/ খুলনায় সবজির সরবরাহ বাড়লেও দাম কমেনি, পেঁয়াজের কেজি ১৩০ টাকা

খুলনায় সবজির সরবরাহ বাড়লেও দাম কমেনি, পেঁয়াজের কেজি ১৩০ টাকা

স্টাফ রিপোর্টার: খুলনা শহরের বাজারগুলোতে সবজির সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে,তবে দাম কমেনি। প্রায় সব ধরনের সবজিই ৫০ টাকার নিচে বিক্রি হচ্ছে না।বাজারে সবজির পাশাপাশি পেঁয়াজের দামও কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। এতে সাধারণ ক্রেতারা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। গতকাল সোমবার সকালে খুলনা নগরীর গল্লামারী, দৌলতপুর ও খালিশপুর বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে, করলা ৭০-৮০, বরবটি ৬০-৭০, পটোল ৪০-৫০, লালশাক ও পালংশাক ২৫-৩০ টাকা দরে, লাউ শাক ৪০-৫০ টাকা, কুমড়া ৪০ টাকা কেজি, ঢ্যাঁড়স ৪০-৫০ টাকা, লাউ ৪০-৫০ টাকা পিস দরে, টমেটো ৮০-১০০ টাকা, শিম ৭০-৮০ টাকা এবং ফুলকপি ৯০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের দামও মানভেদে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। অন্যদিকে পেঁয়াজ ১১০-১৩০ টাকা ও রসুন ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে মুরগির দামেও উঠানামা করতে দেখা গেছে। ব্রয়লার মুরগি ১৬০-১৭০ টাকা, সোনালি ২৫০ টাকা, লেয়ার ২৬০-২৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারেও দাম স্থিতিশীল হয়নি। রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৫০-৩০০ টাকা, ভেটকি ৫০০-৬০০, চিংড়ি ৬০০-১০০০, তেলাপিয়া ১৬০-১৮০, পাবদা ৩০০-৩৫০, পাঙাশ ১৭০-২০০, কাতল ২৪০-২৬০ এবং ছোট মাছ ৩০০-৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

গল্লামারী বাজারের সবজি বিক্রেতা আছাদ শেখ বলেন,নতুন মৌসুমি সবজি বাজারে আসছে ঠিকই,কিন্তু পাইকারি পর্যায়ে দাম এখনো বেশি। পরিবহন ভাড়া ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারে প্রভাব পড়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে দাম কিছুটা কমবে বলে আশা করা যায়।
দৌলতপুর বাজারের আরেক বিক্রেতা হাবিবুর বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাজারে সংকট দেখা দিয়েছে। তাই দাম কেজিপ্রতি ১১০ থেকে ১৩০ টাকায় উঠেছে।

গল্লামারী বাজারে কেনাকাটা করতে আসা মোঃ ইনসান বলেন, শীতকালিন সবজির দাম আশানুরুপ কমেনি , তবে সপ্তাহ খানেকের মধ্যে কমার আশা করেন তিনি।

খালিশপুর বাজারের ক্রেতা আরিফ শেখ অভিযোগ করেন বাজার মনিটরিং না থাকার কারনে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছে। প্রশাসন যদি নিয়মিত বাজার তদারকি করত, তাহলে দাম হয়তো আরও কম থাকতো ।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন,পাইকারি বাজারে সঠিক তদারকি না থাকায় খুচরা পর্যায়ে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না। এছাড়া পরিবহন ব্যয়, জ্বালানি খরচ ও শ্রমিক মজুরি বৃদ্ধির প্রভাবও পড়ছে সবজির দামে।

বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয়েই আশা করছেন,শীতকালীন নতুন সবজির সরবরাহ বাড়লে বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হবে। তবে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে তা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা।