নারীদের অবহেলার সুযোগ নেই : বিভাগীয় কমিশনার
স্টাফ রিপোর্টার : বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে খুলনায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়েছে।
গতকাল রবিবার খুলনা জেলা প্রশাসন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও জাতীয় মহিলা সংস্থার যৌথ উদ্যোগে এবং বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সহায়তায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার—সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’ প্রতিপাদ্য নিয়ে সকালে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, নারীদের অবহেলার কোন সুযোগ নেই। প্রতিবছর সারা বিশ্বের ন্যায় ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ আমরা যথাযথ সম্মানের সাথে পালন করে থাকি। অসমতা পুরুষের সাথে নয় সেটা হয়ে থাকে নারীদের সাথে। নারীদেরকে একজন মা, বোন বা স্ত্রী না ভেবে তাকে প্রথমত একজন মানুষ ভাবা আমাদের প্রত্যেকের উচিত। এমনকি তাদের শ্রমের সঠিক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নিশ্চয়তা প্রদান করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। নারীদের প্রতি সমবেদনা নয়, তাদের সকল অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা আমাদের কর্তব্য। প্রধান অতিথি আরও বলেন প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে নারীদের জন্য যদি আমরা একটি কমফোর্ট রুমের ব্যবস্থা রাখতে পারি তাহলে নারী-কর্মীরা তাদের কর্মক্ষেত্রে একদিকে যেমন তাদের ব্যক্তিগত কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপদবোধ করবে পাশাপাশি দাপ্তরিক কাজও তারা সুন্দরভাবে করতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনার জেলা প্রশাসক আ. স. ম জামশেদ খোন্দকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) কানিজ ফাতেমা লিজা এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা মাসাসের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট শামীমা সুলতানা শিলু। স্বাগত বক্তব্য দেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সুরাইয়া সিদ্দীকা।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও নারী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে প্রধান অতিথি খুলনা কালেক্টরেট প্রাঙ্গণে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে বিভাগীয় কমিশনার মোখতার আহমেদের নেতৃত্বে শহীদ হাদিস পার্ক থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কালেক্টরেট প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। এতে নারী সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
জিসিএ প্রকল্প ঃ আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার—সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খুলনায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন করা হয়েছে।
গতকাল রবিবার নগরীর হোটেল খুলনা সিটিইন এ জেন্ডার-রেস্পনসিভ কোস্টাল অ্যাডাপ্টেশন (জিসিএ) প্রকল্পের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর খুলনার উপ-পরিচালক সুরাইয়া সিদ্দিকা।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি, জিসিএ প্রকল্পের উপকারভোগীদের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জিসিএ প্রকল্পের প্রতিনিধিরা প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। পরে প্রকল্পের কর্মক্ষেত্র—জীবিকায়ন ও পানি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে উপকারভোগীদের প্রতিনিধিরা তাদের অভিজ্ঞতা, দাবি ও মতামত উপস্থাপন করেন।
পরবর্তীতে বিভিন্ন সরকারি খাতে নারীদের অংশগ্রহণ ও অংশীদারিত্ব কীভাবে আরও বাড়ানো যায় সে বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, জেন্ডার-রেস্পনসিভ কোস্টাল অ্যাডাপ্টেশন (জিসিএ) প্রকল্পটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ডের অর্থায়নে এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার পাঁচটি উপজেলায় প্রকল্পটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথ এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে।
নাইস ফাউন্ডেশন ঃ বেসরকারি সংস্থা নাইস ফাউন্ডেশন-এর বাস্তবায়নে গতকাল রবিবার “আন্তর্জাতিক নারী দিবস” উদযাপন উপলক্ষ্যে র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিঘলিয়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নবনীতা দত্ত। সম্মাানিত অতিথি ছিলেন দিঘলিয়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো: সোহাগ হোসেন এবং সভাপতিত্ব করেন প্রোগ্রাম পরিচালক রাবেয়া সুলতানা। সার্বিক অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন প্রকল্প সমন্বয়কারী আফরোজ জাহান।