/ বাগেরহাটে মাজারের দিঘিতে কুমিরের মুখে কুকুর—ভাইরাল ভিডিও ঘিরে গুজব

বাগেরহাটে মাজারের দিঘিতে কুমিরের মুখে কুকুর—ভাইরাল ভিডিও ঘিরে গুজব

সরেজমিনে মিলল ভিন্ন তথ্য

মাজারের গার্ড মো. ফোরকান জানান, “এটি কোনো পরিকল্পিত ঘটনা নয়। কুকুরটি অসুস্থ ছিল এবং আগে কয়েকজন মানুষ ও পশুকে আক্রমণ করেছিল। পরে লোকজন তাড়া দিলে দৌড়াতে গিয়ে দিঘির ঘাটের দিকে চলে আসে। তখনই কুমিরটি তাকে ধরে ফেলে।”

বাগেরহাট প্রতিনিধ : বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হজরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারের দিঘিতে কুমিরের মুখে একটি কুকুর পড়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই দাবি করেন, কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের সামনে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তবে সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ঘটনাটির পেছনের বাস্তবতা ভিন্ন এবং এটি পরিকল্পিত নয়, বরং একটি আকস্মিক দুর্ঘটনা।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, দিঘির পানিতে একটি কুকুরকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে একটি কুমির। এ দৃশ্য দেখে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টিকে নির্মমতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। তবে মাজার এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভিডিওটি নিয়ে যে গুজব ছড়ানো হয়েছে, তার সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই।

মাজারের গার্ড মো. ফোরকান জানান, “এটি কোনো পরিকল্পিত ঘটনা নয়। কুকুরটি অসুস্থ ছিল এবং আগে কয়েকজন মানুষ ও পশুকে আক্রমণ করেছিল। পরে লোকজন তাড়া দিলে দৌড়াতে গিয়ে দিঘির ঘাটের দিকে চলে আসে। তখনই কুমিরটি তাকে ধরে ফেলে।”

প্রত্যক্ষদর্শী ও মাজার ঘাটের এক দোকানদার বলেন, “কুকুরটির আচরণ অস্বাভাবিক ছিল। মানুষজন ভয়ে তাড়া দিলে সেটি পানির দিকে চলে যায়। এরপর হঠাৎ কুমির এসে ধরে ফেলে। এখানে কেউ ইচ্ছা করে কিছু করেনি।”


স্থানীয়দের দাবি, দিঘির কুমিরগুলো ঐতিহাসিকভাবে খানজাহান আলীর রেখে যাওয়া নয়। ২০০৫ সালে ভারত থেকে এসব কুমির আনা হয়। স্বভাবগত কারণেই এসব কুমির হিংস্র। এর আগেও একাধিকবার কুমিরের আক্রমণে মানুষ আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, এমনকি দুজনের মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে বলে জানান তারা।


এছাড়া সম্প্রতি পূর্ণিমার সময় কুমিরটি ডিম দিয়েছে বলেও জানা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিম দেওয়ার সময় কুমির স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে, যা এ ধরনের ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।


এদিকে ঘটনাটি তদন্তে বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিয়া খাতুনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং প্রাথমিক অনুসন্ধানে কুকুরটিকে বেঁধে কুমিরের সামনে দেওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।


তিনি আরও বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিও দেখে বিভ্রান্ত না হয়ে যাচাই-বাছাই করে তথ্য গ্রহণ করা উচিত।”
ঘটনাটি ঘিরে সংশ্লিষ্টরা দর্শনার্থীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে গুজব বা যাচাইবিহীন তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।