/ বদরের চেতনায় ইনসাফপূর্ণসমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে

বদরের চেতনায় ইনসাফপূর্ণসমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে

বদর দিবসের আলোচনায় এড. হেলাল এমপি

খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি এ্যাড. শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি বলেছেন, “দেশ ও সমাজে বিরাজমান অন্যায়-অনাচার প্রতিরোধ করা এবং সত্য ও ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রচেষ্টা চালানোই বদর যুদ্ধের শিক্ষা ও চেতনা। সকলকে বদরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সমস্ত অন্যায় অরাজকতা রুখে দাঁড়াতে হবে। তবেই ইনসাফ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে।”


গতকাল শনিবার বিকেলে নগরীর আল ফারুক সোসাইটি কমপ্লেক্স ময়দানে ১৭ রমাদান ঐতিহাসিক বদর দিবস উপলক্ষে মহানগর ছাত্রশিবির আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।


মহানগর ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি এ্যাড. জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল আরও বলেন, “বদর ছিলো অসত্যের বিরুদ্ধে সত্য প্রতিষ্ঠার আদর্শিক লড়াই। বদরের যুদ্ধ কেবল একটি সামরিক বিজয় ছিল না, বরং এটি ছিল ঈমান, ত্যাগ ও আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থার এক অনন্য পরীক্ষা। মাত্র ৩১৩ জন সাহাবির বিপরীতে হাজারো অস্ত্রসজ্জিত কুরাইশ বাহিনীর বিরুদ্ধে সংঘটিত এই যুদ্ধে ঈমানের শক্তি ও আত্মত্যাগের মাধ্যেমে বিজয় অর্জিত হয়েছিল। বর্তমান সময়েও আমাদের সেই চেতনা থেকে শিক্ষা নিতে হবে।”


ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও মহানগর সভাপতি রাকিব হাসানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক হাফেজ ইউসুফ ইসলাহী।


প্রধান বক্তার আলোচনায় হাফেজ ইউসুফ ইসলাহী বলেন, “সত্য এবং মিথ্যার পার্থক্যকারী ময়দানের নাম বদর। ইসলামের অগ্রযাত্রা এ ময়দান থেকে শুরু হয়েছিল। বিশ্ববাসীকে ইসলামি শক্তির বার্তা দেওয়া হয়েছিল বদর প্রান্তর থেকে। সংখ্যা নয়, বরং আল্লাহর ওপর অবিচল ঈমানি দৃঢ়তা ও নৈতিক মানে উত্তীর্ণ হওয়ার কারণে সেদিন দ্বীনের মুজাহিদরা সরাসরি আল্লাহর সাহায্য পেয়েছিলেন। আজও দ্বীনের বিজয় করতে হলে ইসলামী আন্দোলনের জনশক্তিদের সেই ঈমানি দৃঢ়তা, সাহসীকতা, আনুগত্য ও নৈতিক মানে উন্নিত হতে হবে। আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস সুদৃঢ় করে বাতিলের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রেখে বিজয়ের দিকে অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে।”


মাহনগর শিবিরের সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেনের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল জাহাঙ্গীর আলম, মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা শাহারুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের সাবেক মহানগর সভাপতি মাওলানা জাহিদুর রহমান নাঈম প্রমুখ।


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রিন্সিপাল জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “বদর ছিল ইসলামের প্রথম ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ, যা ইসলামের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। এই যুদ্ধ আমাদের শেখায় কীভাবে ঈমান, একতা ও আল্লাহর ওপর নির্ভরশীলতা যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় শক্তি দিতে পারে।”

মহানগর শিবির নেতৃবৃন্দের মধ্যে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন দপ্তর সম্পাদক আহমেদ সালেহীন, বায়তুলমাল সম্পাদক কামরুল হাসান, প্রচার সম্পাদক এস এম বেলাল হোসেন, সাহিত্য সম্পাদক আব্দুর রশিদ, প্রকাশনা ও মিডিয়া সম্পাদক ফারহান তূর্য, প্ল্যানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক ইমরানুল হক, পাবলিক রিলেশন ও ক্রীড়া সম্পাদক সেলিম হোসেন, ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক গোলাম মুয়িজ্জু, তথ্যপ্রযুক্তি ও গবেষণা সম্পাদক জে আই সাবিত, স্কুল ও বিতর্ক সম্পাদক আদনান মল্লিক যুবরাজ, মাদরাসা ও তথ্য সম্পাদক হাফেজ নাঈম হোসাইন, গবেষণা সম্পাদক হামজা, পরিবেশ ও ফাউণ্ডেশন সম্পাদক সুলাইমান আবিদ, কলেজ ও ছাত্র অধিকার সম্পাদক হযরত আলী, পাঠাগার ও সমাজসেবা সম্পাদক হাবিবুল্লাহ রাজু প্রমুখ।