খুলনা-মোংলা মহাসড়কে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন খুলনা নাগরিক সমাজের নেতারা। একই সঙ্গে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. বাবুল হাওলাদার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নৌবাহিনীর একটি বাস ও একটি মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে খুলনাুমোংলা মহাসড়কে যে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। এ দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠেছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, স্থানীয়দের মধ্যে অভিযোগ রয়েছে যে মহাসড়কটিতে অনেক সময় নৌবাহিনীর বাসগুলো বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। আবার কেউ কেউ বলছেন, দুর্ঘটনাস্থলটি দীর্ঘদিন ধরেই দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। ফলে প্রশ্ন উঠছে কার অবহেলায় এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটলো।
অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, এ ঘটনায় দায়ভার কার নৌবাহিনীর বাস চালকের, মাইক্রোবাস চালকের, নাকি ত্রুটিপূর্ণ সড়কের কারণে সড়ক ও জনপথ বিভাগের তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই নির্ধারণ করা প্রয়োজন। যদি কারও গাফিলতি বা অবহেলা প্রমাণিত হয়, তবে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে। তিনি আরও বলেন, নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে যদি আইনি প্রতিকার চাওয়া না হয়, তাহলে এই ঘটনাকে আমলযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে পুলিশ কোনো আইনি ব্যবস্থা নেবে কি না সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জেলা প্রশাসন বা সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা অবশ্যই ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে সেটিই যেন একমাত্র সমাধান না হয়ে যায়। কারণ আইনের বিধান অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করতে হয়। নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে বলা হয়, শুধু আর্থিক সহায়তা প্রদান করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে প্রচলিত শাস্তির আইন তুলনামূলকভাবে দুর্বল হওয়ায় অনেক সময় অপরাধীরা যথাযথ শাস্তি পায় না। তাই এ ধরনের ঘটনায় আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে আইন আরও শক্তিশালী করার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, খুলনা-মোংলা মহাসড়কের এ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এমন বিভীষিকাময় পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
-খবর ঃ বিজ্ঞপ্তির।।