/ রূপসার সড়কে অবৈধ হর্নের ব্যবহার বাড়ছেই, নেই দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ

রূপসার সড়কে অবৈধ হর্নের ব্যবহার বাড়ছেই, নেই দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ

এইচ এম রোকন, রূপসা (খুলনা): রূপসার গ্রামীণ জনপদের বিভিন্ন সড়কে বিপদজনক গতিতে চলছে ব্যাটারি চালিত অটো ভ্যান ও মোটরসাইকেল। সেই সাথে সড়কে হর্ন ব্যবহারে মানছে না সরকারি বিধি-নিষেধ। এদের মধ্য বেশিরভাগ চালক অল্প বয়সী কিশোর ও তরুণ।

গত বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার কাজদিয়া মেইন সড়কে চলাচলকারী অনেক গাড়িকে অযথা হর্ন বাজতে দেখা যায়। তাছাড়া স্থানীয়রা জানান, যে স্থানে হর্ন বাজানোর দরকার নেই বা সামনে তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো যানবাহন না থাকলেও সেখানে গাড়ির চালকরা হর্ন বাজান।

স্থানীয়রা আরো জানায়, অবৈধ হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার ও সাধারণ যানবাহনে ইমার্জেন্সি হর্নের অপব্যবহার করছে অনেকে। অপরদিকে কোনো কোনো গাড়ির চালক পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন বাজিয়ে চলছেন সড়কে। যাতে তাদের দেখে সড়ক থেকে অন্য গাড়ির চালকরা দ্রুত সরে যান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যনুযায়ী স্বাভাবিকভাবে ইমাজেন্সি হর্ন ব্যবহার করা হয় ইমার্জেন্সি যানবাহনে, যেমন রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, সরকারি বিশেষ যান ইত্যাদিতে। কিন্তু উপজেলার অনেকের ভাষ্যমতে ইমার্জেন্সি হর্নের অপব্যবহার লক্ষ্যণীয়। তারা জানান, চলার পথে হঠাৎ করেই ইমার্জেন্সি হর্ন বেজে ওঠে, কিন্তু পরক্ষণে দেখা যায় রাস্তায় আদৌ কোনো ইমার্জেন্সি গাড়ি নেই, মোটরবাইক কিংবা, ব্যাটারি চালিত অটো ভ্যান বা সাধারণ কোন ব্যক্তিগত গাড়িতে এর অপব্যবহার বেশি হচ্ছে। ইমার্জেন্সি হর্ন শুধু ইমার্জেন্সি যানবাহনে ব্যবহারের কথা।

অন্যদিকে অবৈধ হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহারের কারণে শব্দ দূষণ ছাড়াও নানা ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকাবাসী। তাছাড়া, একে বেঁকে, ফুটপাত দিয়ে কখনো উল্টো পথে, আবার কখনো বিপজ্জনক গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। বিশেষ করে ১৮ বছরের নিচের কিশোর-তরুণ চালকরা বেশি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। সবমিলিয়ে অবৈধ হাইড্রোলিক হর্ন বাজানো, সাধারণ যানবাহনে ইমার্জেন্সি হর্নের অপব্যবহার, বিপজ্জনক গতিতে মোটরসাইকেল চালানো এবং অবৈধ ট্রলির প্রতিদিনের উৎপাতে সাধারণ পথচারীদের মধ্যে ক্ষোভের অন্ত নেই।

এদিকে, বিআরটিএ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মোটর ভেহিকল অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। শুধু তা-ই নয়, যানবাহনে এ হর্ন ব্যবহার করলে জরিমানারও বিধান থাকলেও এ উপজেলায় এসব নিয়মের তোয়াক্কা করছে না অনেক চালকরা। যদিও শহর কেন্দ্রিক প্রশাসনের পক্ষ হতে এ ব্যাপারে আইনের যথেষ্ট তদারকি থাকলেও অভিযোগ রয়েছে এ উপজেলায় নীরব কর্তৃপক্ষ। তবে পুলিশ বলছে, হাইড্রোলিক হর্ন যারাই বাজিয়ে থাকে তাদের আইনের আওতায় আনা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়। পুলিশ এত কিছু বললেও কেন যেন কিছুতেই কমছে না এ উপজেলায় অবৈধ হাইড্রোলিক ও ইমাজেন্সি হর্ন ব্যবহার। এদিকে সচেতন মহল ও অপরাধ বিষয়ে যারা অভিজ্ঞ তারা বলছেন, অযথা হর্ন বাজানো একটি অপরাধ। যদিও এ বিষয়ে খুলনা জেলা ট্রাফিক কর্মকর্তাদের পক্ষ হতে জানানো হয়েছে যারা এ ধরনের অবৈধ হাইভোলিক হর্ন ও সাধারণ গাড়িতে ইমার্জেন্সি হর্ন ব্যবহার করেন, আইন অমান্য করার দায়ে তাদের অর্থ দন্ডসহ বিভিন্ন দন্ডে জরিমানার বিধান রয়েছে।মোটরযান অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ অনুযায়ী কোনো গাড়িতে হাইড্রোলিক হর্ন পাওয়া গেলে শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে।

তারা জানান, নিয়ন্ত্রণহীন গাড়ি চালক ও গাড়ি চলাচলের আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ব্যাপারে রূপসায় বসবাসকারী খুলনা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যাপক প্রফেসর খান আহমেদুল কবীর (চাইনিজ) বলেন, শব্দদূষণ ঘটানো এবং বিনা কারণে হর্ন বাজিয়ে সড়কে চলাচলকারী লোকজনকে মানসিক হয়রানির মধ্যে ফেলা অপরাধ। এ অপরাধ প্রবণতা রুখতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে এগিয়ে আসতে হবে। দিনের পর দিন এই শব্দ দূষণ বেড়ে চলছে। এই প্রবণতা বন্ধ করতে আইনের প্রয়োগ যেমন ঘটাতে হবে তেমন করে সবাইকে সচেতন হতে হবে বলে তিনি মনে করেন।