স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা বিভাগে হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ২৭ দিনে বিভাগে মোট ১,০৯৫ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের এবং ল্যাব পরীক্ষায় ৫১ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের জীবাণু পাওয়া গেছে।
গতকাল শনিবার খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক কার্যালয় থেকে প্রকাশিত দৈনিক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিভাগের ১০টি জেলার মধ্যে সংক্রমণের মূল কেন্দ্র এখন কুষ্টিয়া। এখানে সর্বোচ্চ ৩৭৬ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে,এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৮২ জন। যার মধ্যে ৮ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। ৩ জনের শরীরে ল্যাব পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত করা হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা যশোরে ২৪১ জন সন্দেহভাজন রোগী পাওয়া গেছে।৯২ জন হাসপাতালে চিকিতসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬১ জন । তবে ল্যাব পরীক্ষায় এই জেলায় সর্বোচ্চ ২৪ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম ধরা পড়েছে।মাগুরায় ১১১ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং এদের মধ্যে ৫ জন নিশ্চিত হামে আক্রান্ত।
বিভাগীয় শহর খুলনায় ৮৭ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং হামের উপসর্গে ১ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। ৬ জনের শরীরে ল্যাব পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হয়েছে। মেহেরপুরে ৮৩ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হলেও ল্যাব পরীক্ষায় এখন পর্যন্ত কারোর নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়নি। সাতক্ষীরা জেলায় ৫২ জন সন্দেহভাজন রোগী পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে ৫২ জনই হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। নড়াইলে ৪৭ জন সন্দেহভাজন রোগীর মধ্যে ৪ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের জীবাণু পাওয়া গেছে। ঝিনাইদহ জেলায় ৪৩ জন সন্দেহভাজন রোগীর মধ্যে ৮ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন। বাগেরহাটে ৩৭ জন সন্দেহভাজন রোগীর মধ্যে ১ জন ল্যাব পরীক্ষায় পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। সবচেয়ে কম সংক্রমণের হার চুয়াডাঙ্গায়, যেখানে মাত্র ১৮ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় সমগ্র বিভাগে নতুন করে ৪৯ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের চাপ দেখা যাচ্ছে কুষ্টিয়ায় ২৬ জন এবং খুলনা জেলায় ৯ জন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে হামের উপসর্গে নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি এবং ৫৪ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন।