স্টাফ রিপোর্টার : মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার খবরে খুলনায় জ্বালানি তেল নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বাস্তবে তেলের কোনো ঘাটতি না থাকলেও গুজবের কারণে নগরীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে অস্বাভাবিক ভিড় দেখা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও ‘তেল নেই’ লেখা সাইনবোর্ডও টানানো হয়েছে। এতে কৃত্রিম সংকট তৈরির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত দু’দিনে শুক্র ও শনিবার তিনভর নগরীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা যায়, অনেক গ্রাহক প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল সংগ্রহ করছেন। মোটরসাইকেলের ট্যাংকে পাঁচ থেকে ছয় লিটার তেল থাকা সত্ত্বেও অনেক চালক ট্যাংক পূর্ণ করতে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। অনেকেই আবার বাড়তি তেল প্লাস্টিকের ক্যানেও সংগ্রহ করছেন।
গ্রাহকদের অনেকেই জানান, ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তেলের সংকটের আশঙ্কার খবর দেখে তারা আগেভাগেই তেল সংগ্রহ করতে পাম্পে এসেছেন।
দু’দিনে নগরীর কয়েকটি পাম্পে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। দৌলতপুরের মেসার্স খুলনা ফিলিং স্টেশন, নতুন রাস্তা এলাকার মেসার্স এলেনা পেট্রোলিয়াম সাপ্লাই, নিউ মার্কেট এলাকার খুলনা মেট্রোপলিটন ফিলিং স্টেশন, গল্লামারীর মেট্রো ফিলিং স্টেশন এবং জিরো পয়েন্ট এলাকার শিকদার ফিলিং স্টেশনে তুলনামূলক বেশি ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে নগরীর অন্য অনেক পাম্পে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
পেট্রোল পাম্প মালিক ও শ্রমিক নেতারা বলছেন, তেলের প্রকৃত কোনো সংকট নেই। দৌলতপুরে অবস্থিত যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ডিপো থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৯ লাখ লিটার জ্বালানি তেল খুলনা, যশোর, বরিশালসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৬ জেলায় সরবরাহ করা হয়। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির খবরে গত দুই দিনে হঠাৎ করে তেলের চাহিদা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
ডিপোর এক কর্মকর্তা জানান, আগে প্রতিদিন প্রায় ৫০টি তেলবাহী গাড়ি লোড করা হতো। এখন সেই সংখ্যা বেড়ে ১৫০ থেকে ২০০টিতে দাঁড়িয়েছে। ভোক্তারা যাতে সমস্যায় না পড়েন, সে জন্য ডিপোতে অতিরিক্ত মজুদ রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে পাঁচ দিন পর্যন্ত স্বাভাবিক সরবরাহ চালিয়ে যাওয়ার মতো প্রস্তুতিও রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেকেই দৈনন্দিন ব্যবহারের বাইরে পাঁচ থেকে দশ লিটার করে প্লাস্টিকের ক্যানেও তেল সংগ্রহ করছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও চাপের মুখে ফেলছে।
বাংলাদেশ জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম বলেন, বাস্তবে তেলের কোনো ঘাটতি নেই। গুজব ও আতঙ্কের কারণে অনেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল নিচ্ছেন। এতে বাজারে অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি হচ্ছে।
বিভাগীয় জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ মুরাদ হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম নানা বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল। তবে ডিপোগুলোতে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। অযথা আতঙ্ক না ছড়িয়ে স্বাভাবিকভাবে তেল ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি।
যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ম্যানেজার (সেলস) মো. আব্দুল বাকী সাংবাদিকদের বলেন, প্রতিদিন মাদার ভেসেল থেকে নিয়মিত তেল আসছে এবং ডিপোতে কোটি লিটারেরও বেশি মজুদ রয়েছে। তাই সাধারণ মানুষের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।
তবে পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন, শুক্রবার ও শনিবার সরকারি ছুটির কারণে এই দুই দিন ডিপো থেকে নতুন করে তেল উত্তোলন করা যায় না। ফলে গ্রাহকরা যেভাবে তেল সংগ্রহ করছেন, তাতে কিছু পাম্পে সাময়িকভাবে অক্টেন শেষ হয়ে গেছে। এজন্য লিখে দেওয়া হয়েছে ‘তেল নেই’।