/ মশার প্রজনন মৌসুম চলছে, নিয়ন্ত্রণে জোরালো অভিযান শুরু না হলে দুর্ভোগ বাড়বে নগরবাসীর

মশার প্রজনন মৌসুম চলছে, নিয়ন্ত্রণে জোরালো অভিযান শুরু না হলে দুর্ভোগ বাড়বে নগরবাসীর

ফার্নেস অয়েল সংকটে এবার কালো
তেল বিতরণ শুরু হয়েছে দেরিতে

মশক নিধন কাজে কাগুজে পরিকল্পনার
চাইতে সরেজমিন মনিটরিং জরুরী

স্টাফ রিপোর্টার : মৌসুম পরিবর্তনের সময়টি মশার বংশবিস্তারের সময় ধরা হয়। সেই হিসেবে প্রতিবছর ফাল্গুনের আগে থেকেই মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করে কেসিসি। কিন্তু চলতি বছর সময়মতো মশক নিধন কাজ শুরু করা যায়নি। বিশেষ করে ফার্নেস অয়েল সংকটে মশার লার্ভা নিধনের জন্য লাইট ডিজেল অয়েল বা কালো তেল বিতরণ করা হয়নি।


গত ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ওয়ার্ড পর্যায়ে কালো ছেটানো শুরু হলেও ওয়ার্ডের সব ড্রেন ও বদ্ধ জায়গায় এখনও তেল পৌঁছেনি। ফলে মশার উপদ্রব বাড়ছে। রমজানের আগে থেকে ওয়ার্ড পর্যায়ে ফগার মেশিন দিয়ে উড়ন্ত মশা নিধন শুরু হয়েছে। কিন্তু সময় মতো মশার লার্ভা নিধন করতে না পারায় অ্যাডল্ট মশার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। দ্রুত সমন্বিত এবং কার্যকর অভিযান শুরু না করলে মশা নিয়ন্ত্রণে বাইরে চলে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়বে নগরবাসী। বাড়বে মশাজনিত রোগ।


কেসিসি থেকে জানা গেছে, মশক নিধনের জন্য সারাবছরই ৩১টি ওয়ার্ডে পৃথকভাবে অভিযান চলে। প্রতি ওয়ার্ডে একজন করে মশক নিধন কর্মী রয়েছে। তারা সকালে মশার ডিম নিধনের জন্য হ্যান্ড স্প্রে মেশিনের সাহায্যে লার্ভি সাইট এবং বিকালে উড়ন্ত মশা মারার জন্য ফগার মেশিনের ধোয়া দিয়ে অ্যাডাল্টি সাইট। মশার প্রজনন মৌসুম আসলে মশার ডিম বা লার্ভা নিধনের জন্য ফার্নেস অয়েলের সঙ্গে ডিজেল মিশিয়ে বিতরণ করে। এই ওষুধকে লাইট ডিজেল অয়েল বা স্থানীয় ভাষায় কালো তেল বলা হয়। ড্রেন, বদ্ধ জলাভূমি এবং আবর্জনার স্থানে কালো তেল ছেটানোর ফলে মশার ডিম ধ্বংস হয়। এতে মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে থাকে। এ বছর সময় মতো ফার্নেস অয়েল কেনার নথিতে স্বাক্ষর করেননি বিদায়ী প্রশাসক। যার কারণে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ফার্নেস অয়েল কিনে বিতরণ শুরু হয়। প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন মশক কর্মী একবেলা এই কাজ করে থাকেন। যার কারণে পুরো ওয়ার্ডে কালো তেল ছেটাতে এক সপ্তাহের বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে মশার উপদ্রব বেড়ে গেছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে জানা গেছে, মশক নিধনের জন্য রমজানের আগে থেকে ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এর প্রভাব পড়ছে কম। ইতোমধ্যে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মশার উপদ্রব বেড়েছে।


নাম প্রকাশ শর্তে এক নাগরিক নেতা বলেন, মশক নিধন কাজে কেসিসি প্রায় ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করে। দেখা যায়, একই এলাকায় একাধিকবার মশার ওষুধ দেওয়া হয়। ওই ওয়ার্ডের অনেক এলাকায় একবারও দেওয়া হয় না। এতে কিছু এলাকায় মশার উৎপাত বাড়ে। এজন্য মশক নিধন কার্যক্রম নিবিড়ভাবে মনিটরিং করা জরুরী।


প্রসঙ্গত, চলতি বছর জানুয়ারি ও ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৯ জন এবং জেলার ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ২৬ জন ভর্তি হয়েছে।


গতবছর ২০২৫ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬৮৭ জন চিকিৎসা নেয়। এর মধ্যে ১০ জনের মৃত্যু হয়।