/ যুদ্ধ প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সংকট, খুলনায় নাগরিক সংগঠন ফেড এর ১৩ দফা প্রস্তাব

যুদ্ধ প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সংকট, খুলনায় নাগরিক সংগঠন ফেড এর ১৩ দফা প্রস্তাব

স্টাফ রিপোর্টার : খুলনার প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম (ফেড) বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সরকারের কাছে ১৩ দফা সুপারিশ তুলে ধরেছে।


গতকাল শনিবার খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়তনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনটি এই প্রস্তাবনা উপস্থাপন করে।


সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাংবাদিক গৌরঙ্গ নন্দী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে কৌশলগত হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান থেকে তেল ও গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের জ্বালানি খাত চাপে পড়েছে এবং অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
ফেড জানায়, দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় এলএনজি, এলপিজি ও পেট্রোলিয়ামের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ওঠানামা সরাসরি দেশের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে। ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসেই জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় ১.৫৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা চলতি হিসাবের ঘাটতি ও মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে তুলছে।


সংগঠনটি উল্লেখ করে, দেশের একমাত্র রিফাইনারি ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড জাতীয় চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ পরিশোধন করতে পারে। ফলে অধিকাংশ জ্বালানি উচ্চমূল্যে স্পট মার্কেট থেকে আমদানি করতে হয়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীর ওপর অতিনির্ভরতার কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।


সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, জ্বালানি ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার প্রায় ৫০ শতাংশ অব্যবহৃত থাকছে এবং গ্যাস সংকটে শিল্পখাতে উৎপাদন ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। পোশাক শিল্পসহ রপ্তানিনির্ভর খাতগুলো এতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছে। একই সঙ্গে পরিবহন ও কৃষিখাতেও ব্যয় বেড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ তৈরি হচ্ছে।


ফেডের মতে, বর্তমান সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের সম্ভাবনা তুলে ধরে সংগঠনটি জানায়, দেশের বিপুল সংখ্যক পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।


সংগঠনটির ১৩ দফা সুপারিশের মধ্যে রয়েছে জ্বালানি বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য গঠন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে কর-ভ্যাট প্রত্যাহার, জাতীয় রুফটপ সৌর কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সৌর সেচপাম্প সম্প্রসারণ, বৈদ্যুতিক যানবাহন চালু, দক্ষতা উন্নয়ন এবং স্বল্পসুদের তহবিল গঠন।


এছাড়া বাজেটের অন্তত ৪০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বরাদ্দ, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দক্ষতা বৃদ্ধি, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দ্রুত চালু এবং জ্বালানি ভর্তুকি সংস্কারের মতো সুপারিশও তুলে ধরা হয়।


সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক গৌরঙ্গ নন্দী বলেন, বর্তমান সংকট আমাদের সামনে জ্বালানি খাতে আমূল পরিবর্তনের সুযোগ এনে দিয়েছে। এখনই সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে ভবিষ্যতে অর্থনীতি আরও বড় ঝুঁকিতে পড়বে।


তিনি আরও বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ঘটিয়ে বিকেন্দ্রীভূত জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।