/ ভূমিহীনদের মানবেতর জীবন- যাপন

ভূমিহীনদের মানবেতর জীবন- যাপন

রামপালে পাঁচটি আবাসন ১৫ বছরেও সংস্কার হয়নি

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফয়লাহাট( রামপাল) বাগেরহাট : বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলায় নির্মানের পর পাঁচটি আবাসন প্রকল্প দীর্ঘ ১৫ বছরেও সংস্কার করা হয়নি। উপকারভোগীরা সংস্কারের অনুপযোগী ওইসব আবাসনে বছরের পর মানবেতর জীবন- যাপন করছে। অনেকে বসবাস করতে না পেরে আবাসন ছেড়েছে।
রামপাল উপজেলা ত্রান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের একটি সুত্র জানায় আনুমানিক বিগত ২০১০ সালে উপজেলার বাঁশতলী ইউনিয়নের মুজিবনগর, উত্তর গৌরম্ভা, কাষ্টবাড়িয়া, পেড়িখালী ইউনিনের সিকিরডাঙ্গা, শ্রীফলতলায় বাংলাদেশ সেনবাহিনীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে এসব আবাসন প্রকল্পে সেমিপাকা ব্যারাক নির্মান করা হয়। প্রতিটি আবাসনে ৮টি করে ব্যারাক রয়েছে।
এসব আবাসনে রড, সিমেন্ট, বালির সংমিশ্রনে কংক্রিটের খুটি ও লোহার এ্যাংগেলের উপর টিনের ছাউনি বিশিষ্ট ৮টি করে ব্যারাক নির্মান করা হয়। ভুমিহীন যাচাই বাছাই শেষে প্রতিটি ব্যারাকে ১০টি করে ভুমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়। পুনর্বাসনের পর আনুমানিক ৮-৯ বছর পরিবারগুলো নিশ্চিন্তে বসবাস করতে পারলেও লবনাত্ক আবহাওয়ায় আস্তে আস্তে ব্যারাকগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে।
মুজিবনগর আবাসনে বসবাস করে এমন তিনটি ভুমিহীন পরিবারের সদস্যরা জানান লবনাক্ত এলাকায় ব্যারাকগুলো নির্মানের ৮-৯ বছর পর ব্যারাকের চালায় ও বেড়ার টিনে মরিচায় পড়তে শুরু করে। আস্তে আস্তে মরিচা ধরা টিনে ছিদ্র হয়ে যায়। খুটি থেকে সিমেন্ট বালির পলেস্তারা খুলে পড়ে। এখন শুধূমাত্র রডের উপর অবকাঠামো দাড়িয়ে আছে। মেঝে প্লাস্টার না করায় মাটিতেই মাদুর- পাটি বিছিয়ে রাত কাটাতে হয়। আকাশে মেঘ দেখলে মনে শংকা জাগে। ঝড়ে যে কোনো সময় ব্যারাকগুলো উড়িয়ে নিয়ে যেতে পারে।
বর্ষাকালে উপকারভোগীদের দুর্ভোগ চরমে ওঠে। ব্যারাকের নীচ থেকে উপরের দিকে তাকালে আকাশ দেখা যায়। বৃষ্টি হলে পানিতে ভেতরে সয়লাভ হয়ে যায়। বেশির ভাগ বাসিন্দা বৃষ্টির পানি ঠেকাতে ব্যারকের চালার উপর ও মরিচায় খাওয়া বেড়ার টিনের ছিদ্রে পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিয়েছেন। বেশি বৃষ্টিতে ভিতরে পানি পড়লে অনেক সময় নির্ঘুম রাত কাটাতে হয় বাসিন্দাদের। এখন আকাশে মেঘ দেখলেই তাদের মনে শঙ্কা জাগে। একাধিকবার ঝড়ে বেশির ভাগ আবাসনের ঘরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
প্রতিটি আবাসনের বসত ঘরের পাশাপাশি রান্না-ঘর ও টয়লেটের অবস্থা আরও শোচনীয়। বৃষ্টি হলে রান্না বন্ধ রাখতে হয়। নাক-মুখ চেপে টয়লেট যেতে হয়। ব্যারাক নির্মানের সময় যেসব টয়লেট নির্মান করা হয়েছিল তা ভেঙ্গে যাওয়ায় বাসিন্দারা নিজেরা টয়লেট নির্মান করলেও তা দুর্গন্ধ আর পরিস্কার অপিরচ্ছন্নতায় ভরা। উত্তর গৌরম্ভা আবাসনের একজন নারী বাসিন্দা বলেন নানা অসুবিধার কারনে আবাসনের অর্ধেকেরও বাসিন্দা বসবাস করতে না পেরে আবাসন ছেড়ে চলে গেছে। এখন যারা শত সমস্যা নিয়ে পড়ে আছে তাদের যাবার জায়গা নেই। তাই তারা শত সমস্যার মধ্যে পড়ে আছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ অধিদপ্তর বলছে আবাসনের ব্যারাকগুলো অনেক পুরাতন হয়ে যাওয়ায় মেরামতের অবস্থায় নেই। পুন. র্নির্মান করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। আমরা মাসিক সমন্নয় সভায় বিষয়টি উঠাবো। তারপর আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিবো।

কানো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে য়েতে পারে।
এ মহাসড়কে নিয়মিত বসা হাট বাজার ইজারা দিয়ে উপজেলা পরিষদ সরকারি ভাবে রাজস্ব আয় করে। কিন্তু সড়কের উপর থেকে বাজার স্থানান্তরের কোনো উদ্যেগ উপজেলা পরিষদ নেয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়কের উপর হাট বাজার বসছে। এসব হাট বাজারের আশে পাশে সরকারি জায়গা রয়েছে বলে জানা গেছে। সেই সরকারি জায়গায় হাট বাজার বসানোর উদ্যেগ নেঢা যেতে পারে এমনটা মনে করেন সাধারন ক্রোরা। আর এতে দুর্ঘটনার শংকা অনেকটা দুর হবে।
এ ব্যপারে বাগেরহাট সড়ক ও জনপথের একজন কর্মকর্তা বলেন বাজারগুলো সড়কের জায়গা হলেও যেসব উপজেলার মধ্যে রয়েছে সেইসব উপজেলা পরিষদ বিধি মোতাবেক ইজারা দেয়। ইজারার অর্থ সরকারি কোষাগারেই জমা হয়। তবে দুর্ঘটনার কথা শিকার করে তিনি বলেন সড়কের উপর বাজার বসলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ জন্য সড়ক বিভাগ ও উপজেলা পরিষদ যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
###

হাওলাদার আ. হাদি
ফয়লাহাট( রামপাল) বাগেরহাট
২৫-১২-২০২৫, ০১৯১১-৪০২০৩০।

হাওলাদার আ. হাদি
ফয়লাহাট( রামপাল) বাগেরহাট
৮-১২-২০২৫, ০১৯১১-৪০২০৩০