/ নগরীতে শ্রমিক দল নেতাকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা

নগরীতে শ্রমিক দল নেতাকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা

মেয়ের সামনেই বাবা খুন

স্টাফ রিপোর্টার : নগরীর প্রাণকেন্দ্র ডাকবাংলা এলাকায় মাসুম বিল্লাহ নামের এক শ্রমিক দল নেতাকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। গতকাল বুধবার রাত ৯টার দিকে বাটা শো-রুমের ভেতরে স্ত্রী ও মেয়ের সামনেই এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে বিদেশী পিস্তলসহ অশোক নামের এক সন্ত্রাসীকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার সময় ভুক্তভোগীরা ঈদের কেনাকাটা করতে ব্যস্ত ছিলেন। নিহত মাসুম বিল্লাহ রূপসা-বাগেরহাট আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি। এছাড়াও তিনি নৈহাটি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল ওরফে মিনা কামালের ভাই। তিনিও ২০২০ সালে র‌্যাবের গুলিতে নিহত হন।


পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মাসুম রাত ৯টার দিকে ডাকবাংলাস্থ বাটা শোরুমের ভিতরে পরিবারসহ কেনাকাটা করছিলেন। এসময় ৭ জন অস্ত্রধারীর একটি দল এসে মাসুম বিল্লাহকে লক্ষ্য করে প্রথমে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি ঘটনাস্থলে পড়ে গেলে পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।


পালিয়ে যাওয়ার সময় অশোক ঘোষ নামের একজনকে স্থানীয় জনতা আটক করে। প্রথমে তাকে পাশের একটি দোকানের মধ্যে রাখা হলে উত্তেজিত জনতা তাকে তাদের হাতে ছেড়ে দিতে বলে। পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।


খবর পেয়ে পুলিশ এসেও নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে পরে সেখানে সেনাবাহিনী এসে রাস্তা ফাঁকা করে আটক অশোক ঘোষকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে নেয়। অশোক ঘোষের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।


খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, রাত ৯টার দিকে ডাকবাংলো বাটা বাজারের মধ্যে ৭ জনের একটি অস্ত্রধারী দল এসে মাসুম বিল্লাহকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে। এসময় জনতা একজনকে আটক করে। অন্যদের পুলিশ গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে হত্যার কারণ জানা যায়নি। তিনি বলেন, অশোক তার সঙ্গে থাকা অন্যদের নাম পরিচয় প্রকাশ করেছে। তিনি খুলনার একটি শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য। তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।


এদিকে, ঘটনার পর পরই গুলিবিদ্ধ মাসুম বিল্লাহকে রক্তাক্ত অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


খবর পেয়ে নিহতের অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনও হাসপাতালে জড়ো হতে থাকেন। সেখানে তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
কেএমপির একজন কর্মকর্তা জানান, ঘটনাটি টার্গেট কিলিং বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যার পেছনে পূর্বশত্রুতা, শ্রমিক সংগঠনের দ্বন্দ্ব বা আধিপত্য বিস্তার কি না এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


নিহত মাসুম বিল্লাহ খুলনার রূপসা উপজেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এবং উপজেলা শ্রমিকদলের সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি গত সরকারের সময় বন্দুকযুদ্ধে নিহত নৈহাটি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা ওরফে মিনা কামালের ছোট ভাই। রূপসা উপজেলার বাগমারা পেট্রোল পাম্পের পাশে তার বাড়ি।