জি এম মুজিবুর রহমান, আশাশুনি (সাতক্ষীরা) : আশাশুনি উপজেলার খাজরায় রাস্তা নিয়ে সংঘর্ষে ৮জন গুরুতর আহত হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে আশাশুনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৮ জনকে আটক করেছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে খাজরা ইউনিয়নের রাউতড়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
রাউতাড়া গ্রামের তুহিন মোড়ল দিং ও মুছা মোড়ল দিং এর পারিবারিক পথে মাটি দেয়া নিয়ে বিরোধ চলছিল। কয়েকদিন পূর্বে ভ্যেকু মেশিনের সাহায্যে পাশের জমি থেকে মাটি কেটে পথে দেয়া হয়। মুছা দিং তাদের জমিতে ঘর বাধবে সেখানে মাটি না কাটতে নিষেধ করে। এনিয়ে মারামারি হয়। সোমবার সকাল ৯টার দিকে মুছা মোড়ল, তাদের ছেলে ও পক্ষীয় লোকজনের সাথে তুহিন মোড়লদের মাটি কাটা নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে পশ্চিম খাজরা গ্রামের মৃত সিরাজ মোড়লের ছেলে আতি মোড়ল ও তার ছেলে আজিম মোড়ল, আব্দুর রব মোড়লের ছেলে তুহিন মোড়ল, মৃত আবুল কাশেম হাওলাদারের ছেলে আবু সালেহ হাওলাদার, মৃত সিরাজ মোড়লের ছেলে মুজাফফর মোড়ল, মজিদ মোড়লের স্ত্রী নবীরন বিবি এবং অপর পক্ষের হানিফ মোড়ল ও মিলন মোড়ল গুরুতর আহত হয়। এছাড়া উভয় পক্ষের আরও কয়েকজন সামান্য আহত হয়। এসময় গ্রামের লোকজন একত্রিত হয়ে এগিয়ে গেলে মুছা মোড়লের লোকজন ঘরের মধ্যে আশ্রয় নেয়। এসময় মুছা মোড়ল ও মিলনের ঘরবাড়ি ভাংচুর এবং রাস্তায় থাকা একটি মোটর সাইকেল ভাংচুর করা হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খোরশেদ মোড়লের ছেলে মুছা মোড়ল, মুছা মোড়লের ছেলে নুরুজ্জামান মোড়ল, হানিফ মোড়ল, আনারুল মোড়ল, মিলন মোড়ল, মুছা মোড়লের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম, আত্মীয় বাইনতলা গ্রামের মইউদ্দিন সানা ও মাহবুব সানাকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে আসেন। পুলিশ একটি শাবল, একটি দা, একটি দেশি কুড়াল ও কয়েকটি লোহার রড উদ্ধার করেছে।
আতি মোড়ল, আজিম মোড়ল, তুহিন মোড়ল, আবু সালেহ হাওলাদার, মুজাফফর মোড়ল, নবীরন বিবি এবং অপর পক্ষের হানিফ মোড়ল ও মিলন মোড়লকে আশাশুনি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় তুহিন মোড়লের স্ত্রী সাথী খাতুন বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত এজাহার দাখিল করেছে। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অপর পক্ষের পৃথক মামলা রুজুর প্রস্তুতি চলছিল।
এব্যাপারে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম আহমেদ খান জানান, ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনকে উদ্ধার আশাশুনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দিয়ে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। এখনো কোন পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।