/ বিএনপি’র গলার কাঁটা বিদ্রোহীসুযোগ নিতে চায় জামায়াত

বিএনপি’র গলার কাঁটা বিদ্রোহীসুযোগ নিতে চায় জামায়াত

বাগেরহাট ১ আসন

শফিকুল ইসলাম সাফা চিতলমারী (বাগেরহাট): বাগেরহাট ১ আসনে এবার চতুর্মুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এখানে বিএনপি’র মনোনয়ন পেয়েছেন মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের সাধারন সম্পাদক কপিল কৃষ্ণ মন্ডল। আসনটিতে প্রায় এক চতুর্থাংশ হিন্দু ভোটার থাকায় এবং একটি বড় দলের প্রার্থী হওয়ায় জয়ের ব্যাপারে আশাবাদি তিনি। তবে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে বাগেরহাট ২ আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য এম,এ,এইচ সেলিম স্বতন্ত্র প্রাথী হিসেবে ঘোড়া ও জেলা বিএনপি সদস্য ইনঞ্জিনিয়ার মাসুদ রানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতিক নিয়ে মাঠ গরম করছেন। মাসুদ রানা বিগত ২০১৮ সালে এ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসের শূরা সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান খাঁন দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। এ চার প্রার্থীর মধ্যেই মুল লড়াইয়ের সম্ভবনা দেখছেন সাধারন ভোটাররা। তবে এ আসনে ইসলামী আন্দোলনের কোন প্রার্থী না থাকায় তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী মাসুদ রানার ফুটবল প্রতীকে সমর্থন দিয়েছেন। ফকিরহাট-মোল্লাহাট ও চিতলমারী উপজেলা নিয়ে গঠিত এআসনটির মোট ভোটারের সংখ্যা ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৫৬০,নারী ভোটার ১লাখ ৮৪হাজার ৭২০, পুরুষ ১লাখ ৯০হাজার ৮৩৮ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২জন। অন্যদিকে আসনটিতে জামায়াত কখনো ভাল অবস্থানে না থাকলেও এবার মরণপন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এআসনটিতে নিজেদের অবস্থান অনেকটা সুসংহত করতে সক্ষম হয়েছে এবং শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তারা ভোটারদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করছেন। এ তিন উপজেলায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সনাতন ধর্মাবলন্বী(হিন্দু) ভোটের সংখ্যা বেশী থাকায় অতীতের বিভিন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জয় পরাজয়ে এসব ভোটের বড় ভূমিকা দেখা গেছে। এবার নির্বাচনে বিএনপির মতো বড় দল থেকে সনাতন ধর্মের প্রার্থী হওয়ায় এ ভোট ধানের শীষে যাবে বলে অভিজ্ঞমহল মনে করছেন। এদিক দিয়ে বিএনপির প্রার্থী জয়ের ব্যাপারে অনেকটা আশাবাদি।
কিন্তু আসনে বিএনপি’র গলার কাঁটা হিসেবে সামনে এসেছেন বিদ্রোহী প্রার্থী এম,এ,এইচ সেলিম ও ইনঞ্জিনিয়ার মাসুদ রানা। ছাড়া দিতে নারাজ এদুই বিদ্রোহী স্বতন্ত্ররা-পিছিয়ে নেই । এ আসনে বিএনপি’র ভোট ৩ ভাগে বিভক্ত হতে পারে বলে অকেকের ধারনা। এসুযোগ কাজে লাগাতে চাচ্ছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের অধ্যক্ষ মওলানা মশিউর রহমান খাঁন। অনেক ভোটারের মতে বিএনপি’র ভোট বিভক্ত হলে জামায়াত প্রার্থী অপ্রত্যাশিত সুবিধা পেতে পারে।
স্বধীনতা পরবর্তী সময়ে অসনটিতে বেশীর ভাগ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ বিজয়ী হয়েছে। ১৯৮৬ থেকে শুরু করে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১১বার আওয়ামীলীগের দখলে ছিল। তবে ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি ও ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে বিএনপি এখান থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ছিলেন। যদিও এ ২টি নির্বাচনে আ’লীগ অংশগ্রহন করেননি। আওয়ামীলীগ নিষিদ্ধ থাকায় এবারের নির্বাচনে না থাকলেও দলটির ভোট জয় পরাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় তাদের অভেদ্য দুর্গে এবার পরিবর্তনের পালা। কে পরবেন এবার বিজয়ের মালা সে বিষয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চলছে নানা চুলচেরা বিশ্লেষন ও জল্পনা-কল্পনা। অতীতের চেয়ে এবার প্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে অনেক। উৎসব মুখর পরিবেশে এবার ভোট দিতে পারবেন ভোটাররা এমনই প্রত্যাশা তাদের।
৮ জন প্রার্থী এবার এ আসন থেকে নির্বাচন করছেন। তারা হলেন বিএনপি’র কপিল কৃষ্ণ মন্ডল, জামায়াতের অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান খান,স্বতন্ত্র এম,এএইচ সেলিম,ইনঞ্জিনিয়ার শেখ মাসুদ রানা,জাতীয় পার্টিও স,ম, গোলাম সরোয়ার,এবি পার্টির মো. আমিনুল ইসলাম,বাংলাদেশ মুসলিম লীগ বিএমএল আ. সবুর শেখ,বাংলাদেশ মুসলিম লীগের এম.ডি. শামসুল হক।