/ রামপালে বছরে ১ হাজার ২৫০ মেঃটন খাদ্য উৎপাদন বঞ্চিত

রামপালে বছরে ১ হাজার ২৫০ মেঃটন খাদ্য উৎপাদন বঞ্চিত

অনাবাদী ৫ হাজার ৩৮০ হেক্টর

নিজস্ব সংবাদদাতা,ফয়লাহাট(রামপাল) বাগেরহাট : উপজেলায় অনাবাদী জমি চাষাবাদের আওতায় না আনায় বছরে প্রায় এক হাজার ২৫০ মেঃটন খাদ্য শষ্য উৎপাদন থেকে উপজেলাবাসী বঞ্চিত হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের একটি দায়িত্বশীল সুত্র জানায় ১০ ইউনয়ন নিয়ে গঠিত উপকুলীয় এ উপজেলায় মোট আবাদী জমির পরিমান ১৯ হাজার ৪০০ হেক্টর। ্এরমধ্যে বছরে অনাবাদী পড়ে থাকে ৫ হাজার ৩৮০ হেক্টর। অনাবাদী জমির মধ্যে গৌরম্ভা ইউনিয়নে ৪৭৪ হেক্টর, উজলকুড় ইউনিয়নে ৩১০ হেক্টর, বাইনতলা ইউনিয়নে ৪৯০ হেক্টর, রামপাল সদর ইউনিয়নে ৫১৮ হেক্টর, রাজনগর ইউনিয়নে ৫২৯ হেক্টর, হুড়কা ইউনিয়নে ৬৮০ হেক্টর, পেড়িখালি ইউনিয়নে৫৭১ হেক্টর, ভোজপাতিয়া ইউনিয়নে ৭০৫ হেক্টর, মল্লিকেরবেড় ইউনিয়নে ৪৫৫ হেক্টর ও বাঁশতলী ইউনিয়নে ৫৬৮ হেক্টর।

  দীর্ঘদিন ধরে অনাবাদী থাকা জমি চাষাবাদের আওতায় আনাগেলে একহাজার ২৫০ মেঃটন খাদ্য শস্য উৎপাদন সম্ভব ছিল এমকটা মনে করেন সংশ্লিষ্ট বিভাগ। লবন সহনীয় জাতের ধানের আবাদীকরণ, সাথি ফসল চাষের মাধ্যমে আবাদীকরণ সল্প মেয়াদী ফসল চাষের মাধ্যমে আবাদীকরণ, সর্জন পদ্ধতি ব্যবহার করে ফসলের চাষাবাদ, রাস্তার পাশে, ঘেরের আইলে,  বসতবাড়ীর আঙ্গিনায়, পরিত্যাক্ত গায়গায় আবাদীকরণ, আন্তফসল চাষের মধ্যমে আবাদীকরণ, বিনা চাষে আলু, শীতকালীন মুগডাল, সুগন্ধি জাতের ধনিয়া, উন্নত জাতের চীনা বাদাম চাষের মাধ্যমে আনাবাদী জমি চাষের আওতায় আনা সম্ভব এমনটাও মনে করে কৃষি বিভাগ। 

উপজেলায় আনাবাদী জমি চাষাবাদের আওতায় আনা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এমন নজির নেই। চলতি আমন মৌসুমে এ উপজেলায়া মাত্র ৮ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে। আনাবাদী রয়েছে ১০ হাজার ৪ শত ২৫ হেক্টর। 

   উল্লেখ্য বিগত ১৯৮০ সালে মুলত এ উপজেলায় আমনের জমিতে বেড়িবাধ দিয়ে লবন পানিতে বানিজ্যিক ভাবে চিংড়ী চাষ শুরু হয়। এর পর আস্তে আস্তে লবনাক্ততার কারনে আমনের উৎপাদন হ্রাস পেতে থাকে। এক সময় তা শুন্যের কোঠায় নেমে আসে। এমন অবস্থায় উপজেলার ১০ ইউনিয়নের মধ্যে উজলকুড়, বাইনতলা, গৌরম্ভা (আংশিক,রামপাল সদর ইউনিয়নে, আংশিক) আমনের পরিবর্তে  বোরোর আবাদ শুরু হয়। এইর ধারাবাহিকতায় এ মৌসুমে ৫ হাজার ৩শত ৮০ হেক্টর আমনের আবাদ হয়েছে। 

 এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা মোঃ ইনসাফ ইবনে আমিন বলেন অনাবাদি জমি চাষাবাদের আওতায় আনার জন্য কৃষকদের মধ্য বিনামুলে সার, বীজ, কিটনাশক সহ  বিভিন্ন ধরনের কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে। তা ছাড়া কৃষকরা যাতে জমি অনাবাদি না রেখে কোন  না কোন ফসল ফলায় তার জন্য তাদেরকে আমাদের পক্ষ থেকে সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগীতা দেওয়া হচ্ছে।