/ বসত বাড়িতে অগ্নিসংযোগ

বসত বাড়িতে অগ্নিসংযোগ

নড়াইল গোপালগঞ্জ ও সাতক্ষীরায় প্রতিপক্ষের
হামলায় পিতা-পুত্রসহ ৬ জন নিহত, আহত ১৫

নড়াইলপ্রতিনিধি \ নড়াইল, গোপালগঞ্জে ও সাতক্ষীরার কলারোয়ায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় বাবা ছেলেসহ ৬ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে ১৬জন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাযায়, গতকাল সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারী) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নড়াইল সদর উপজেলার সিংগাশোলপুর ইউনিয়নের বড়কুলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন-বড়কুলা গ্রামের খলিল শেখ (৭০), তার ছেলে তাহাজ্জত শেখ (৪১), ফেরদাউস হোসেন (৪০) ও ওসিকুর ফকির (৩৬)। নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার হত্যাকান্ডের বিষয় নিশ্চিত করেছেন। আহত হয়েছে আরও ৫/৬জন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে শিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যার খায়রুজ্জামান খয়ের মোল্যার পক্ষের রহমত হোসেনের লোকজনের সঙ্গে খলিল শেখের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। নিহতরা তারাপুর গ্রামের বাসিন্দা হলেও শান্তিপুর্ণভাবে বসবাস করার আশায় ১০ বছর আগে পার্শ্ববর্তী বড়কুলা গ্রামে এসে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু সেখানে গিয়েও গ্রাম্য কোন্দল থেকে রেহায় প্নানি। এখানেও দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
নিহত খলিল খলিল শেখের স্ত্রী মঞ্জুরা বেগম (৬৫) জানান, সোমবার ভোর রাতে সেহেরী খেয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পাশ্ববর্তী তারাপুর গ্রাম থেকে সাবেক চেয়ারম্যার মো: খায়রুজ্জামান ওরফে খায়ের মোল্যার ৫০/৬০ জন সমর্থক দশীয় অস্ত্রশস্ত্রাদি নিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে। এসময় তার স্বামী ও ছেলেকে কথা আছে বলে ঘর থেকে বের করে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বেপরোয়াভাবে শরীরের বিভিন্নস্থানে কুপিয়ে নৃশংশভাবে হত্যা করে। এছাড়া তাদের পক্ষের ফেরদাউসকেও একইভাবে কুপিয়ে হত্যা করে চলে যায়। ঘটনাস্থলে ফেরদৌস সহ তিনজনেরই মৃত্যু হয়।
এদিকে এ ঘটনায় প্রতিপক্ষ গ্রুপের আহত ওসিকুর ফকিরকে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তির পর মারা যান। এছাড়া আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পর নড়াইলের পুলিশ সুপার আল মামুন সিকদারসহ পুলিশের কর্মকর্তা ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে যান। এসময় আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন।
পুলিশ মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। মঙ্গলবার ময়নাতদন্ত শেষে মৃতদেহগুলি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
নড়াইলের পুলিশ সুপার আল মামুন সিকদার বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে খায়ের গ্রুপের হামলায় তিনজন এবং অপরপক্ষের একজন নিহত হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি সাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে খবর শুনে নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার সহ যাতে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি হয় সে ব্যাপারে নিহতের স্বজনদের আশ্বস্ত করেন।
এছাড়া জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এদিকে এ ঘটনায় ৫/৬ জনকে আইন শৃংখলা বাহিনী আটক করার খবর শোনা গেলেও পুলিশের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়নি।
\গোপালগঞ্জ\
এদিকে আমাদের মুকসুদপুর (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান,
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘের্ষে ১ জন নিহত ও আরও ১০ জন আহত হয়েছেন। নিহতের নাম নিলু মুন্সী(৫০)। তিনি কমলাপুর গ্রামের আনোয়ার মুন্সীর ছেলে।
জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুই গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আজ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে মুকসুদপুর উপজেলার কমলাপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আনোয়ার মুন্সী গ্রুপ ও নূর ইসলাম গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের নারীসহ অন্তত ১১ জন আহত হন।
প্রথমে আহতদেরকে মুকসুদপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে মারাত্মক আহত নিলু মুন্সী (৫০), তার স্ত্রী রুপা বেগম (৪০), তার অপর আহত ভাই মিলন মুন্সী (৫২), দুলাল মুন্সীকে (৪০) ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিতসার জন্য নেয়া হলে সেখানে নিলু মুন্সীকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অপর পক্ষের নূর ইসলামকে (৩৩) মুকসুদপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং অন্যদেরকে মুকসুদপুর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ঘটনাস্থলে পুলিশের পাশাপাশি সেনা ও র‌্যাব সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন।
\সাতক্ষীরার \
অপরদিকে আমাদের কলারোয়া(সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি জানান, কলারোয়ায় তুচ্ছ ঘটনায় প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে ইব্রাহিম হোসেন(২৮) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন তার বড় ভাই রুহুল আমিন (৩৪)। এ ঘটনায় একই পরিবারের চারজনকে আটক করেছে থানা পুলিশ। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার ৮নং কেরালকাতা ইউনিয়নের সাতপোতা বেড়বাড়ি গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।
হতাহত দু’ভাই একই গ্রামের ছলেমান শেখের ছেলে। নিহত ইব্রাহিম হোসেন পেশায় ভ্যানচালক। তিনি এক সন্তানের জনক এবং বর্তমানে তার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা গেছে।
নিহত ইব্রাহিম হোসেনের স্ত্রী মেঘলা খাতুন সাংবাদিকদের জানান- বাড়ির পাশের একটি মুরগির খামারের দুর্গন্ধময় পরিবেশ সৃষ্টি করাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে প্রতিবেশী জামাল উদ্দিনের ছেলে আরিফুল ইসলাম তার স্বামী ইব্রাহিম হোসেন ও ভাসুর রুহুল আমিনকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে। মারাত্মক আহত অবস্থায় স্বামীকে কলারোয়া হাসপাতালে এবং ভাসুরকে সাতক্ষীরা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
কলারোয়া হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার ডাক্তার ফারজানা রহমান জানান- বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ইব্রাহিম হোসেনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। ততক্ষণে ইব্রাহিম হোসেন মারা যান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কলারোয়া থানার ওসি এইচএম শাহিন জানান- খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে থানায় নিয়ে আসে। তারা হলেন কেরালকাতা ইউনিয়নের বেড়বাড়ি গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে আরিফুল ইসলাম (২৮), তার স্ত্রী সাথী আক্তার (২৫), আরিফুলের পিতা মৃত আবুবক্কার গাজীর ছেলে জামাল উদ্দিন (৬২), তার স্ত্রী শাহানারা খাতুন (৫৫)। তিনি আরও জানান, সাতক্ষীরা মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।