স্টাফ রিপোর্টা : নগরীতে পৃথক ঘটনায় চারজন খুন হয়েছে। এরমধ্যে একই পরিবারের দুই শিশুসহ তিন জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। এছাড়া অপরজনকে গুলি ও জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার করিম নগর ও লবনচরা থানার জিন্নাহপাড়া এলাকায় এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশের আইজিপির খুলনা সফরের ২৪ ঘন্টার মাথায় নগরীতে একই দিনে চারটি হত্যাকান্ড সংঘটিত হলো। পরপর খুনের ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে নগরবাসী।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নগরীর সোনাডাঙ্গা থানাধীন করিমনগর এলাকায় গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে আলাউদ্দিন মৃধা (৩৫) নামের এক যুবককে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তিনটি মটরসাইকেলে আসা ছয়জন অস্ত্রধারী গিয়ে আলাউদ্দিনের বাসায় প্রবেশ করে একজনে ঝাপটে ধরে পরপর দু’টি গুলির পর পরে জবাই করে তাকে হত্যা করে। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আলাউদ্দিনকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। নিহত আলাউদ্দিন করিমনগর এলাকার মনা মুন্সির ছেলে।
সোনাডাঙ্গা মডেল থানার এসআই সুমন হাওলাদার জানান, আলাউদ্দিন করিমনগর এলাকার ইলোরা বেগমের বাড়ির ভাড়াটিয়া ছিলেন। সন্ধ্যায় তিনি স্ত্রীসহ ঘরের বারান্দার সিঁড়িতে বসে কথা বলছিলেন। এসময় ৬/৭ জন দুর্বৃত্ত বাড়িতে ঢুকে আলাউদ্দিনের সঙ্গে কথা বলতে থাকে। হঠাৎ তারা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। দু’টি গুলি তার বুকে ও পেটে লাগে। পরে তারা ধারালো ছুরি দিয়ে তার গলায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সিআইডিকে জানায়। পরে সেখানে সিআইডির ক্রাইম সিনের সদস্যরা গিয়ে তদন্ত করেন। এরপর সুরতহাল শেষে লাশ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে তিনটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
এসআই সুমন আরও বলেন, নিহত আলাউদ্দিন মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং দীর্ঘদিন কারাভোগের পর মাত্র ১০ দিন আগে জামিনে মুক্তি পান। মুক্তির পর তিনি দিনমজুরের কাজ করতেন। তবে কোন কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে- তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
করিম নগরের নিহত আলাউদ্দিন মৃধার স্ত্রী নার্গিস বেগম বলেন, সন্দ্যা ৭টার দিকে করীমনগর এলাকার সৈয়দ আলী হোসেন স্কুলের পাশে ভাড়া বাসায় ঘরের সামনে বসে ছিলেন আলাউদ্দিন। এসময় এলাকার একরাম, মিন্টু, ইয়াসিনসহ ৬জন তিনটি মটর সাইকেলে করে এসে প্রথমে গুলি করে। পরে বুকের উপর উঠে ছুরি দিয়ে গলা জবাই করে হত্যা করে।
অপরদিকে, লবনচরা থানাধীন নগরীর ৩১ নং ওয়ার্ডের মুক্তা কমিশনারের কালভার্টের পাশে দরবেশ মোল্লা গলির একটি বাড়ি থেকে ৩টি লাশ উদ্ধার হয়েছে। নিহতরা হলেন সাহিদুন্নেছা (৫৫) ও তার দুই নাতী মুস্তাকিম (৮) ও ফাতিহা আহমেদ (৭)। নিজ বাড়ির মুরগির খামার থেকে তাদের লাশ উদ্ধার হয়।
নিহত দুই শিশুর মা রুবিয়া বেগম বলেন, তিনি রামপাল সহকারী কমিশনার(ভূমি) অফিসের পেশকার হিসেবে চাকরী করেন আর তার স্বামী কেএম শেপার আহমেদ খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজে চাকরী করেন। তারা দু’জনেই সকাল আটটার পরপর বাসা থেকে বের হয়ে যার যার কর্মস্থলে চলে যান। রাত আটটার দিকে ফিরে বাড়ির গেট বন্ধ পেয়ে তার স্বামী শেপার আহমেদ দেওয়াল টপকিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর দরজা খুলে তারা দু’জনে মুরগির খামারে তিনজনের মরদেহ দেখতে পান। এরপর দুই সন্তানকে নিয়ে পিতা শেপার আহমেদ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেলেও কর্তব্যরত চিকিৎক তাদের মৃত: ঘোষণা করেন। তবে নিহত দু’ই সন্তানের নানী সাহিদুন্নেছার নিথর দেহ পড়ে ছিল মুরগির খামারে।
হত্যাকান্ডের বিষয় নিয়ে কেএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপস) রাশিদুল ইসলাম খান বলেন, দুটোই পৃথক ঘটনা। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেছে ময়নাতদন্তের জন্য। খুনের সাথে জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।
কেএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার(দক্ষিণ) সুদর্শন কুমার রায় বলেন, প্রাথমিকভাবে হত্যার কারণ জানা যায়নি। তদন্ত শেষে বলা যাবে হত্যার কারণ। তবে করীমনগরে আলাউদ্দিন নামে এক যুবক নিহতের ঘটনাস্থলে গিয়েই লবণচরা থানার জিন্নাহপাড়ায় ট্রিপল মার্ডারের খবর পাওয়া যায়। সেখানেও দু’টি শিশুসহ তাদের বৃদ্ধা নানীকে কে বা কারা ফাঁকা বাড়িতে পেয়ে হত্যার পর পাশের মুরগির খামারে লাশ রেখে গেছে। বিষয়টি খুবই মর্মান্তিক। এটিও তদন্ত করে কারণ নিরুপন করা হবে।