/ সুন্দরবনে চোরা শিকারীদের ফাঁদে আটকে পড়া বাঘ উদ্ধার, চিকিৎসার জন্য নেওয়া হলো রেসকিউ সেন্টারে

সুন্দরবনে চোরা শিকারীদের ফাঁদে আটকে পড়া বাঘ উদ্ধার, চিকিৎসার জন্য নেওয়া হলো রেসকিউ সেন্টারে

আমির হোসেন আমু, মোংলা (বাগেরহাট) : সুন্দরবনে চোরা হরিণ শিকারীদের পাতা ফাঁদে আটকে পড়া রয়েলবেগঙ্গল টাইগার উদ্ধার করেছে বনবিভাগের বিশেষজ্ঞ দল।রোববার বিকালে চাঁদপাই রেঞ্জেরে গহীন বন থেকে বাঘটি উদ্ধার করা হয়।

বনবিভাগের বিশেষজ্ঞ দল ‘ট্রানকুইলাইজার গান’ দিয়ে ইনজেকশন পুশ করে অচেতন করে বাঘটিকে ফাঁদ থেকে ছাড়িয়ে খাঁচায় বন্দী করে। উদ্ধার হওয়া পুরুষ বাঘটি পূর্ণবয়স্ক। বাঘের সামনের বাম পা ফাঁদে আটকে ছিল। ফলে পায়ে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। ৪/৫ দিন ধরে বাঘটি ফাঁদে আটকে ছিল বলে ধারণা করছে বনবিভাগের বিশেষজ্ঞ টিম। শনিবার দুপুরের পর ফাঁদে বাঘ আটকের খবর পায় বনবিভাগ। এরপর থেকে বাঘটি উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়।

সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাংমারী স্টেশনের করমজল বণ্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আজাদ কবির জানান, বাঘটিকে উদ্ধার করে খুলনায় বনবিভাগের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেস্কিউ সেন্টারে নেয়া হয়েছে। বাঘটি অসুস্থ হয়ে পড়ায় তার শরীরে ওষুধ ও স্যালাইন দেয়া হচ্ছে। খুলনায় চিকিৎসা শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগীয় কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বনবিভাগের কাছে খবর আসে মোংলার শরকির খাল দিয়ে আধা কিলোমিটার ভেতরে হরিণ শিকারের ফাঁদে একটি বাঘ আটকে রয়েছে। সেটি উদ্ধারের জন্য ঢাকা থেকে ভেটেনারি সার্জনসহ বিশেষজ্ঞ দল আসে রোববার দুপুরে। এছাড়াও উদ্ধার কাজে আসে খুলনা থেকে বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তারা। গুলির মাধ্যমে এ ট্যাংকুলাইজার বাঘের শরীরে প্রবেশ করানো হয়। ট্যাংকুলাইজার করার পর বাঘটি আধা ঘন্টা অচেতন থাকে। তখন সেটিকে ফাঁদ থেকে ছাড়ানো হয়। সুন্দরবনের শরকির খাল সংলগ্ন বনের অভ্যন্তরে চোরা শিকারীদের পেতে রাখা হরিণ শিকারের ফাঁদে গত শুক্রবার বাঘটি আটকে পড়ে।

বনবিভাগের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের খুলনা কার্যালয়ের মৎস্য বিশেষজ্ঞ ও স্মার্ট ডাটা কো-অর্ডিনেটর মোঃ মফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, রোববার আড়াইটার দিকে বাঘটিকে ট্রানকুইলাইজার দিয়ে অচেতন করা হয়। উদ্ধারের পর বাঘটিকে চিকিৎসার জন্য খুলনায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।