/ ভুমিহীনদের মানবেতর জীবন যাপনরামপালে ১৬ বছরেও সংস্কার হয়নি ৬ গরীবের আবাসন।

ভুমিহীনদের মানবেতর জীবন যাপনরামপালে ১৬ বছরেও সংস্কার হয়নি ৬ গরীবের আবাসন।

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফয়লাহাট (রামপাল) বাগেরহাট:
আমাদের যাবার মতো কোনো জাগা নেই। অনেকে বসবাসকত্তিনা পারে চলে গেইছে।বষাকাল যে কিভাবে কাটাইছি তা আল্লাহ জানে। আমাদের দিক সরকার মোটেও তাকায় না। এভাবে আমরা আর বসবাস কত্তিপাত্তিছি না। আমাদের ঘরকয়ডা এট্টুঠিক করে দিলি আমারা থাকতি পাত্তাম।এভাবে আঞ্চলিক ভায়ায় দুর্ভোগের কথাগুলো বলছিল ১৬ বছরেও সংস্কার না হওয়া রামপাল উপজেলার ৬ পুরাতন আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দারা।


রামপাল উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান অধিদপ্তরের একটি সুত্র জানায় বিগত ২০১০ সালে এ উপজেলার গৌরম্ভা, বাঁশতলী, পেড়িখালি, ফয়লাহাট, কাষ্টবাড়িয়া, শ্রীফলতলা, এলাকায় সরকারি ভুমির উপর ৬ টি আবাসন প্রকল্প নির্মান করা হয়। উপজেলা ভুমিহীন যাচাই বাছাই কমিটির সুপারিশ মোতাবেক উপজেলা প্রশাসন ওই সব আবাসনে ৪৮০টি শতাধিক ভুমিহীন পরিবার পুণ র্বাসন করেন।পুণর্বাসনের পর কয়েক বছর তারা নির্বিঘ্নে বসবাস করতে পারলেও আস্তে আস্তে মেরামতের অভাবে আবাসন গুলো জরাজীর্ণ হয়েপড়ে। ভুমিহীনরা মেরমতের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে একাধিক বার দাবী জানালে আশ্বাস দিয়েও করা হয়নি মেরামত। আস্তে আেেস্ত ঘরগুলো একবারেই জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। এখণ বসবাসের নেই কোনো উপায়। এমন অবস্থায় বসবাস করতে না পেরে বেশির ভাগ ভুমিহীন আবাসন ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। আর এখন যারা শত সমস্যা মাথায় নিয়ে আছে তাদের যাবার মতো জায়গা নেই বলে পড়ে আছে।.


এ প্রতিবেদন লেখার আগে এ উপজেলার মুজিবনগর ও গৌরম্ভা পুরাতন আবামস প্রকল্প ঘুরে ভুমিহীণদের সাথে কথা বলে জানা গেছে তারা টানা ১৬ বছর ধরে বসবাস করছে আবাসনের ঘরে। আনুমানিক ২০২০-২১ সালে ঘরগুলো আস্তে আস্তে নষ্ট হতে থাকে। মেরামতের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে দাবী জানালেও তাদের সেই দাবী মানা হয়নি। প্রতিটি আবাসনে ৮টি করে ব্যারাক নির্মান করা হয়। প্রতিটি ব্যারাকে ১০ টিকরে মোট ৮০ ভুমিহীন পরিবারের ঠাই হয়। ব্যারাব গুলো রোহাররড়, সিমেন্ট, বালির সংমিশ্রনে খুটি, লোহার আ্যাংগেলের কাঠামোর উপর টিনে ছাউনি দিয়ে নির্মান করা হয়। প্রতিটি ব্যারকের একে কটি ঘরে একটি করে টয়লেট, একটি রান্না-ঘর ও বারান্দা রয়েছে। এখন কোনো মতে দাড়িয়ে আছে ব্যারাক গুলো।ঘরের ভির থেকে মাথা উচু করে আকাশের দিকে তাকালে আকাশ দেখা যায়। কোনো কোনো পরি বারবৃষ্টির পানি ঠেকাতেটিলের চালার উপর পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিয়েছেন। জোরে বাতাস হলে সেই পলিথিন উড়ে যায়। তখণ ভিতে বৃষ্টির পানিতে সয়লাভ হয়ে যায়।


এক পশলা বৃৃষ্টি হলে রান্না-বান্না বন্ধরা খতে হয়। পায়খানা প্রস্রাব করতে বিপাকে পড়তে হয়। ব্যারাকের প্রতিটি ঘরের বেড়ার টিন মরিচায় খেয়ে নষ্টহয়ে গেছে।মালামাল চুরির ভয়ে বেড়ায় পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। রাত হলে চুরির আতঙ্ক বাড়ে। বৃষ্টি হলেই মেঝে স্যাঁতসেতে হয়ে যায়। ঘরের প্রতিটি খুটির পলে স্তারা খুলে পড়ে এখনই তন-চার রডের উপর ভর করে পুরো অবকাঠামো দাড়িয়েআছে। আকাশে মেঘ জম লেবা সিন্দারের মনেও ভয় জমে। দুর্বল অবকাঠামো ঘরগুলো ঝড়ে যে কোনো সময় ভেঙ্গে পড়তে পারে। এসব আবাসনের ধারে কাছে কোথাও নেই আশ্রায়ন শিবির। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় তারা ঝুকির মধ্যে থাকে। এমনঅবস্থার মধ্যে বছরের পর বছর পার করলেও মেরামতের কোনো উদ্যেগ নেয়া হয়নি। এখন মেরামত অনুপযোগী ঘরগুলোপুন. নির্মান করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।এমন অবস্থায় বাসিন্দারা আর কতদিন বসবাস করতে পারবে তা তারা জানেনা।

মুজিবনগর আবাসনে বসবাস করে স্বামী হারাসালে হা বেগম। তিনি বলেন সারাদিন বাড়ি বাড়ি ভিক্ষা করে আমার পেট চলে। সাসাদিন গ্রামে গ্রামে ঘুরে এসে রাতে ঘুমাতে গেলেজরাজীর্ণ ঘরে আতঙ্কে ঘুমাতে হয়। কখনও ঝড় বৃষ্টি, কখনও রাতে চুরির ভয়ে ঠিকমতো ঘুমাতে পারিনা। বর্ষাকালে আমাদের দুর্ভোগ চরমে ওঠে। তিনি বলেন এমন অবস্থার মধ্যে বসবাস সকরতে না পেরে এ আবাসনের অর্ধেকেরও সাসিন্দা আবাসনের ঘর ছেড়েচলে গেছে।সরকারি ভাবে মেরামত না করলে এখন যারা বসবাস করছে তারাও আবাসন ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে পারেন। আর তারাচলে গেছে বাসস্থান হারা বেকয়েক’শ মানুষ।সামনে শীতকাল শুরু হবে। এবারের শীত মৌমুমের আগে মেরামতে হাত না দিলে আবাসন ছেড়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবেনা। তারা উপজেলা প্রশাসনের কাছে এবারের শুষ্ক সৌসুমে ঘর মেরামতের দাবী করেছে।
এ ব্যপারে রামপাল উপজেলা ত্রান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিপ্তরের কর্মকর্তাজি এমসাইফুল ইসলামের কাছে এ বিষয় জানতে চাইলে তিনি দায় এড়িয়ে বলেন এ বিষয় ইউএনও, এসিল্যান্ড ভালো বলতে পারবেন। এ সংক্রান্ত বিষয় কোনো বরাদ্দ আসলে আমরা কেবল টেকনিক্যাল সাপোর্ট করে থাকি। তবে ওই একই দপ্তরের একজন নাম প্রকাশনা করে বলেন এ বিষয়টি উপজেলা ত্রান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতাভুক্ত।