রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন তথ্য প্রচার এবং অনুমোদনহীন বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণে কঠোর হচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে জেল-জরিমানার বিধান রেখে ‘সম্প্রচার অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া প্রস্তুত করেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত এই আইনে জননিরাপত্তা রক্ষায় সামরিক-বেসামরিক গোপন তথ্য ফাঁস এবং জুয়া বা প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন প্রচারের ক্ষেত্রে কড়া শাস্তির প্রস্তাব করা হয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) চিঠি দিয়ে খসড়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত চাওয়া হয়েছে। ৩১ জানুয়ারির মধ্যে মতামত দিতে বলা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েই এই অধ্যাদেশ জারি করা হবে। খসড়া অধ্যাদেশের ৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী— এই অধ্যাদেশ জারির পর সরকার বিধান অনুযায়ী সম্প্রচার কমিশন নামে একটি কমিশন গঠন করবে।
সম্প্রচার কমিশন গঠনের লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বাছাই কমিটি গঠন করবে সরকার। এই কমিটি কমিশনার হিসেবে নিয়োগের জন্য যোগ্য ও বিশিষ্ট নাগরিকদের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা সরকারের কাছে সুপারিশ করবে। পাঁচ সদস্যের এই কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
কমিটিতে সদস্য হিসেবে আরও থাকবেন—
* সম্প্রচার কার্যক্রমে ন্যূনতম ১৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দুইজন বিশেষজ্ঞ।
* তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব।
* তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব (যিনি সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন)।
চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখতে এই বাছাই কমিটি প্রতিটি শূন্য পদের বিপরীতে দুইজন করে প্রার্থীর নাম সরকারের কাছে সুপারিশ করবে। পাশাপাশি, বাছাই কমিটি তাদের নিজস্ব সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণের এখতিয়ার পাবে। বাছাই কমিটির প্রস্তাবিত তালিকা থেকে সরকার সর্বোচ্চ চার বছরের জন্য একজন চেয়ারম্যান ও চারজন কমিশনার নিয়োগ দেবে। পাঁচ সদস্যের এই কমিশনে অন্তত একজন নারী কমিশনার রাখার বাধ্যবাধকতা থাকবে।