আরও একজন গ্রেফতার
স্টাফ রিপোর্টার: নগরীর প্রাণকেন্দ্র ডাকবাংলো এলাকায় শ্রমিক দল নেতা মাসুম বিল্লাহকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তিনটি কিলার গ্রুপ অংশ নেয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরিকল্পিত এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অশোক ঘোষের পর জাভেদ পাটোয়ারী নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব শত্রুতা ও শ্রমিক সংগঠনে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, বুধবার রাত ৯টার দিকে নগরীর ডাকবাংলো মোড়ে বাটা শোরুমের ভেতরে ঢুকে অস্ত্রধারীরা মাসুম বিল্লাহকে গুলি করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডে অন্তত তিনটি গ্রুপ অংশ নেয়। একটি গ্রুপ গুলি চালায়, একটি গ্রুপ ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায় এবং আরেকটি গ্রুপ ছিল কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া সন্ত্রাসীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার দায়িত্বে।
তিনি জানান, গুলি করার গ্রুপে আটজন সদস্য ছিল, তাদের মধ্যে দুজন ছিল মূল কিলার। ঘটনার সময় স্থানীয় জনতা ও পুলিশ মিলে অশোক ঘোষ নামে এক সন্ত্রাসীকে বিদেশি পিস্তলসহ আটক করে। পরে বৃহস্পতিবার জাভেদ পাটোয়ারী নামে আরেকজনকে গ্রেফতার করা হয়। অস্ত্রধারীসহ সাত থেকে আটজনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে এবং তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, ঘটনার সময় মাসুম বিল্লাহ স্ত্রী ও আত্মীয়দের নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করছিলেন। এ সময় সন্ত্রাসীরা তাকে ঘিরে ধরলে প্রাণ বাঁচাতে তিনি বাটা শোরুমের দিকে দৌড়ে যান। তখন পেছন থেকে কোপানো গ্রুপের সদস্যরা প্রথমে তার ডান পায়ে ছুরিকাঘাত করে। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি দোকানের ভেতরে ঢুকে পড়লে সন্ত্রাসীরা সেখানে ঢুকে গলায় ও পিঠে গুলি করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের চাচা মহিউদ্দীন শেখ বলেন, মাসুম বিল্লাহ রূপসা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ছিলেন এবং সংগঠনে তার জনপ্রিয়তা ছিল। সামনে আবারও সভাপতি পদে আসার চেষ্টা করছিলেন। প্রতিপক্ষ গ্রুপ পরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে খুনি দিয়ে তাকে হত্যা করিয়েছে বলে তাদের ধারণা।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় এখনো পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়নি। তবে অস্ত্র আইনে খুলনা থানায় একটি মামলা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী শিগগিরই হত্যা মামলা করবেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, নিহত মাসুম বিল্লাহ রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের মৃত মিনহাজ উদ্দীন মুন্সীর ছেলে। তিনি রূপসা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এবং উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন। তার বড় ভাই নৈহাটি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও শীর্ষ সন্ত্রাসী মোস্তফা কামাল ওরফে মিনা কামাল ২০২০ সালের ৩০ জুলাই র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। মাসুম বিল্লাহ নিজেও দুটি মামলার আসামি ছিলেন এবং এক সময় র্যাবের হাতে অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয়েছিলেন।