শেখ মনিরুল ইসলাম, দিঘলিয়া (খুলনা : নদীবেষ্টিত দিঘলিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠ গোছাতে ব্যস্ত। ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী একাধিক। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ ও জামায়াতের রয়েছে একক প্রার্থী। সাধারণ মানুষের কৌতুহলের শেষ নেই।
খুলনা শহরের কোল ঘেঁষে ভৈরব নদী বেষ্টিত দিঘলিয়া উপজেলা পরিষদ ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এরমধ্যে ২টি ইউনিয়ন রয়েছে শহরের উত্তর প্রান্তে আড়ংঘাটা ও যোগীপোল ইউনিয়ন। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হলেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা রয়েছেন মাঠে ময়দানে। রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রার্থীতা জানান দিচ্ছেন প্রার্থীদের সমর্থকরা।
সূত্রমতে, দিঘলিয়া উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন বিএনপির রয়েছে একাধিক প্রার্থী। এদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম সাইফুর রহমান মিন্টু। যিনি ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হয়েছিলেন। অবশ্য তিনি ওই নির্বাচনকে কারচুপির অভিযোগ এনে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। অপর প্রার্থী খুলনা জেলা বিএনপির সাবেক শ্রম সম্পাদক গাজী এনামুল হাচান মাসুম। তিনি গত ২০২৪ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হয়েছিলেন। এছাড়া উপজেলা পরিষদের একাধিক বার নির্বাচিত সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক শরীফ মোজাম্মেল হোসেন, খুলনা জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ পারভেজ সাজ্জাদ বাবলা। জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী দিঘলিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা মুশফিকুর রহমান। অপরদিকে মাঠে ময়দানে না থাকলেও ব্যাপক আলোচনায় রয়েছেন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক শ্রম সম্পাদক শেখ মারুফুল ইসলাম।
পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৮৬ সালে উপজেলা পরিষদ সৃষ্টি থেকে অদ্যবধি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে পুরোটা সময় জুড়ে দায়িত্বে ছিলেন জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ সমর্থিতরা।
পরিষদের প্রথম নির্বাচনে জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী এস এম এ রব চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় তিনি তার মেয়াদকাল পূর্ণ করতে পারেননি। উপ- নির্বাচনে জাতীয় পার্টি সমর্থিত মল্লিক মহিউদ্দিন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তী আরও ২বার তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খান নজরুল ইসলাম নির্বাচিত হন।ওই নির্বাচনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হেরে যান উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম সাইফুর রহমান মিন্টু। তিনি নির্বাচনকে কারচুপির নির্বাচন আখ্যায়িত করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। এরপর ২টি নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে আওয়ামীলীগ নেতা শেখ মারুফুল ইসলাম পরপর নির্বাচিত হন। আসন্ন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে অংশ গ্রহণ করবেন বলে তিনি পূর্বাঞ্চলকে জানিয়েছেন।