/ রামপাল উপজেলা সদর ও সরকারি কলেজ নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে

রামপাল উপজেলা সদর ও সরকারি কলেজ নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে

মোঃ বজলুর রহমান, রামপাল (বাগেরহাট) : উপজেলা সদর ও রামপাল সরকারি কলেজ বর্তমানে মারাত্মক নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। কলেজটি মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেল সংলগ্ন হওয়ায় ও নদীর অপর প্রান্তে পেড়িখালী ইউনিয়নের সিকিরডাঙ্গার বিশাল বাঁকের কারণে রামপালের অংশে এক তরফা নদীর তীব্র স্রোত ও ভাঙনের কারণে ইতোমধ্যে কলেজের সীমানা প্রাচীরের একটি বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক মাস ধরে নদীর তীরবর্তী এলাকায় ধারাবাহিক ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এতে করে কলেজের প্রাচীরের পাশে থাকা মাটি ধসে পড়ছে এবং ধীরে ধীরে ভাঙন কলেজ মাঠের দিকেও অগ্রসর হচ্ছে। এভাবে ভাঙন চলতে থাকলে অচিরেই কলেজের মূল প্রাচীর ও খেলার মাঠ নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে এ নিয়ে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। তারা জানান, “প্রতিদিনই প্রাচীরের পাশের অংশ ভেঙে পড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো কলেজ প্রাচীর এবং একমাত্র মাঠটি হুমকির মুখে পড়বে।”


এ বিষয়ে রামপাল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল হান্নান মোল্লা জানান, গত ২২ মার্চ পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের নিকট দরখাস্ত করা হয়।২৭ মার্চ বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ভিজিট করেন। দ্রুত ভাঙ্গনের প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ তামান্না ফেরদৌস বলেন, বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দরখাস্ত দেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড এখন ও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেল সংলগ্ন রামপাল সরকারি কলেজের নদীর তীব্র স্রোত ও ভাঙন পরিদর্শন করছি। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। বাজেট পাস হলে দ্রুত কাজ শুরু হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে রামপাল সরকারি কলেজকে রক্ষা করা হোক। অভিজ্ঞ মহল মনে করেন , উপজেলা সদরের অপর প্রান্তে মোংলা-ঘোষিয়াখালি নদির দক্ষিণ পার্শ্বের সিকিরডাঙ্গা মৌজার বাঁক কেটে সোজা করে না দিলে রামপাল কলেজ সহ রামপাল সদরের ভাঙ্গণ রোধের যত চেষ্টাই করা হোক না কেন তাতে শুধু অর্থের অপচয় ছড়া আর কোন লাভ হবে না। ইতিপূর্বে অনেকবার বালুর বস্তা ও ব্লক দিয়ে বিপুল রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হলেও কোন সুফল আসেনি। রামপাল সদর, কলেজ ও গুরুত্বপূর্ণ অফিস সমূহকে বিলীনের হাত থেকে বাচাতে হলে ঘোষিয়াখালী চ্যানেলের পেড়িখালীর সিকিরাঙ্গার বাঁক কেটে সোজা করার উদ্যোগ গ্রহন এখন সময়ের দাবী।