/ ৪১ বছর খালি পড়ে আছে রামপালের দুইটি গুদাম

৪১ বছর খালি পড়ে আছে রামপালের দুইটি গুদাম

নিজস্ব সংবাদদাতা,ফয়লাহাট (রামপাল) বাগেরহা : বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় দুটি গুদাম নির্মানের পর দীর্ঘ ৪১ বছরে দানা পরিমাণ খাদ্য শষ্যের পাশাপাশি কোনো কিছু সংরক্ষন না করায় অবহেলায় গুদাম দুটি এখন ধংশের দ্বার প্রান্তে।
জানা যায় দেশের অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও দুর্গম অঞ্চলে খাদ্য শষ্য সংরক্ষনের পাশাপাশি অন্যান্য বস্তু সংরক্ষনের জন্য বিগত এরশাদ সরকারের আমলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গুদাম নির্মান করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় উপকুলীয় উপজেলা রামপালে ১৯৮৫ সালে ৫’শ মে.টন খাদ্য শষ্য ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন দুটি গুদাম নির্মান করা হয়। এর একটি উপজেলার উজলকুড় ইউনিয়নের ফয়লাহাটে অপরটি বাঁশতলী ইউনিয়নের কালিগঞ্জ বাজারে নির্মান করা হয়।
নির্মাননের পর দীর্ঘ ৪১ বছর শুন্য অবস্থায় পড়ে আছে গুদাম দুটি। দীর্ঘ সময়ের মধ্যে দানা পরিমান খাদ্য শষ্য ও অন্যান্য কোনো প্রকারের বস্তু সংরক্ষন করা হয়নি গুদাম দুটিতে। বছরের পর পর বছর শুন্য অবস্থায় থাকায় আস্তে আস্তে গুদাম দুটির দেয়াল ও ছাদ থেকে পলেস্তরা খুলে পড়েছে। বৃষ্টি হলে ছাদ থেকে পানি পড়ে ভেতরে সয়লাভ হয়ে যায়। ভিতওে মেঝের প্লাষ্টার উঠে ছোট বড়ো গর্ত তৈরি হয়েছে। গুদামের প্রধান ফটক মরিচা পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। ফয়লাহাটের গুদামটির দেয়ালের কোনো কোনো স্থান ভেঙ্গে যাওয়ায় সহজে লোকজন ভিতরে প্রবেশ করতে পারে। বাঁশতলীর কালিগঞ্জ বাজারের গুদামটির অবস্থাও একই রকম। স্থানীয় লোকজন জানান বছরের পর বছর তালাবদ্ধ অবস্থায় গুদামটি পড়ে রয়েছে। সংস্কার না করায় ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খুলে পড়েছে। বর্ষাকালে ছাদ থেকে বৃষ্টির পানি পড়ে ভিতরে সয়লাভ হয়ে যায়। নির্মানের পর গুদাম দুটিতে কোনো প্রকার খাদ্য শষ্য বা অন্য কোনো বস্তু না রাখার পাশাপাশি সংস্কার করা হয়নি। আর সংস্কার না হওয়ায় এমন বেহাল দশা হয়েছে।
এ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা জানান রামপাল সদর ও গৌরম্ভা ইউনিয়নে পৃথক দুটি খাদ্য গুদাম থাকলেও উপজেলার ভোজপাতিয়া, পেড়িখালি, মল্লিকেরবেড়, বাঁশতলী, বাইনতলা, উজলকুড়, রাজনগর, হুড়কা ইউনিয়নে অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারনে তাদের খাদ্য শষ্য সংগ্রহ করতে এক সময় বিলম্ব ও বিড়ম্বনা পোহাতে হতো। সেই বিড়ম্বনার অবসান ঘটাতে বিগত ১৯৮৫ সালে ফয়লাহাট ও কালিগঞ্জ বাজারে ওই দুটি গুদাম নির্মান করা হয়।
এদিকে গুদাম দুটি নির্মানের পর একে একে কেটে গেছে ৪১ বছর। এ সুদীর্ঘ সময় কোনো কিছুই সংরক্ষন করা হয়নি। এমন অবস্থায় জনপ্রতিনিধিদের রামপাল ও গৌরম্ভা খাদ্য গুদামে থেকে খাদ্য শষ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে বাশতলী, পেড়িখালি, ভোজপাতিয়া, মল্লিকেরবেড়, হুড়কা, বাইনতলা ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বেশি। ওইসব ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা বলছে ফয়লাহাটের কালিগঞ্জ বাজারের গুদাম দুটি স্বচল থাকলে তাদের ভোগান্তি অনেকটা লাঘব হতো।
এ ব্যপারে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুজিত মুখার্জি বলেন এটি মনে হয় এলজিআরডি’র গুদাম। দেখাশুনা করে এলজিইডি। এর বেশি তিনি পরিষ্কার করে কিছুই জানাতে পারেননি। রামপাল এলজিইডি কর্মকর্তার কাছে জানতে চেয়ে ফোন করলে তিনি ফোন রিনিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।