে বদলির তদবিরে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

ভবনগুলো ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি ভবনের দেয়ালে ফাটল ধরেছে। সেই সঙ্গে ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে গিয়ে মরিচা ধরা রড বেরিয়ে গেছে। মেঝে ও সিঁড়ির একই অবস্থা। জানালা-দরজাগুলো অধিকাংশ ভাঙাচোরা। বৃষ্টি হলে সব ভবনের ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে বলে সেখানকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন। অনেকেই ছাদ দিয়ে পানি পড়া ঠেকাতে পলিথিন টানিয়েছেন। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় দুটি ভবন সম্পূর্ণ খালি থাকায় সেখানে আগাছা-পরগাছা জন্মেছে। অন্য চারটিতে দু-একজন করে থাকছেন।

ভবনে বসবাসরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মচারী জানান, ভবনটির বরান্দাসহ বিভিন্ন কক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভবনটিতে বসবাস করতে হচ্ছে। এছাড়া বাথরুমগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে ভবনটিতে বসবাস করতে হচ্ছে।কর্মচারীরা স্বল্প বেতনে দূর-দুরান্ত থেকে এসে এখানে চাকরি করেন। ডরমেটরি ভবনটি দীর্ঘদিন থেকে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তাদেরকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে। পুরনো ভবনগুলোতে নেই আধুনিক সুযোগ-সুবিধাও। এমন অবস্থায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনেকেই উঠেছেন ভাড়া বাড়িতে।আবাসন সংকটের কারণে এখানে যোগদানের পরপরই বদলির চেষ্টায় ব্যস্ত থাকতে হয়। বর্তমানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে কর্মকর্তা নেই কেবল ভালো আবাসন ব্যবস্থা না থাকার কারণে।
সরকারি ভবন রক্ষণাবেক্ষণে নিয়োজিত গণপূর্ত বিভাগ বলছে, প্রায় ৫০ বছর আগের প্রযুক্তিতে নির্মিত ভবনগুলোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা যাচ্ছে না। তবে, আবাসন সংকট নিরসনে সংস্কারসহ নতুন বহুতল ভবন নির্মাণে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ জাবের বলেন, সরকারি কোয়ার্টারে থাকার মতো অবস্থা না থাকায় প্রথমে কয়েকদিন একটি আবাসিক হোটেলে কক্ষ ভাড়া নিয়ে থাকতে হয়েছে। এখন অফিস থেকে দুই কিলোমিটার দূরে বাসা ভাড়া নিয়ে আছি। এতে অনেক সমস্যা পোহাতে হচ্ছে।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, আবাসন সংকটের কারণে পাশ্ববর্তী উপজেলায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে হচ্ছে। সেখান থেকে কষ্ট করে হলেও নিয়মিত অফিস করতে হয় তাকে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তপন কুমার মন্ডল বলেন, বাইরে বাসাভাড়া তুলনামূলক বেশি এবং অফিস থেকে অনেক দূরে হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে কোয়ার্টারে থাকতে হচ্ছে। সেখানে বৃষ্টি হলে ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। যে কারণে পরিবার আনতে সাহস পাচ্ছি না।

উপজেলা প্রকৌশলী আবুল ফজেল বলেন, কর্মকর্তাদের থাকার জন্য প্রতিটি ভবনই বর্তমানে পরিত্যক্ত বলা চলে। নিরূপায় হয়েই সেখানে থাকতে হচ্ছে। বিষয়টি উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, ভবনগুলোর অবস্থা এতটা খারাপ যে সেখানে থাকার মতো পরিবেশ নেই। ভবনগুলোকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও এখন পর্যন্ত নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিষয়টি অনেক আগেই রেজুলেশনের মাধ্যমে সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।