মফিজুল ইসলাম জুম্মান, তেরখাদা(খুলনা): খুলনার তেরখাদা উপজেলায় অফসিজন তরমুজ এবং রকমেলন চাষ খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। স্বাবলম্বী হচ্ছে কৃষকমহল। তেরখাদা উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ মোতাবেক উপজেলার নলামারা এবং আজগড়া এলাকার কতিপয় কৃষক পরীক্ষামূলক ভাবে রকমেলন ও তরমুজ চাষ করেন। ঘেরে মাছ চাষের পাশাপাশি ঘেরের ৪ পাড়ে অফসিজন তরমুজ এবং রকমেলন চাষে ব্যাপক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। পুষ্টি সমৃদ্ধ এসব ফল উৎপাদন করে স্ববলম্বী হচ্ছে কৃষককূল। বিলের গহীনে পানির সাথে লড়াই সংগ্রাম করে কিছুসংখ্যক কৃষক বর্ষা মৌসুমে অফসিজন তরমুজ এবং রকমেলন উৎপাদন করে গত একমাস ধরে বাজারজাত করছে।
অপরদিকে শুকনা মৌসুমে চাষ করা তরমুজের থেকেও অফসিজন তরমুজ খেতে সুস্বাদু। মিষ্টিও বেশী। আজগড়া ও নলামারার চাষীরা তরমুজ এবং রকমেলন চাষ করে এলাকাবাসীকে চমক লাগিয়ে দিয়েছে। ঘেরের পাড়ে রোপনকৃত এ পুষ্টি জাতীয় ফল শুধু খেতেই সুস্বাদু নয়, দেখতেও সুন্দর। ঘেরের চারপাশে লাগানো গাছগুলোতে ঝুলে আছে তরমুজ ও রকমেলন। ঘেরের পাড়ে গেলে দেখা যায় এক নয়নাভিরাম দৃশ্য। পানির উপর ঝুলে থাকা ফলে ফলে যেনো চোখ জুড়িয়ে যায়। অনেক দর্শনার্থীরা অফসিজন তরমুজ এবং রকমেলন দেখতে ঘের পাড়ে আসে।
জানা গেছে, গত বছর অল্প কয়েকজন কৃষক অফসিজন তরমুজ চাষ করে পরীক্ষামুলকভাবে। অফসিজন তরমুজের ভালো ফলন হওয়ায় এবারে নলামারা ও আজগড়া এলাকায় তরমুজের চাষ আরও বেশী হয়েছে। পাশাপাশি রকমেলন চাষও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সূত্রে জানা গেছে, তেরখাদা উপজেলায় এবারে ১৭ হেক্টর জমিতে রকমলেন চাষ হয়েছে এবং অফসিজন তরমুজ চাষ হয়েছে ৩৪ হেক্টর জমিতে।
তেরখাদা উপজেলার নলামারা গ্রামের বাসিন্দা অফসিজন তরমুজ চাষী বিকাশ মুনি এবং তফছির শেখ জানান, তারা উপজেলা কৃষি অফিসার শিউলি মজুমদারের পরামর্শ এবং সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে অফসিজন তরমুজ চাষ এবং পরবর্তীতে রকমেলন চাষ করেন। চাষাবাদের প্রথম দিকে তাদের চোখে মুখে হতাশার ছাপ দেখা দিলেও ফলন শুরু হলে তাদের মুখে ফুটে ওঠে আনন্দের হাসি। তারা ৪০ থেকে ৫০হাজার টাকা ব্যয় করে ৩থেকে ৪লাখ টাকা আয় করছেন। তারা বলেন, অফসিজন তরমুজ এবং রকমেলন তাদের বাড়তি আয়। কেননা তেরখাদা উপজেলায় রয়েছে প্রায় ৭হাজার ঘের। কিছু সংখ্যক ঘেরে এ পুষ্টি জাতীয় ফলের চাষ হচ্ছে। কিছু ঘেরে এই সিজনে মাছ ছাড়া আর কিছুই হয় না। ফলে ফল চাষীরা অফসিজন তরমুজ এবং রকমেলন চাষ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে।
বিকাশ মুনি বলেন, তিনি তরমুজ ও রকমেলন চাষ করে এবারে প্রায় ৭/৮ লাখ টাকা ঘরে তুলেছেন। তফছির শেখ বলেন, তিনিও স্বাবলম্বী হয়েছেন। ঘেরের ভেতরে মাছ এবং ঘেরের পাড়ে অফসিজন তরমুজ এবং রকমেলন চাষ করার প্রত্যাশা জেগেছে অনেকেরই।
রকমেলন চাষী আজগড়া এলাকার হৃদয় বলেন, তিনি উপজেলা কৃষি অফিসার শিউলি মজুমদারের দিক নির্দেশনা এবং সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে বিল বাসুয়াখালীর প্রায় মধ্যবর্তী স্থানে তার মৎস্য ঘেরের চার পাড়ে রকমেলন চাষ করেছেন। অতল পানিতে তার ঘেরের অবস্থান। কঠিন ঝুঁকি নিয়ে তিনি পরীক্ষামূলক রকমেলন চাষ করেছেন। রকমেলনেই তার প্রায় লক্ষাধিক টাকা অর্জিত হয়েছে।
তিনি আরও ৫০হাজার টাকার বিক্রি করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। হৃদয় বলেন, তিনি সামনের বছর আরও বেশী করে রকমেলন চাষ করবেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার শিউলি মজুমদার জানান, অফসিজন তরমুজ চাষে নলামারা এলাকার বিকাশ মুনি এবং তফছির শেখকে পরামর্শ প্রদানসহ বীজ ও সার দিয়ে সহযোগিতা করা হয়। তিনি নিজে এবং তার উপ-সহকারী কৃষি অফিসারদের দিয়ে সব সময় খোঁজ খবর রাখেন এবং তদারকি করেন। তিনি বলেন, রকমেলন ও তরমুজের কাঙ্খিত ফলন হয়েছে। দামও বেশী পেয়েছেন চাষীরা। তিনি বলেন অফসিজন তরমুজ এবং রকমেলন চাষ করে অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন। অফসিজন তরমুজ এবং রকমেলন চাষ আগামীতে বৃদ্ধি পাবে। শিউলি মজুমদার বলেন, এবারে ১৭ হেক্টর জমিতে রকমেলন এবং ৩৪ হেক্টর জমিতে অফসিজন তরমুজ চাষ হয়েছে। তিনি জানান ৪২ শতাংশ জমিতে রকমেলনের ফলন হয়েছে সাড়ে ৭ মেট্রিক টন। আগামীতে ফলবে সোনার ফসল। স্বাবলম্বী হবে গরীব অধ্যূষিত এলাকার অনেকেই।