রামপালের দুই ইউনিয়নের সাথে উপজেলা
সদরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই
নিজস্ব সংবাদদাতা,ফয়লাহাট(রামপাল) বাগেরহাট : উপজেলার দুটি ইউনিয়নের সাথে উপজেলা সদরের সরাসরি কোনো সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু না থাকায় ওই দুই ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ ঝুকি নিয়ে নদী পার হয়ে ভ্যান, ইজিবাইক, মাহেন্দ্র অথবা মোটর সাইকেলে উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে থাকেন। এতে সময় বেশি ব্যয়ের পাশাপাশি দুরত্ব সাধারন মানুষকে ভোগান্তির মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
জানা গেছে উপজেলার দশ ইউনিয়নের মধ্যে ভোজপাতিয়া ও পেড়িখালি ইউনিয়নের রামপাল সদরের সাথে কোন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু নেই। এরফলে এ দুই ইউনিয়নের কয়েক মানুষ ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকায় মোংলা- ঘষিয়াখালি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেলের কুমারখালি ও রামপাল নদী পার হয়ে যাতায়াত করেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় নদী পারাপার বন্ধ থাকে। অনেক সময় ঝড়ের কবলে পড়ে এ দুই ঘাটে নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটেছে।
এ নদীর বাশতলী বাজার খেয়াঘাট ও ডাকরা স্কুল সংলগ্ন খেয়াঘাট পার হয়ে ভোজপাতিয়া ইউনিয়নের মানুষ প্রতিদিন কালিগঞ্জ বাজার হয়ে প্রায় ২০ কি.মি পথ ভ্যান গাড়ী , ইজিবাইক, মাহেন্দ্র, নছিমন অথবা মোটর সাইকেলে করে রামপাল সদরে আসা যাওয়া করে। এতে সময় ও দুরত্ব এ ইউনিয়নের সাধারন মানুষকে একটা ভোগান্তির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এ ইউনিয়নের কোনো এলাকার কোনো মানুষ গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে নদী পার না করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেয়ার মতো কোনো রাস্তা নেই। বেতকাটা বাজার থেকে ডাকরা খেয়াঘাট পর্যন্ত সাড়ে পাচ কিলেমিটার রাস্তা গত বছর কার্পেটিং দ্বারা উন্নয়ন করা হয়েছে।
এ ইউনিয়ন থেকে উপজেলা হাসপাতালের দুরত্ব প্রায় ১৮ কি.মি। কুমারখালি নদী পার হয়ে অনেক মানুষ এ ইউনিয়নের মধ্যে দিয়ে পার্শবর্তী মোংলা বন্দর ও মোরেলগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে থাকে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নিয়মিত নদী পার হয়ে যাতায়াত করেন এমন বেশ কয়েকজন বলেন ডাকরা ও কালিগঞ্জ খেয়া ঘাটের মধ্যে একটি ছোট আকারের ফেরি সার্ভিস চালু করলে এ ইউনিয়নের বাসিন্দাদের নদী পারাপারের দুর্ভোগ লাঘব হবে।
এদিকে পেড়িখালি ইউনিয়নের সাথে উপজেলা সদরের সরাসরি সড়ক যোগযোগ ব্যবস্থা না থাকায় মোংলা-ঘষিয়াখালি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেলের রামপাল নদী পার হয়ে এ ইউনিয়নের সাধারন মানুষ উপজেলা সদরে আসা-যাওয়া করে। ঝড় বৃষ্টি হলে নদী পারাপারে ঝুকি নিতে হয়। অতীতে এ ঘাট পার হতে গিয়ে নৌকা ডুবিতে প্রানহানির মতো ঘটনা ঘটেছে। তখন এ নদী অনেক চওড়া ছিল বলে সাধারন মানুষ জানান।
সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় রামপাল ও পেড়িখালি ঘাটের মধ্যে ১৯৯৬ সালে একটি ফেরি সার্ভিসের উদ্বোধন করা হয়। বেশ কিছুদিন ফেরি সার্ভিসটি চালূ থাকলেও পরে জ্বালানী সংকট আর নানা অব্যবন্থাপনার কারনে ফেরি সাভিসটি বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে প্রায় ৩০ বছর এ ঘাটে সাধারণ মানুষ নৌকায় পরাপার হচ্ছে। বাগেরহাট থেকে মোংলার জয়মনি সাইলো পর্যন্ত বাগেরহাট সড়ক বিভাগ একটি আঞ্চলিক সড়ক নির্মানের পাশাপাশি এ ঘাটে আবারও ফেরি সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএ ফেরি সার্ভিস চালু করলে পেড়িখালি ও রামপাল সদরের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার আরেকধাপ উন্নয়ন হবে। পেড়িখালি থেকে মোংলা বন্দরের সাথে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা আগে থেকে চালু থাকলেও রামপাল সদরের সাথে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিলনা। এলাকার সাধারন মানুষ বলছে সরাসরি পেড়িখালি ও রামপালের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকলেও ফেরি সার্ভিস চালু হলে চলাচলের সুবিধা বেড়ে যাবে।