/ সুন্দরবনে বনদস্যুদের উৎপাতে অতিষ্ট জেলেরা

সুন্দরবনে বনদস্যুদের উৎপাতে অতিষ্ট জেলেরা

হাও: আব্দুল হাদী , ফয়লাহাট (রামপাল) বাগেরহাট \ বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে আবারো বনদস্যুদের উৎপাত বৃদ্ধি পেয়েছে। এক মাসের ব্যবধানে মোংলা, শরনখোলা, মোরেলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে তারা অন্তত ২৫ জেলেকে অপহরন করে মোটা অংকের মুক্তিপন আদায় করেছে।
সুন্দরবনের অভ্যন্তরে মাছ ধরে জীবন জিবিকা নির্বাহ করে রামপাল উপজেলার এমন অন্তত ৫ জন জেলে এ প্রতিনিধিকে নাম প্রকাশ না করে বলেন বিগত সরকারের আমলে ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে রামপালে র‌্যাবের কাছে যারা অস্ত্রসহ আত্মসমর্পন করে দস্যুতা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছিল তাদের অনেকেই আস্তে আস্তে আবারো বনে ফিরে দস্যুতা চালাচ্ছে। কয়েকটি বাহিনী ভাগ ভাগ হয়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন পয়েন্টে সমান ভাবে দস্যুতা চালাচ্ছে তারা।
র‌্যাবের হাতে আত্মসমর্পন করার পর র‌্যাবের পক্ষ থেকে স্বাভাবিক জীবন যাপনের জন্য তাদেরকে আবাসন ও আর্থিক সুবিধা থেকে শুরু করে সব ধরনের সুবিধা দেয়া হয়েছিল। তাদের অনেকেই বেশ কিছুদিন স্বাবাবিকভাবে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবন যাপন করলেও আস্তে আস্তে আবারো পুরানো পেশায় ফিরে এসেছে। এখন তারা পুরোদমে সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে।
সম্প্রতি রামপাল উপজেলার কয়েকজন জেলে সুন্দরবন থেকে ফিরে এসে জানান এখন সুন্দরবনের নদী-খালে মাছ ধরা নিরাপদ নয়। বনদস্যুরা নিরিহ জেলেদের ধরে নিয়ে মোটা টাকা মুক্তিপন আদায় করছে। আর মুক্তিপন দিতে না পারলে নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। আবারো র‌্যাবের অভিযান জোরদার না করলে তাদের মাছ ধরা বন্ধ করে দেয়া ছাড়া কোনো পথ খোলা নেই এমনটা জানান তারা।
এদিকে নবগঠিত বিএনপি সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের উপমন্ত্রী, সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের সভাপতি লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন যে করে হোক সুন্দরবনকে তিনি বনদস্যুমুক্ত করতে চেষ্টা করেবেন। সম্প্রতি তিনি রামপালে এক বক্তব্যে বলেন খুলনা ও বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বনরক্ষিদের সাথে খুব শিঘ্রই বৈঠক করবেন। কিভাবে সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করা যায় সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবেন এমন আশ্বাস দেন।