/ খুলনা ৬ কয়রা-পাইকগাছা আসনে জামায়াতেরঘাঁটি দখল নিতে মরিয়া বিএনপি

খুলনা ৬ কয়রা-পাইকগাছা আসনে জামায়াতেরঘাঁটি দখল নিতে মরিয়া বিএনপি

গোলাম রব্বানী,কয়রা(খুলনা): ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে খুলনা ৬ আসনের (কয়রা-পাইকগাছা) নির্বাচনী আমেজ জমে উঠেছে। কয়রা-পাইকগাছা সুন্দরবন বেষ্টিত হলেও দুর্যোগ কবলিত জনপদ।এলাকাটিকে যেমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দিয়েছে, তেমনি দিয়েছে এক ভয়াবহ জীবন-সংকট। বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে এর অবস্থান হওয়ায় সিডর, আইলা, আম্ফান এর মতো ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাসের বারবার আঘাতে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা দীর্ঘকাল ধরে হুমকির মুখে আছে।অদম্য সাহসী আর সংগ্রামী এই জনপদের মানুষ স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।বারবার ক্ষমতার পালাবদল হলেও খুলনা-৬ আসনের এ উপক‚লীয় জনগোষ্ঠীর ভাগ্যের কোন মৌলিক পরিবর্তন হয়নি।

গত ২৪ এর জুলাই-আগষ্টে স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর এই অঞ্চলের রাজনৈতিক অঙ্গন নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীরা এই এলাকাটিকে “নতুন আঙিনায়” সাজানোর অঙ্গীকার নিয়ে ভোটের মাঠে জনগণের দুয়ারে দুয়ারে নিজ দলের প্রতীকে ভোট চাচ্ছেন।সকল প্রার্থীর প্রতিশ্রæতির কেন্দ্র এখন একটাই “স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা”। সাথে সাথে দুর্যোগকবলিত এ অঞ্চলের সংগ্রামী জনগোষ্ঠী অপেক্ষার প্রহর গুনছে কবে স্থায়ীভাবে সুরক্ষিত হবে অবহেলিত জনপদটি। তবে সাধারণ ভোটাররা ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের নির্বাচিত বহিরাগত এমপি আক্তারুজ্জামান বাবুর প্রতিশ্রæতি এখনও ভুলতে পারেননি। বেড়িবাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দিলেও দশহালিয়া গ্রামের বেড়িবাঁধ ভেঙে গেলে জনগণের কাঁদা ছোড়াছুড়িতে তাকে বিদায় নিতে হয়। মূলত এমপি আক্তারুজ্জামান বাবুর বাড়ি খুলনার তেরখোদা উপজেলায়। তবে শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলালের স্নেহভাজন হওয়ার এ আসনে দল তাকে মনোনয়ন দেয়। কিন্তু এমপি নির্বাচিত হয়ে তিনি কয়রা-পাইকগাছা উপজেলায় দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন করেন নি।

খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার ১০ টি এবং কয়রা উপজেলার ৭ টি মোট ১৭ টি ইউনিয়ন নিয়ে খুলনা ৬ আসন গঠিত। সংসদীয় আসন নম্বর ১০৪। নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায় এ আসনটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৯ হাজার ৪৬৭ জন। যার মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ০৯ হাজার ৮৮৫ জন এবং নারী ২ লাখ ৯ হাজার ৫৮১ জন। এছাড়াও আসনটিতে ১জন হিজড়া ভোটার রয়েছে। ইতিমধ্যে কয়রা উপজেলার ১৯৪৮ জন ও পাইকগাছা উপজেলার ১৯২৪ জন পোষ্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন ।

এ আসনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন তারা হলেন দাড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পি, হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ আসাদুল্লাহ আল গালিব, লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টির মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর ও কাস্তে প্রতীক নিয়ে কমিউনিস্ট পার্টির অ্যাডভোকেট প্রশান্ত কুমার মন্ডল। আসনটিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাড়িপাল্লা প্রতীকে প্রার্থী মাওঃ আবুল কালাম আজাদ ও বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মনিরুল ইসলাম বাপ্পি।