/ সময়ের সাথে চলে বেতারকে আধুনিকতার ছোঁয়া দিতে হবে: খুলনা বেতারের সেমিনারে বক্তারা

সময়ের সাথে চলে বেতারকে আধুনিকতার ছোঁয়া দিতে হবে: খুলনা বেতারের সেমিনারে বক্তারা

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ বেতার খুলনা কেন্দ্র আয়োজিত ‘সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে বেতারের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ সেমিনারে বক্তারা বলেন, ডিজিটাল যুগেও বেতারের গুরুত্ব কমেনি। তথ্য, শিক্ষা, বিনোদন ও উন্নয়ন বার্তা পৌঁছে দিতে বেতার এখনও নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল, দুর্যোগকাল ও নেটওয়ার্কবিহীন এলাকায় বেতারের ভূমিকা অপরিবর্তনীয়।

বক্তারা বলেন, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেতারকে আরও আধুনিক করতে হবে। প্রয়োজন হলে সোশ্যাল মিডিয়ার মতো কনটেন্ট তৈরি, ওয়েবসাইটভিত্তিক কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং সঠিক তথ্য পরিবেশনে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। সামাজিক মাধ্যমে অপতথ্য বেড়ে যাওয়ায় মানুষ যেখানে আস্থা হারাচ্ছে, সেখানে বেতারই হতে পারে বিশ্বাসযোগ্য তথ্যের উৎস।

সোমবার সকালে কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুন অর রশীদ। সভাপতিত্ব করেন আঞ্চলিক পরিচালক মো. শামীম হোসেন। এসময় স্বাগত বক্তৃতা করেন, উপ-আঞ্চলিক পরিচালক মো. শাহীদুল ইসলাম।

সেমিনারে বক্তারা আরও বলেন, ভিজ্যুয়াল কনটেন্টের চাপে বেতারের সামনে যেমন চ্যালেঞ্জ আছে, তেমনি পডকাস্ট, অনলাইন রেডিও ও ডিজিটাল কনটেন্টে নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার সমন্বয়ই বেতারকে ভবিষ্যতের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

সহকারী পরিচালক(অনুষ্ঠান) ফাহাদ হোসেন মোল্লার সঞ্চালনায় এসময় বক্তৃতা করেন, সরকারি বিএল কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মোঃ আব্দুল মান্নান, বাংলাদেশ বেতার খুলনা কেন্দ্রের আঞ্চলিক প্রকৌশলী তাজুন নিহার আক্তার, আঞ্চলিক বার্তা নিয়ন্ত্রক মোঃ নূরুল ইলাম, উপ-আঞ্চলিক পরিচালক মোঃ মামুন আকতার, উপ-আঞ্চলিক প্রকৌশলী মোঃ মুতাকাব্বির করিম খান, সহকারী পরিচালক(অনুষ্ঠান) তনুজা মন্ডল, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে’র সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন ও সাবেক নির্বাহী সদস্য এইচ এম আলাউদ্দিন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও সোশ্যাল মিডিয়ার দ্রুত বিস্তারে মানুষের যোগাযোগ ও তথ্যগ্রহণ পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। স্মার্টফোন, ইউটিউব, ফেসবুক, লাইভ ভিডিও—এসব ভিজ্যুয়াল মাধ্যমের জনপ্রিয়তার মধ্যে বেতার এখনও টিকে আছে তার সহজলভ্যতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে গভীর সংযোগের কারণে। গ্রাম-শহর, দুর্যোগ, নেটওয়ার্কবিহীন এলাকায় বেতার আজও সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম।

নতুন প্রযুক্তির ফলে বেতারের সামনে যেমন নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে- অডিও কনটেন্টের পুনর্জাগরণ, অনলাইন রেডিও, পডকাস্ট, সোশ্যাল মিডিয়া একীভূতকরণ, তেমনি বেড়েছে চ্যালেঞ্জও। তরুণদের ভিজ্যুয়াল কনটেন্টে ঝোঁক, ইউটিউব-টিকটক প্রতিযোগিতা, মনোযোগ ধরে রাখার কঠিনতা, আকর্ষণীয় কনটেন্টের অভাব এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরের দুর্বলতা বেতারের সামনে বড় বাধা।

স্থানীয় ভাষা-সংস্কৃতি, কমিউনিটি উন্নয়ন, কৃষি-স্বাস্থ্য-শিক্ষা বিষয়ে সচেতনতায় বেতারের ভূমিকা এখনও অপরিবর্তনীয়। কিন্তু আধুনিক ফরম্যাট, নতুন প্রযুক্তি, উদ্ভাবনী উপস্থাপনা ও অনলাইন প্রচার ছাড়া বেতার তরুণ প্রজন্মকে টানতে পারবে না।
সার্বিকভাবে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে বেতারের টিকে থাকার পথ হলো প্রযুক্তি, সৃজনশীলতা ও কমিউনিটিকেন্দ্রিক কনটেন্টের সমন্বয়।