রামপাল খানজাহান আলী বিমানবন্দর
নিজস্ব সংবাদদাতা, ফয়লাহাট (রামপাল) বাগেরহাট : ক্ষতিপুরন প্রাপ্তির পরও বাগেরহাটের রামপালে খানজাহান আলী বিমানবন্দরের অধিগ্রহন করা জমিতে থাকা স্থাপনা ও গাছপালা নিলামে না তোলায় প্রতিনিয়ত স্থানীয় এক শ্রেনির লোক স্থপনা ও গাছপালা চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে।
জানা গেছে রামপাল উপজেলার ফয়লাহাটে ধলদাহ- ঝালবাড়ি মৌজায় বিগত ১৯৯১ সালে তৎকালিন বিএনপি সরকার প্রাথমিক ভাবে ৯৭ একর ভুমি অধিদগ্রহন করে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়া এ বিমান বন্দরের নির্মান প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। ওই সময় এ বিমান বন্দরের নাম দেয়া হয় খানজাহান আলী বিমান বন্দর। এ প্রকল্পের উদ্বোধনের পর কোনো উন্নয়ন কাজ হয়নি।
এরপর ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় এসে এ বিমান বন্দরের মাটি ভরাটের কাজ শেষ করে। এরপর আর ওই সরকারের আমলে আর কোনো উন্নয়ন হয়নি। পরবর্তীতে ২০০১ সালে বিএনপি সরকার আবারো ক্ষমতায় আসলেও এ বিমান বন্দরের কোনো উন্নয়ন কাজ করেনি। এরফলে থমকে থাকে উন্নয়ন কাজ।
২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় এসে মোংলা বন্দর, বিশ্ব ঐতিয্য সুন্দরবন, বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাট গুম্বজ মসজিদ, মোংলা ইপিজেডসহ নানা গুরুত্বপুর্ণ ইতিহাস- ঐতিয্যের উপর ভিত্তি করে স্টল বিমান বন্দকে একটি পুর্নাঙ্গ বিমান বন্দর নির্মানের উদ্যেগ নেয়। এরপর স্থানীয় উজলকুড় ইউনিয়নের ৯টি মৌজায় এল এ কেস নং ০৫/২০১৬-২০১৭ এর মাধ্যমে ৫২৯.০৮৫০ একর ভুমি অধিগ্রহন করা হয়।
বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের এল এ শাখার একটি সুত্র জানায় অধিগ্রহন করা ৯ মৌজায় অধিগ্রহন করা ভুমির ক্ষতিপুরনের অর্থ পরিশোধের পাশাপাশি গাছপালা ও স্থাপনার অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। এরপর বাংলাদেশ বেসামরিক বিমানচলাচল কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আমিনুল হাসিব স্বাক্ষরিত বিগত ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর সংশ্লিষ্ট বিভাগের পরিচালক ( সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা) কে খানজাহান আলী বিমান বন্দরের অধিগ্রহনকরা স্থাপনা ও গাছপালা নিলামে বিক্রির নির্দেশনা দেন।
ওই নির্দেশনার পর প্রায় পনের মাস অতিবাহিত হলেও স্থাপনা ও গাছপালা নিলামে তোলা হয়নি। অধিগ্রহনকৃত জমির পুর্বের কিছু মালিকগন অধিগ্রহনকৃত জমিতে বসবাস ও চাষাবাদ করছে। তবে স্থানীয় এক শ্রেনির লোক ঘরবাড়ি ও গাছপালা চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। এতে সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি ও অধিগ্রহনকৃত ভুমি বেদখল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এমনটা মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
স্থানীয় ভাবে বিমান বন্দরের নির্মান কাজ দেখাশুনা করেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এমন একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন অধিগ্রহন করা ভুমি সীমানা প্রাচীরের আওতায় আনা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এতো বড়ো এরিয়া পাহারা দেয়া কঠিন। অনেক স্থানে গাছপালা ও স্থাপনার অংশ চুরির কথা স্বীকার করে তিনি বলেন এতো বড় এরিয়ায় কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। তারপরও চুরি ঠেকাতে দ্রুত নিলাাম প্রক্রিয়া শেষ করার উদ্যেগ নেয়া হবে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সিভিল সার্কেল প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চ.দা) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন পরিচালক (সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা) কেখানজাহান আলী বিমান বন্দরের স্থাপনা ও গাছপালা নিলামে তোলার জন্য ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নির্দেশনার পর প্রায় দেড় বছরেও কেনো নিলামে তোলা হয়নি সে প্রসঙ্গে তিনি না জেনে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।