/ খুলনার উপকূলীয় দুর্গম দাকোপ উপজেলার নলিয়ানে প্রধানমন্ত্রীর সফরের পরবর্তী উপকূলবাসীর প্রত্যাশা

খুলনার উপকূলীয় দুর্গম দাকোপ উপজেলার নলিয়ানে প্রধানমন্ত্রীর সফরের পরবর্তী উপকূলবাসীর প্রত্যাশা

মোঃ শিপন ভূঁইয়া/দাকোপ(খুলনা)ঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দক্ষিণ খুলনা জেলার সমুদ্র উপকূলীয় দুর্গম দাকোপ উপজেলার নলিয়ান গ্রামে আকষ্মিক সফর করেছেন। সমুদ্র উপকূলীয় এ উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর আকষ্মিক এ সফরে এলাকার নানা শ্রেণী পেশার মানুষের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরী হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়ন যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং কর্মস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দুর্যোগ প্রবণ এই অঞ্চলের সুপেয় পানির সংকট নিরসন, সুন্দরবন লাগোয়া নলিয়ানে পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের বিষয় গুলো ব্যাপক গুরুত্ব পাবে।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিনি গত ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার হেলিকপ্টারে করে খুলনার দাকোপে সুন্দরবনের হিরণপয়েন্ট এবং নলিয়ান গ্রামের নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে অবতরণ করেন। সেখান থেকে হেঁটে নলিয়ান কোস্টগার্ডেরন পল্টুনের ওপর উঠে নৌ-পথে মোংলার উদ্দেশ্য রওনা হন। সমুদ্র উপকূলীয় ও ঐতিহ্যবাহি ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন ঘ্যাঁষা দাকোপ উপজেলার নলিয়ান গ্রামে এই প্রথম কোন দেশের কোন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান সফর করেন। দুর্গম উপকূলীয় এ উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে উপকূলবাসীর প্রত্যাশাও রয়েছে অনেক।
নলিয়ান গ্রামের কাঁচামাল ব্যবসায়ী আব্দুল গণি গাজী বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে নলিয়ান বাজারে কাঁচা মালামাল কেনা-বেচা করছি। নদী পথে সেতু ও সড়ক না থাকায় নদী পথে এ কাঁচা মালামাল পরিবহনে ব্যয় বেশি। অনেক সময় নদী পথের ট্রলার বা লঞ্চে বহনকৃত কাঁচা মাল পচে বা নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে ব্যবসায় লচের শিকার হতে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফরে খুলনা থেকে নলিয়ান পর্যন্ত মহাসড়ক নির্মাণের পাশাপাশি দুর্গম এ উপজেলার পানখালী,পোদ্দারগঞ্জ ও বটবুনিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণ হবে। আর এগুলো নির্মাণ হলে আমার ব্যবসায় লাভবান হবো এবং অর্থনৈতিক সচল হবে।


কালিনগর গ্রামের মৎস্য চাষি কালিপদ রায়,আব্দুস সত্তার সানা বলেন, মৎস্য চাষাবাদে প্রয়োজনীয় পানির সংকট থাকায় এবং উন্নত কোন প্রযুক্তি ও পরামর্শের অভাবে আমরা প্রায় সময় মৎস্য চাষাবাদে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে আসছি। এই প্রথম কোন প্রধানমন্ত্রীর গ্রাম এলকায় সফর হওয়ায় এবং তিনি নিশ্চিই স্ব-চোখে গ্রামের মৎস্য চাষের নানা সমস্যা গুলো অনুধাবন করেছেন। আমরা আসা করছি প্রধানমন্ত্রীর আগমনে এলাকায় খাল খনন কর্মসুচি গ্রহণ করবেন এবং সেই খাল থেকে মৎস্য চাষের জন্য প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহের মাধ্যমে আমরা ক্ষুদ্র মৎস্য চাষিরা মৎস্য উৎপাদনে লাভবান হবো।
তিলডাঙ্গা গ্রামের দিন মজুর দিনবন্ধু মন্ডল, গৃহিনী ফাল্গুনী সরদার, বটবুনিয়া গ্রামের হাসেম আলী গাজী, কামিনী বাসিয়া গ্রামের দিপক মন্ডল বলেন, বছরের প্রায় ৮/৯টি মাসই আমাদেরকে লবণাক্ততার সাথে লড়াই সংগ্রাম করে পরিবার পরিজনদেরকে নিয়ে বাঁচতে হচ্ছে। আর বেঁচে থাকার জন্য রয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানি নিশ্চয়তা। কিন্তুু আমাদের এ দুর্গম উপজেলায় মাটিতে অতিরিক্ত লবনাক্ততার পাশাপাশি কোথাও গভীর নলকূল স্থাপন না হওয়ার কারণে এ সমস্যা সর্বত্র প্রকট আকার ধারণ করেছে।এ উপজেলায় জনসংখ্যার তুলনায় সরকার থেকে প্রাপ্ত বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ট্যাংঙ্কি সম্পূর্ণ অপ্রতুল। আমারদের এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর আগমনে এবার আশায় আমরা বুক বেঁধেছি। বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী আমাদের জন্য প্রয়োজনীয় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ট্যাংঙ্কি প্রদান করবেন।.


উপজেলার চালনা এম এম কলেজ পড়ুয়া চুনকুড়ি গ্রামের প্রনয় মন্ডল, সাহেবের আব্দা গ্রামের শিউলী রায়, পানখালী মমতাজ বেগম মাধ্যমিক বিদ্যালয় পড়য়া বরনপাড়া গ্রামের প্রবীর রায়, রাসেল শেখ জানান, পানখালী-বরণপাড়ার ঝঁপঝপিয়া নদীর ওপর দীর্ঘ বছরের প্রত্যাশিত সেতু নির্মাণ এবং পোদ্দারগঞ্জ চুনকুড়ি নদীর ওপর সেতু নির্মাণ না হওয়ায় আমরা শিক্ষার্থীরা সঠিক সময়ে কলেজ বা বিদ্যালয়ে যেতে পারি না। অধিকাংশ সময় এ নদী পথে খেয়ায় পারাপার হওয়ার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়। আমরা শিক্ষার্থীরা আশাকরিছি প্রধানমন্ত্রীর এ সফরেই জন গুরুত্বপূর্ণ এ দুইটি নদীতে সেতু নির্মাণের মাধ্যমে আমাদের শিক্ষা জীবন আলোকিত হবে।
গুনারী গ্রামের গ্রাম্য ডাক্তার মদন মোহন মন্ডল জানান,অবহেলীত এ গ্রামে পাঁকা কোন রাস্তা নেই,সব রাস্তাই রাস্তা। বর্ষা মৌসুমে এ গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া সম্ভব হয়ে উঠে না। দুর্গম এ গ্রাম এলাকায় প্রথম কোন এই প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে গ্রামের মানুষ রাস্তা ঘাটের উন্নয়নের সুবাতাস পাচ্ছে। গ্রামের এ সব রাস্তা ঘাট পাঁকা করণ বা পিচ ঢালাই রাস্তা নির্মাণ হলে রোগীদেরকে যে কোন সময় সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে।


কালাবগী গ্রামের কৃষক পরিমল সানা, বাসুদেব মন্ডল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ আগমনকে ঘিরে আমরা দুর্যোগ প্রবণ এলাকার শতশত ক্ষুদ্র কৃষক পরিবাররা নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি। প্রধানমন্ত্রীর আগমনে এ অঞ্চলের প্রতিটি কৃষক পরিবার কৃষি উপকরণ প্রাপ্তির পাশাপাশি আমরা আমাদের আবাদি জমিতে ফসল উৎপদানে লাভবান হবেন।
জনগণের প্রত্যাশার বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আমীর এজাজ খান জানান, প্রধানমন্ত্রীর এ সংক্ষিপ্ত এ সফর হবে যুগান্তকারী। তার এ সফর শুধূ খুলনা নয়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য আশির্বাদ স্বরুপ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফর হবে অত্যান্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ঐতিহাসিক। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দুর্যোগ প্রবণ এই অঞ্চলের সুপেয় পানির সংকট নিরসন, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ,পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন ও নতুন শিল্পায়ন সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব দুরিকরণ এবং অর্থনৈতিক গতিশীলতা আনায়নে নতুন আশার আলো সঞ্চয় করবে।